বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এত কেনো?ঘনিয়ে আসছে নতুন বিপদ?

কেনো বারবার দুর্যোগ এর কবলে পড়ছে বাংলাদেশ? গত কয়েক বছরে কেনো এত দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে? নিশ্চয়ই জানতে চান সেই কারন? চলুন জেনে নেই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনগুলো? কিভাবে কমানো যায় দুর্যোগের ক্ষতির পরিমাণ? গত এক দশকে কোন কোন দুর্যোগ বাংলাদেশে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে? আরো দুর্যোগ এর আশংকা আছে কি? ঘনিয়ে আসছে নতুন কোন বিপদ? দেশজুড়ে চলছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডব। তবে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রয়েছে আরো অনেকগুলো। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হলো- ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, খরা, ইত্যাদি। চলুন জেনে নেই বাংলাদেশে স্মরনীয় কোন কোন দুর্যোগ কবে সংঘটিত হয়েছিলো? কেনো ধেয়ে আসছে এত প্রাকৃতিক দুর্যোগ? দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা সচেতন? দুর্যোগ হলে কি কি করণীয়? আসুন জেনে নেয়া যাক।

কেনো বারবার আঘাত হানছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ?

ইদানীং খুব ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন কিছু নয়, তবে বার বার আঘাত হানছে দুর্যোগ যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। গবেষণা বলছে, বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রেও উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তৈরী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস। যেটা থেকে বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ইত্যাদি হচ্ছে। গাছ কেটে নগরায়নের ফলে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। ফলে ঘন ঘন তৈরী হচ্ছে নানা রকম দুর্যোগ আর পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞদের দাবী সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা না কমলে, আরো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ার আশংকা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

বাংলাদেশে যত দুর্যোগ ঘটছে গত এক দশকে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, কিংবা ভূমিকম্প যেনো বারবার আঘাত হানছে বাংলাদেশে। কেনো এত ঘন ঘন দূর্যোগের কবলে পড়ছে বাংলাদেশ? চলুন একনজরে দেখে নেই গত এক দশকে সবচেয়ে বড় দুর্যোগ কবে কবে সংঘটিত হয়েছিলো!

ঘূর্ণিঝড়

বাংলাদেশে গত এক দশকে ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে। এসব ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানী হয়েছে। রাজধানীতেও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় গাছ ভেঙে যাওয়া, জলাবদ্ধতা, ভারী বৃষ্টিপাত, ইত্যাদি ঘটতে দেখা গেছে। চলুন একনজরে বাংলাদেশে গত এক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো দেখে নেই-

ঘূর্ণিঝড়ের নাম

ঘূর্ণিঝড় যে সালে সংঘটিত হয়েছিলো

সিডর

২০০৭

নার্গিস

২০০৮

আইলা

২০০৯

মহাসেন

২০১৩

রোয়ানু

২০১৬

আম্পান

২০২০

সিত্রাং

২০২২

মোখা/মোচা

২০২৩

রেমাল

২০২৪

বন্যা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যতগুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বন্যা। বন্যার কবলে অনেক মানুষ ও পশুপাখির প্রানহানী ঘটেছে। সেইসাথে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, এবং ২০০৭ সালের বন্যা অন্যতম।

ভূমিকম্প

ভূমিকম্প

বাংলাদেশে ইদানিং প্রচুর ভূমিকম্প হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ইত্যাদি এলাকায় প্রচুর ভূমিকম্প হয়ে থাকে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সেই ভূমিকম্প টের পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বার ভূমিকম্প হতে দেখা দেছে ২০০৯ সালে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে ২৪ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিলো। এছাড়াও ২০০৮ সালে ১৮ বার, ২০১০ সালে ২১ বার, ২০১৫-১৬ সালে ৮ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এছাড়াও ২০২৩ সালে এবং চলতি বছরেও বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। গবেষকরা বলছেন আরো বড় মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ।

খরা

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে তেমন খরা হতে দেখা যায়নি। তবে পূর্বে খরা ও দুর্ভিক্ষ হতো। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে খরা হওয়ার আশংকায় তৎপর রয়েছে আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশে ১৯৭৮, ১৯৭৯, ও ১৯৯৭ সালে ব্যাপক খরা হয়েছিলো।

অন্যান্য

বাংলাদেশে প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে নদীভাঙন, জলোচ্ছাস, ভুমিধ্বস, অধিক তাপমাত্রা, ইত্যাদিও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এতে অনেক মানুষের প্রাণহানী ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা সচেতন

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা সচেতন?

দুর্যোগ হওয়ার আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর পৌঁছে দেয় সতর্ক সংকেত। ব্যবস্থা করা হয় আশ্রয়কেন্দ্রের। এছাড়াও শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হয়। তবে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত হয় না অনেকসময়। এছাড়াও দুর্যোগ আসার আগে ভয়াবহতা বুঝতে না পেরে অনেকেই সময়মতো নিরাপদ জায়গায় যান না। ফলে প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়। এসময় দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি সমাজসেবা সংগঠনগুলোও সাহায্যে এগিয়ে আসে। তবে দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে আরো সচেতন ও সতর্ক করা আবশ্যক। পাশাপাশি গাছ নিধন রোধ ও গাছ রোপন আবশ্যক।

দুর্যোগ হলে কি কি করণীয়ঃ

  • মানুষকে বেশি বেশি সতর্ক ও সচেতন করা।
  • যথাসময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া।
  • শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি, টর্চলাইট, ইত্যাদি মজুদ রাখা।
  • গবাদি-পশু, হাস-মুরগী, কুকুর-বিড়ালকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা।
  • বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা।

 

দুর্যোগ আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই, তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানী কমানো যাবে অনেকটাই। আসুন দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসি, সচেতন হই, সাহসের সাথে প্রতিকুলতা মোকাবেলা করি।