“আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী” , আর এই দর্শনধারী হওয়ার জন্য মুখের ত্বক আর চুলের ভূমিকার কথা সকলেরই জানা। আপনার স্কিন টোন যাই হোক না কেন, ফ্রেশ এবং পরিপাটি থাকাটাই আপনার সৌন্দর্যের পরিচায়ক। চুল হচ্ছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ। একেকটা হেয়ারস্টাইল আপনাকে একেক রকম লুক দেয় যা আপনার সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে। তাই নিজের উপস্থিতিকে সুন্দর করে তুলতে মুখের ত্বক আর চুল দুটোই সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেরই টেনশনে ঠিকমতো ভালো ঘুম হয় না। অনেকে রাত জেগে ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রামে সময় কাটান। এর প্রভাব পড়ে আপনারে ত্বকে ও চুলে। ত্বক ও চুলের বাজে অবস্থায় সবচেয়ে কাজে দেয় ভিটামিন-ই এর ব্যবহার। সকল ফার্মেসীতেই পাওয়া যায় ছোট ছোট সবুজ রঙের এই ভিটামিন ই ক্যাপসুল। ভিটামিন ই একইসাথে ত্বক ও চুলের যত্নে বেশ কার্যকরী। ভিটামিন ই ক্যাপসুলের উপকারিতা সম্বন্ধে জানেন কী? মুখের ত্বকের যত্নে কিভাবে ‘ই’ ক্যাপসুল ব্যবহার করবেন? চুলের যত্নে কিভাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগাতে হবে? বেশি সেবন করলে কী কী সমস্যা হতে পারে? জেনে নিন বিস্তারিত
ভিটামিন ই ক্যাপসুলের উপকারিতাঃ
সৌন্দর্য চর্চার উপাদান হিসেবে ভিটামিন-ই অন্যতম। দোকানে এই ভিটামিনের ক্যাপসুল কিনতে পাওয়া যায়। অনেকেই এটি খেয়ে থাকেন । আবার অনেকে তা রূপচর্চায় ব্যবহার করে থাকেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই-
- ভিটামিন ই ক্যাপসুল রাতের ক্রিমের কাজ করে।
- ই ক্যাপ সারা রাত মুখের ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ত্বক ময়েশ্চার হবে।
- ই ক্যাপ এর ভেতরের তেলটি সিরাম হিসেবে কাজ করে।
- ত্বকের বিভিন্ন বলিরেখা, টান পড়া ত্বকের জন্য এটি অনেক উপকারী।
- দীর্ঘদিনের পুরোনো দাগ দূর করে।
- সানবার্ন থেকে রক্ষা করে।
- রোদে পোড়া থেকে বাঁচায়।
- হাতের কনুই বা হাঁটুর গাঢ় কালো দাগ দূর করতে পারে।
- চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
- ঠোঁটের কালো দাগ দূর করে।
- ঠোঁটে গোলাপী আভা দেয়।
- চুলের গোড়া মজবুত করে।
- নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
- মাথার ত্বকে সংক্রমণ কমায়।
- খুশকির সমস্যা দূর করে।
ত্বকের যত্নে ‘ই’ ক্যাপসুল যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ
১। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় , তবে ‘ই’ ক্যাপসুলে থাকা তেল মুখে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।
২। ত্বক তৈলাক্ত হলে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন গোলাপের পানি।
৩। মুখের ক্রিম বা বডি লোশনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন ‘ই’ ক্যাপসুল।
৪। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে চাইলে খাঁটি বাদাম তেলের সঙ্গে ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল ব্যবহার করুন।
৫। ঠোঁটে গোলাপি আভা পেতে লিপবাম বা ভ্যাসলিনের সঙ্গে একটি ‘ই’ ক্যাপসুল ভেঙে মিশিয়ে নিতে পারেন।
৬। অনেক পুরোনো কাটা দাগ, ব্রণের দাগ বা পক্সের দাগযুক্ত স্থানে প্রতিদিন ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ম্যাসাজ করুন। কয়েক দিনের মধ্যেই দাগ হালকা হতে শুরু করবে।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুলঃ
চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ব্যবহার পরীক্ষিত। চুল পড়া কমাতে ভিতামিন ই ক্যাপসুলের বেশ প্রচলন রয়েছে। সবারই কম বেশি চুল পড়ে, এটি কমন সমস্যা। এটি চুল পড়া কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আসুন এখন আপনার রুক্ষ , দুর্বল চুলের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কিভাবে ব্যবহার করবেন তা জেনে নিই-
১। চুলের যত্নে মাথার স্কাল্পে তেল ম্যাসাজ করতে তিনটি ‘ই’ ক্যাপসুল নিতে পারেন।
২। মাথার স্কাল্প ভালো করে ম্যাসাজের পর নজর দিন চুলে।
৩। চুলে যে নারকেল তেল ব্যবহার করবেন তাতে একটি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল ভেঙে মিশিয়ে নিন।
সতর্কবার্তাঃ
আগেই বলে রাখা ভালো যে, ডাক্তারের পরামর্শ কিংবা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়া ঠিক না। অনেকে চুল পড়া বন্ধ করতে হুটহাট ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেয়ে থাকেন। এতে করে হিতে বিপরীতও হতে পারে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল না খাওয়ার দরুন প্রেশার জটিলতা, মুটিয়ে যাওয়া, হরমোনাল অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। অত্যাধিক পরিমাণে ভিটামিন ই ক্যাপসুল গ্রহণ করলে আমাশয় সহ এলার্জি জনিত রিয়্যাকশন দেখা দিতে পারে।