ভ্যালেন্টাইন ডে ভালোবাসার মানুষের জন্য বিশেষ একটি দিন। শখের পুরুষ বা শখের নারীকে ভালোবাসায় সিক্ত করতে ভালবাসা দিবসকে ঘিরে থাকে নানান পরিকল্পনা। ভালোবাসার জন্য বিশেষ দিবসের হয়তো প্রয়োজন হয় না কিন্ত এই দিনটি ভালোবাসা উদযাপনের দিন। এই দিনে শত ব্যাস্ততাকে দূরে সরিয়ে সময় বের করে প্রিয় মানুষটিকে সময় দিয়ে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করে থাকেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। ফুল, চকলেট, টেডি, শাড়ি, পাঞ্জাবী, ঘড়ি এমন বাহারী উপহারে ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসা প্রকাশের এই অনুভূতি পূর্ণতা পায় ভালোবাসা দিবসে। প্রিয় মানুষটিকে স্পেশাল ফিল করাতে চেষ্টার কমতি থাকে না। অলিগলিতে দেখা যায় বাহারী ফুলের দোকান। ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে হৃদয়ের মণিকোঠায় এই দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে ভালোবাসার এই দিনটিই সেরা। যেনো আকাশ বাতাস চিৎকার করে বলে “আজ ভালোবাসার দিন!!” আর তার সাক্ষী হয়ে থাকে প্রকৃতি।
কেনো ভ্যালেন্টাইন ডে কে ভালোবাসা দিবস বলা হয়?
ভালোবাসা দিবস নিয়ে রয়েছে নানা ইতিহাসের গল্প। রোমাঞ্চকর সেই ইতিহাস যুগের পর যুগ চলে আসলেও ভ্যালেন্টাইন ডে নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। সবচেয়ে বেশি প্রচলিত রয়েছে একটি ইতিহাস। তবে আসল ইতিহাস এখনো ঘিরে আছে রহস্যে। কেউ কেউ বলেন, ২৬৯ সালে ইতালিতে রোম নগরীতে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন যার নাম ছিলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার ও নানা অভিযোগে তাকে কারাগারে বন্দী করা হয়। সেই কারাগারের কারাপ্রধানের মেয়ে ছিলো অন্ধ। কারাপ্রধানের সেই অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসা করে সাড়িয়ে তোলেন ভ্যালেন্টাইন। কথিত আছে চিকিৎসা করতে গিয়ে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যান ভ্যালেন্টাইন। অন্ধ মেয়েটিকে সাড়িয়ে তোলার পর ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। তাই রোম সম্রাট ঈর্ষান্বিত হয়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যদন্ড দেন। সেই দিনটি ছিলো ১৪ই ফেব্রুয়ারী। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
কবে থেকে বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস পালিত হয়?
দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক ১৯৯৩ সালে প্রথম ভালোবাসা দিবস পালন করেছিলেন। তিনি লন্ডনে পড়তে গিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির সংস্পর্শে এই দিন সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন। বাংলাদেশে তাকেই ভালোবাসা দিবসের জনক বলা হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন ডে অর্থাৎ ভালোবাসা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ভালোবাসা দিবসে কোন ৫ টি উপহার সবচেয়ে সেরা?
ভালোবাসা দিবস মানেই ভালোবাসার উপহার পাওয়ার দিন। প্রিয় মানুষটিকে সারপ্রাইজ দিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা উন্মুখ হয়ে অপেক্ষায় থাকে এই দিনের জন্য। চলুন জেনে নেই কোন ৫ টি উপহার আপনার সঙ্গীকে উপহার দিলে মোহিত হবে আপনার শখের পুরুষ/নারী।
ফুলঃ
ভালোবাসা দিবসে ফুল ছাড়া উপহার ভাবাই যায় না। শুধুমাত্র ফুল উপহারই প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি ফোটাতে যথেষ্ট। ফুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাধান্য পায় লাল গোলাপ। লাল গোলাপ যেনো ভালোবাসার প্রতীক।
চকলেটঃ
চকলেট খেতে কে না ভালোবাসে? কেমন হয় যদি ভালোবাসার ফুলের তোড়ায় ফুলের সাথে চকলেটও থাকে? এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীর পছন্দের চকলেট বেছে নিন।
চুড়িঃ
প্রেমিক পুরুষেরা তাদের শখের নারীকে সাজিয়ে রাখতে চায় পরীর মতো করে। নারীরাও তাদের শখের পুরুষের হাতে চুড়ি পড়তে ভীষণ ভালোবাসেন।
ঘড়িঃ
আধুনিকতার ছোয়ায় নানা ধরনের ঘড়ি ফ্যাশন সেন্সের পরিচায়ক। প্রেমিক প্রেমিকারা তাই ভালোবাসা দিবসের জন্য উপহার দিতে পারেন চেইন বা বেল্টের ঘড়ি।
পারফিউমঃ
পারফিউম পছন্দ নয় এমন মানুষ খুজে পাওয়াই দায়। ব্র্যান্ডের পারফিউম নিজের কালেকশনে রাখতে পছন্দ করেন অনেকেই। সুন্দর সুবাসে নিজেকে প্রেজেন্টেবল রাখতে তাই ভালোবাসা দিবসে পারফিউম হতে পারে চমৎকার একটি উপহার।
হাজারো ভালোবাসা দিবস ভালোবাসার কাব্যে মুগ্ধ হয়ে কাটুক হাতে হাত রেখে। বেচে থাকুক ভালোবাসা, স্নিগ্ধতায় মোহিত মায়ায় জড়িয়ে থাকুক প্রিয় মানুষটা, এই হোক ভালোবাসা দিবসের নিবেদন, প্রতিশ্রুতি।