ঈদের ছুটিতে ঘোরাঘুরি- ঢাকার কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান

কর্মব্যস্ত শহরে ঈদের ছুটিতে একটু স্বস্তি মিলে। পবিত্র রমজান মাসের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা দিলেই ঈদ। ঈদ মানে খুশি, আনন্দ, উৎসব, পারিবারিক মিলনমেলা। অনেকদিন পর অদেখা বন্ধুদের সাথে দেখা, পরিবারের সাথে ঘোরাঘুরি। ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছাকাছি ভ্রমন স্পটগুলো থেকে। খরচ হবে কম, তবে কিছু সুন্দর মেমোরি ক্রিয়েট করতে পারবেন প্রিয়জনদের সাথে। এছাড়া ভ্রমণ মানুষের মনকে প্রশান্তি দেয়। রোজকার একঘেয়েমি থেকে ভ্রমণ আপনাকে মুক্তি দিবে। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয় ঈদের ছুটি।  ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ ঘুরতে চাচ্ছেন? হাতে সময় কম? অল্প বাজেটের মধ্যে সুন্দর জায়গায় ঘুরতে চাচ্ছেন? ঈদের ছুটিতে ঘোরাঘুরি করার জন্য ঢাকার কাছে দর্শনীয় স্থানের খোঁজ করছেন ? ঢাকা থেকে সকালে যেয়ে সন্ধ্যায় ফেরা যায় এমন ভ্রমণজায়গা খুঁজছেন? আপনার ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতেই আজকে আপনাদের জানাব ঢাকার কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

ঢাকার কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান 

যারা ঈদের ছুটিতে ঢাকা থাকবেন তাঁদের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ ঢাকার কাছাকাছি জায়গাগুলো ঘুরে দেখার। সাপ্তাহিক হলিডেতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কমবেশি ঘোরা হয় সবারই। তাই ঈদের মৌসুমে শহর থেকে বাইরে তবে বেশি দূরে নয় এমন জায়গা বেছে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণ আমাদেরে আত্মিক প্রশান্তি দেয়। মনের মধ্যে গভীর প্রেমের আওয়াজ তুলে।  ভ্রমণ আমাদের বাঁচতে শিখায় নতুনভাবে।

ইদ্রাকপুর কেল্লা

ইদ্রাকপুর কেল্লা 

ইদ্রাকপুর কেল্লা মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য। বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ সালে বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। কালের পরিক্রমায় সেই ইছামতীর গতিপথ পাল্টে গেছে। তবে দুর্গটির এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী এখনও বহমান। সে সময় মগ জলদস্যু ও পর্তুগীজদের আক্রমন হতে এলাকাকে রক্ষা করার জন্য এটি নির্মিত হয়। জনশ্রুতি আছে এ দূর্গের সাথে ঢাকার লালবাগের দূর্গের সুড়ঙ্গপথে যোগাযোগ ছিল। শত্রুদের উদ্দেশ্যে গোলা নিক্ষেপের জন্য দূর্গটির দেয়ালে অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গটির চারকোণায় রয়েছে একটি করে গোলাকার বেষ্টনী। ১৯০৯ সালে এই দূর্গটি পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ইদ্রাকপুর দুর্গ। গুলিস্তান থেকে মুন্সীগঞ্জগামী যেকোন বাসে উঠে জজকোর্টের বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।সেখান থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে ইদ্রাকপুর দুর্গ অবস্থিত। 

সোনারগাঁও পানাম নগর

সোনারগাঁও পানাম নগর

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর পানাম নগর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর – প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। 

১৫ শতকে ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনাগাঁওয়ে। পূর্বে মেঘনা আর পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতি থানকাপড়। দেশ থেকে যেতো মসলিন। শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা। প্রায় ঐসময়ই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য গড়ে উঠে পানাম নগরী।

মহেড়া জমিদার বাড়ি

মহেড়া জমিদার বাড়ি 

টাঙ্গাইলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অনেক জায়গার মধ্যে অন্যতম মহেরা জমিদার বাড়ি। মহেড়া জমিদার বাড়ি আট (৮) একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ঢাকা – টাংগাইল মহাসড়কে নাটিয়াপাড়া বাজার হতে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার পূর্বে মহেড়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এই জমিদার বাড়ির সামনে প্রবেশ পথের আগেই রয়েছে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল এক দীঘি । বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট। এছাড়াও মূল ভবনে পিছনের দিকে পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর নামে আরো দুইটি পুকুর রয়েছে। শোভাবর্ধনে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান। বিশাল তিনটি প্রধান ভবনের সাথে রয়েছে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘিসহ ও আরো তিনটি লজ। প্রতিটি স্থাপনায় রয়েছে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলে মন ও চোখ দুটোই তৃপ্তি পায়।

মৈনট ঘাট

মৈনট ঘাট

অল্প সময়ে ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাটে। এটি দোহার উপজেলায় অবস্থিত । এই চর আপনাকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেবে। এখানকার সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। পদ্মার ইলিশ কিংবা নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা থাকলে মৈনট ঘাটে ঘুরে আসতে পারেন।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

মানিকগঞ্জ জেলায় বালিয়াটি গ্রামে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এই জমিদার বাড়ির বিশাল সব স্থাপনা আপনাকে নিঃসন্দেহে অবাক করবে। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। আপনার ইচ্ছা থাকলে সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন ।মূলত তিনটি ভবন নিয়ে এই বাড়িটি গঠিত। বাড়ি তিনটি তিন তরফ হিসেবে পরিচিত।এখানের সবচেয়ে বড় তরফটি বর্তমানে কলেজ হিসেবে ব্যবহার হয়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

বিস্তৃত শালবনের ভেতর প্রাচীর দিয়ে তৈরি এই পার্ক। ভেতরআছে সরু পিচঢালা সড়ক। দু’দিকে নানা প্রজাতির গাছ দিয়ে বিস্তৃত।থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখেএশিয়ার সর্ববৃহত্তম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাংলাদেশের গাজীপুরে নির্মিত হয়েছে । ২ ইঞ্চি কাচের দেয়াল দিয়ে ঘেরা আছে হিংস্র বন্য পশুদের জায়গা। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে দেখতে পারলেও ভয়ের কোন কারণ নেই। তাছাড়া খুব সুন্দর ব্যবস্থায় তৈরি করা হয়েছে এটি। বিশাল জায়গা নিয়ে পাখিদের রাখা হয়েছে। পাখির খাঁচার কাছে যেতেই আপনার মন আনন্দে ভরে উঠবে। নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি এখানে আছে। কোর সাফারি পার্কে বন্য প্রাণীরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে। পার্কের গাড়িতে চড়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পারেন বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ,জলহস্তী, নীল গাই ইত্যাদি।

নুহাশপল্লী

নুহাশপল্লী

হুমায়ূন আহমেদ-কে সবাই চেনেন। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করেছেন ‘নুহাশ পল্লী’। নুহাশপল্লী গাজীপুরে অবস্থিত একটি বাগানবাড়ী। নুহাশপল্লীতে ঢুকে মাঠ দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলে হাতের বামপাশে শেফালি গাছের ছায়ায় নামাজের ঘর।এরপাশেই পুরনো লিচু বাগানের উত্তর পাশে জাম বাগান আর দক্ষিণে আম বাগান। ওই লিচু বাগানের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

নুহাশ পল্লীর পুরো জায়গাটি সবুজ গাছপালা দিয়ে ঘেরা। দেখলেই মন জুরিয়ে যাবে। এখানে অনেক প্রজাতির এবং অনেক রকমের গাছ রয়েছে।গাছের গায়ে সেটে দেয়া পরিচিতিফলক রয়েছে। আরও রয়েছে সুইমিংপুল আর ছোট্ট পুকুর।হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় অনেক নাটক সিনেমার অন্যতম শুটিংস্পট এটি। যারা হুমায়ূন আহমেদ স্যারের ভক্ত আছেন তারা এই জায়গা ঘুরে যেতে পারেন।