প্যানিক অ্যাটাক কি? প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ বুঝবেন কিভাবে?

প্যানিক এটাক বর্তমানে খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। কিন্ত আপনি কি জানেন প্যানিক অ্যাটাক কি? প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ কি কি? প্যানিক এটাক কেনো হয়? প্যানিক এটাক হলে কি করনীয়? প্যানিক এটাক সম্পর্কে না জানলেও প্যানিক ডিজঅর্ডার বা প্যানিক এটাক শব্দটি আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। প্যানিক এটাক হলে ব্যাক্তির শারীরিক ক্ষতি না হলেও এটি ভূল সংকেত ও হরমোনের তারতম্য ঘটিয়ে তীব্র ভয়ের সৃষ্টি করে। যখন কোনো ব্যাক্তি প্যানিক এটাকে আক্রান্ত হন, সেই লক্ষণগুলো অন্য আরো অনেক রোগের সাথে মিলে যায়। ফলে অনেকেই ভাবতে শুরু করেন যে তার হার্ট এটাক হচ্ছে কিংবা তিনি মারা যাচ্ছেন। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। প্যানিক এটাক আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্ত যিনি আক্রান্ত হন, তিনি তীব্র শারিরীক অসুস্থতা অনুভব করেন। প্যানিক অ্যাটাক কি আসলেই বিপজ্জনক? চলুন জেনে নেয়া যাক।

প্যানিক অ্যাটাক কি?

মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারে রাসায়নিক পদার্থের ভারসম্যের কারণে বা মানসিক চাপে হঠাৎ প্রচন্ড শরীর খারাপ ও মৃত্যুভীতি দেখা দিলে সেটাই প্যানিক এটাক। যে কারণেই প্যানিক এটাক হোক না কেনো, প্যানিক এটাকে আক্রান্ত ব্যাক্তি ভাবতে থাকেন যে তিনি মারা যাচ্ছেন। তীব্র ভয়ের কারণে তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তিনি তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন, কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়েন।  কিন্ত প্যানিক এটাক হলে কেউ মারা যান না এবং এতে কোনো শারীরিক অসুস্থতা হয় না। এটি শুধুমাত্র মস্তিষ্কে ভুল সংকেত পাঠানোর কারণে হয়। এ সময় উদ্বেগ প্রচুর বেড়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যানিক এটাক মারাত্মক আকার ধারণ করে।

প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ

প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ

প্যানিক এটাক হলে যেসব লক্ষণ সবচেয়ে বেশি দেখা য্য সেগুলো হলো-

  • দ্রুত হৃদস্পন্দন ও তীব্র বুক ধড়ফড় করা।
  • তীব্র শ্বাসকষ্ট ও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা।
  • মাথা ঘোরা ও ঝিমঝিম অনুভূতি।
  • শরীর হাত, পা, ও মাথার স্ক্যাল্প জ্বালাপোড়া।
  • কান ও মাথা থেকে গরম ভাপ বের হওয়া।
  • বুকে ব্যাথা।
  • বমি বমি ভাব।
  • ঝাকুঁনি অনুভব করা ও শরীরে কাপুঁনি হওয়া।
  • নিস্তেজ হয়ে পড়া।
  • শরীর প্রচুর গরম হয়ে যাওয়া বা ঠান্ডা অনুভূত হওয়া।
  • মাথা ব্যাথা।
  • হার্ট এটাক হচ্ছে এমন মনে হওয়া।
  • মৃত্যুভীতি হওয়া বা মারা যাচ্ছেন এমন অনুভূতি হওয়া।

এছাড়াও অবস্থা তীব্র হলে ব্যাক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। কারো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে।

প্যানিক অ্যাটাক কেনো হয়?

  • মারাত্মক ডিপ্রেশন থেকে।
  • তীব্র মানসিক চাপ, টেনশন, বা স্ট্রেস থেকে।
  • দীর্ঘস্থায়ী ধুমপান ও মাদকসেবনের কারণে।
  • হঠাৎ কোনো আঘাত বা তীব্র কষ্ট পেলে।
  • প্রিয়জন হারানোর আঘাতে।
  • অনেক আগে পাওয়া কোনো আঘাত থেকে।
  • মানসিক অবসাদ বা একাকীত্বের কারণে।
  • অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে।
  • জেনেটিক কারণে।
প্যানিক এটাক হলে কি করণীয়

প্যানিক এটাক হলে কি করণীয়?

প্যানিক এটাক হলে অনেকেই ভীত হয়ে কার্ডিয়াক ইউনিটে বা জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। কিন্ত তাদেরকে বুঝাতে হবে যে এটা শুধুমাত্র মানসিক অস্থিরতা থেকে হচ্ছে। প্যানিক এটাক হলে কি করা উচিত? চলুন জেনে নেই।

  • আক্রান্ত ব্যাক্তিকে শান্ত করার চেষ্টা করুন।
  • তাকে হাতে মুখে পানি ছিটিয়ে দিন।
  • তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন যে এটা মারাত্মক কিছু নয়। তার ক্ষতি হবেনা।
  • প্রয়োজনে মাথায় পানি ঢালুন।
  • তাকে বিভিন্ন কাউন্ট করতে বলুন বা অন্য কোনো কিছু বলে মাইন্ড ডাইভার্ট করার চেষ্টা করুন।
  • আক্রান্ত ব্যাক্তিকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে বলুন। প্রথমে নাক দিয়ে বড় শ্বাস নিতে বলুন। তারপর মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ৩-৪ মিনিট ধরে অল্প অল্প করে নিঃশ্বাস ছাড়তে বলুন।
  • অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্যানিক অ্যাটাক কতক্ষণ স্থায়ী হয়?

সাধারণত প্যানিক এটাকের তীব্রতা কম নাকি বেশি সেটা একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। তাই একেকজনের ক্ষেত্রে প্যানিক এটাকের সময়কাল একেক রকম। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৫-২০ মিনিট স্থায়ী হয়ে যায়। ভয়াবহ ভীতি ও উদ্বেগের কারণে ৫-১০ মিনিট স্থায়ী প্যানিক এটাকের রেশ ও পরবর্তী কয়েক ঘন্টা থেকে যায়। তবে প্যানিক এটাক তীব্র হলে সেক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে ঘন্টাখানেকও স্থায়ী হতে পারে।

প্যানিক এটাক কতটা বিপজ্জনক

প্যানিক এটাক কতটা বিপজ্জনক?

প্যানিক এটাক হলে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আতংকিত হয়ে পড়ে। প্যানিক এটাক থেকে কারো ক্ষতি হয় না। তবে প্যানিক এটাক বার বার হতে থাকলে প্যানিক ডিজঅর্ডারে পরিণত হয়। রিসার্চ থেকে জানা যায়, যারা প্যানিক এটাকে আক্রান্ত, তাদের করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। এছাড়াও যারা মানসিক অবসাদ/ডিপ্রেশন এবং প্যানিক এটাক উভয়ে আক্রান্ত হন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি তিনগুণ থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাক এর মাত্রা তীব্র হলে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তাই প্যানিক এটাক যদি অতিরিক্ত মাত্রায় হতে থাকে, অবশ্যই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

প্যানিক অ্যাটাক নিঃসন্দেহে আতংক সৃষ্টি করে। এটা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে ধৈর্য রাখতে হবে। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। প্যানিক এটাক হলে ভয় না পেয়ে সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। নিজেকে বুঝাবেন যে এটা বাস্তবিক অসুস্থতা নয় এবং আপনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। সম্ভব হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।