চামড়ার মানিব্যাগ কিনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন? আপনার মানিব্যাগটি আসল চামড়ার মানিব্যাগ নাকি নকল? ছেলেদের কাছে এটি এক নিত্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। পকেটের অবস্থা যাই হোক না কেন, প্রায় প্রতিটি ছেলের পকেটে চামড়ার মানিব্যাগ থাকেই। মানিব্যাগ নিজের ব্যক্তিত্বকেও সমৃদ্ধ করে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চামড়ার মানিব্যাগ পাওয়া যায়। গুলিস্তানের ভ্যান থেকে শপিংমল সবজায়গাতেই মানিব্যাগ কেনার জন্য ভীড় থাকে। তবে অনেকেই জানেন না, আপনার শখের ওয়ালেট কি আসলেই চামড়ার? বেশি টাকা খরচ করে শেষমেশ ঠকতে হয়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক চামড়ার মানিব্যাগ ছেলেদের ফ্যাশনে কতটা প্রভাব ফেলে। কিভাবে বুঝবেন মানিব্যাগটি রেক্সিনের নাকি প্রকৃত চামড়ার? আপনার ওয়ালেট কি আসল চামড়া দিয়ে তৈরী? আসল চামড়ার মানিব্যাগের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত।
চামড়ার মানিব্যাগ ও ছেলেদের ফ্যাশন
টাকা পয়সা অগোছালো ভাবে রাখার চেয়ে গুছিয়ে রাখা ভালো। এতে করে হিসাবে সুবিধে হয়। প্রতিদিনের চলাফেরাতেও ঝক্কি পোহাতে হয় না। ওয়ালেটের ব্যাপারে প্রায় প্রতিটি ছেলেই শৌখিন। সবাই চায় ভালো মানের চামড়ার মানিব্যাগ ব্যবহার করতে। এছাড়া মানিব্যাগে যে শুধু টাকা পয়সা রাখা হয় ব্যাপারটা এমন নয়। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখে। ফ্যাশনসচেতন ছেলেদের কাছে মানিব্যাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আকর্ষণীয় মানিব্যাগ নিজের ব্যক্তিত্বকেও প্রকাশ করে। তবে পকেটের মাপ অনুযায়ী সাইজের দিকে লক্ষ রাখা জরুরী কেননা পকেটের বাইরে ওয়ালেট দেখা গেলে তা দৃষ্টিকটু লাগে। এজন্যই ফরমাল লুকের ক্ষেত্রে লং ওয়ালেট এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। গুণগত মান সম্পন্ন লেদারের ওয়ালেট প্রতিটি ছেলের কাছেই আরাধ্য। নকল পণ্যের ভীড়ে অরিজিনাল চামড়ার মানিব্যাগ খুঁজে পাওয়াটা কষ্টকর।
কিভাবে বুঝবেন মানিব্যাগ চামড়ার নাকি রেক্সিনের?
বাজারে অরিজিনাল লেদারের নামে নকল লেদারের তৈরি মানিব্যাগ বিক্রি হয়। যার অধিকাংশই রেক্সিনের তৈরী। তাই ভালো মানের চামড়ার মানিব্যাগ কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী। আসুন জেনে নিন আসল চমড়া চেনার কয়েকটি পদ্ধতি সম্পর্কে-
১। ভাঁজ পরীক্ষাঃ মানিব্যাগটি নিয়ে একটি অংশ ভাঁজ দিন। খেয়াল রাখুন ভাঁজ খুলে আগের অবস্থায় দ্রুত ফিরে আসে কি না। যদি আগের অবস্থায় ফিরে যায় তাহলে তা সিনথেটিকের তৈরি। আসল চামড়া পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে সময় নেয়।
২। আঙ্গুলের ব্যবহারঃ মানিব্যাগের উপর হাতের আংগুল দিয়ে চাপ দিন। যদি মাকড়সার জালের মত নকশা তৈরী হলে, আসল চামড়া। নকল চামড়াতে এই ধরনের কোনো নকশা তৈরি হয় না।
৩। পানি পরীক্ষাঃ দুই ফোঁটা পানি ওয়ালেটের উপরে ফেলুন। অরিজিনাল লেদারের হলে পানি ফেলা অংশটুকু কিছুটা ফুলে উঠবে।
৪। আগুন পরীক্ষাঃ লাইটার জ্বালিয়ে হালকাভাবে চামড়ার মানিব্যাগের নিচে ধরুন। যদি চামড়াটি কুঁচকে কিংবা পুড়ে যায় তবে এটি আসল নয়। এটি রেক্সিনের তৈরি ।
চামড়ার মানিব্যাগ এর সহজাত কিছু বৈশিষ্ট্যঃ
প্রকৃত চামড়ার কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা দেখে সহজেই চেনা যায়। আসুন জেনে নিই আসল লেদারের ওয়ালেটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
- গন্ধঃ আসল লেদারের গন্ধটা আলদা ধরনের হয়। নকল চামড়াতে ভিনাইল কিংবা রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ থাকে।
- ওজনঃ অরিজিনাল লেদারের ওয়ালেট ওজনে ভারী হয়। নকল চামড়া ওজনে তুলনামূলকভাবে হালকা হয়।
- চামড়ার পৃষ্ঠভাগঃ কৃত্রিম চামড়া খুব চকচকে হয়। কোন ছিদ্র বা সূক্ষ্ম রেখা দেখা যায় না। অরিজিনাল লেদারে ক্ষুদ্র ছিদ্র এবং সূক্ষ্ম রেখা দেখা যায়।
- চামড়ার কাটা পাশ দেখেঃ নকল লেদারের সামনের অংশ চকচকে। পিছনে ফেব্রিক ফিনিশ থাকে। অন্যদিকে অথেনটিক লেদার এর পিছনের অংশও অমসৃণ হয়।
- ফিনিশিংঃ প্রকৃত চামড়ার মানিব্যাগের ফিনিশিং কখনোই মসৃণ হয় না। রেক্সিনের তৈরি হলে ফিনিশিং হয় খুব স্মুথ ।
- উজ্জ্বলতাঃ রেক্সিনের তৈরি ওয়ালেটের প্রতিটি স্থান সমানভাবে উজ্জ্বল হয়। অরিজিনাল লেদার এতটা মসৃণ কিংবা চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল হয় না।