আধুনিক তরুণ প্রজন্ম নিজেদের রূপচর্চায় অনেক বেশি সচেতন। একটি সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই মুখের ত্বকের যত্নে সবাইকে ভালো মানের ফেসওয়াশ, ফেস মাস্ক, কিংবা ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হয়। নইলে ত্বক তার উজ্জ্বলতা হারায়। আপনার ত্বক হয়ে যায় নিষ্প্রাণ, বিবর্ণ। আমরা অনেকেই মুখের ত্বকের যত্নে ফেসওয়াশ কিংবা হাল আমলের জনপ্রিয় ফেস মাস্ক ব্যবহার করি। কিন্তু আসলেই জানি কী কখন, কোন ত্বকের জন্য, কোন ধরনের ফেস মাস্ক ভালো কাজে দিবে? ফেসওয়াশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরী? ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেস মাস্ক নাকি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন? ফেস মাস্কের উপকারিতা কী? ফেস মাস্ক নিয়মিত ব্যবহার করা যাবে কিনা? আসুন জেনে নিই ফেস মাস্ক ও ফেসওয়াশ সম্পর্কে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বড়াতে ফেস মাস্ক নাকি ফেসওয়াশঃ
ফেস মাস্ক এবং ফেসওয়াশ দুটোই ব্যবহার করা হয় হয় মুখের ত্বক থেকে ধুলো বালি, তেল, ময়লা অপসারন করতে। ফেসওয়াশ প্রতিদিন ব্যবহার করা গেলেও ফেসমাস্ক নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়। ফেস মাস্ক সপ্তাহান্তরে ব্যবহার করা ভালো। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন ফেসমাস্ক লাগাতে হবে। এতে আপনার ত্বক হবে আরো উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালমানের ফেসওয়াশ এবং ফেস মাস্ক বেছে নিতে হবে।
ফেস মাস্ক কী এবং ফেস মাস্কের ধরনঃ
সারা সপ্তাহ নানাকাজে ব্যস্ত থাকার পরে ছুটির দিনে ত্বকের আলাদা যত্ন নেওয়া দরকার। ত্বকে আটকে থাকা ধুলো বালি, ময়লা দূর করতে শর্টকাট ওয়ে হচ্ছে ফেস মাস্ক। বর্তমানের তরুণ-তরুণীদের কাছে ফেসমাস্ক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেননা এতে ঝামেলা কম, সময় বাঁচে। ফেস মাস্ক অনেক ধরনের হয়। ত্বকের সমস্যার উপর ভিত্তি করে উপযোগী ফেস মাস্ক নির্বাচন করা উচিত। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফেসমাস্ক পাওয়া যায়। যেমন-
পিল-অফ মাস্ক
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পিল-অফ মাস্ক উপযোগী। পিল- অফ মাস্ক জেলের মতো ।এটি মুখে লাগালে শুকিয়ে যায়। পরে টেনে তুলতে হয়। এটি মুখের মৃত কোষ ও ধূলোময়লা দূর করে। এই মাস্ক ব্রণের সমস্যাতেও কার্যকরী।
স্লিপ মাস্ক
পিল-অফ মাস্কের ঠিক বিপরীত হচ্ছে স্লিপ মাস্ক। একে ওভারনাইট মাস্কও বলা হয়। এই মাস্ক মুখে লাগিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়। স্লিপ মাস্ক শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে দেয়।
বাবল মাস্ক
বর্তমানে বাবল মাস্ক অনেক জনপ্রিয়। এই মাস্কটি মুখে লাগানোর পরেই সাবানের ফেনার মতো ফুলে উঠে। ত্বকের রোমছিদ্রগুলো ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। ত্বকে পুষ্টির জোগান দেয়। আপনার ত্বক যদি প্রানহীন, বিবর্ণ দেখায়, রোমছিদ্র বন্ধ থাকে, তাহলে বেছে নিন বাবল মাস্ক।
শিট মাস্ক
চটজলদি ত্বকে লাবণ্য আনতে শিট মাস্ক ভালো কাজ করে। এটি দেখতে পাতলা তুলোর কাপড়ের মতো। এতে বিদ্যমান সিরাম যা ত্বকে অ্যান্টি-অক্সিডান্টের জোগান দেয়। এটি ত্বকে দ্রুত আর্দ্রতার যোগান দেয়।
চারকোল মাস্ক
এই মাস্কটি চারকোল সমৃদ্ধ। মূলত ওয়েলি স্কিনে এটি ভালো কাজ করে। মুখের টি জোনে (কপাল আর নাকের সংযোগস্থল) জমে থাকা প্রচুর পরিমাণ তেল-ময়লা, পোরসগুলো বন্ধ করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে চারকোল মাস্ক ব্যবহার করা যায়।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেস মাস্ক নির্বাচন করবেন যেভাবেঃ
হাইড্রেটিং ক্রিম বা শিট মাস্ক শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী।
ক্লে মাস্ক, তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য ভালো কাজে দেয়।
ব্রণপ্রবণ ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য জেল ও বাবল মাস্ক ব্যবহার করুন।
হাইপারপিগমেন্টযুক্ত ত্বকের জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্রিম বা জেল মাস্ক।
ফেস মাস্কের উপকারিতাঃ
ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ।
আটকে থাকা ছিদ্র খুলতেও সাহায্য করে।
এনজাইম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।
ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে।
স্কিন মসৃণ করে ও ভাঁজ কমায়।
ত্বককে করে সজীব ও সতেজ।
ক্লান্তির ছাপ দূর করে।
ফেস মাস্ক ব্যবহারের সময় কোন ভুলগুলি ভুলেও করবেন নাঃ
ফেসমাস্ক বাছাইয়ের সময় ত্বকের ধরন বিবেচনায় রাখতে হবে।
ফেসমাস্ক ব্যবহারের প্রথম শর্ত মুখ পরিষ্কার থাকতে হবে।
ফেস মাস্ক লাগানোর আগে একটি ভালো ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে।
কখনও নোংরা হাতে ফেসমাস্ক ব্যবহার করবেন না।
একসঙ্গে একাধিক ফেসমাস্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন।
ভুল মাপের ফেসমাস্ক ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে কেটে নিজের মুখের মাপে করে নিতে হবে।
ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
ব্যবহার করার সময় ঠোঁট, চোখ এবং ভ্রু এড়িয়ে চলুন।
মাস্ক লাগানোর পরে ২০ মিনিটের বেশি রাখা উচিত নয়।
জোরে ঘষাঘষি করবেন না।
আলতোভাবে আঙুলের ব্যবহারে, সাধারণ পানি দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।
সময় উপযোগী কিছু ভালো মানের ফেস মাস্কঃ
ত্বকের পরিচর্যায় ফেসমাস্ক খুবই আধুনিক সংস্করণ। অনেকেই ভালোমানের ফেস মাস্ক সম্বন্ধে জানেন না। কিংবা ফেসমাস্ক যাঁদের কাছে একেবারেই নতুন তাদের সুবিধার্থে কয়েকতি ভালমানের ফেসমাস্ক একনজরে দেখে নিই-
মুখের ত্বকের যত্নে ফেসওয়াশ খুবই জনপ্রিয় । ফেসওয়াশ এক ধরনের তরল সাবান, তবে এটি ক্ষারীয় নয় যা মুখ পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়। । ফেসওয়াশ জেল, ক্রিম, কিংবা ফোম ফমূর্লায় পাওয়া যায়।
গুরুত্বঃ
ফেসওয়াশ ত্বকে জমে থাকা ধূলো বালি দূর করে।
ত্বকের ছিদ্র গুলোতে লুকিয়ে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে।
ত্বক জীবাণু মুক্ত করে।
ত্বককে মৃসণ ও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে।
ব্রণের প্রবণতা কমায়।
ফেসওয়াশ এর সঠিক ব্যবহারঃ
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্রয়োজন তেলবিহীন ফেসওয়াশ। অপরপক্ষে শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ফেসওয়াশ।
ব্যবহারের আগে মুখ ভাল করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেস ওয়াশ ধুয়ে ফেলবেন না। অন্তত মিনিট দুয়েক ফেসওয়াশ মুখে রাখুন ।
মুখ মুছার ক্ষেত্রে নরম ও মোলায়েম তোয়ালে ব্যবহার করুন।
ফেস ওয়াশ ব্যবহারের পর ময়শ্চারাইজার কিন্তু ব্যবহার করতেই হবে।
আসুন এখন দেখে নিই কয়েকটি ভালোমানের ফেসওয়াশ যা আপনার ত্বককে করবে উজ্জ্বল-