বমির ওষুধ খেলে কি মোশন সিকনেস বা গাড়িতে বমি বমিভাব দূর হবে?

যাত্রাপথে বমি? বমির ভয়ে দূরে কোথাও জার্নি করতে পারেন না? ঈদে সবারই থাকে গ্রামে ফেরার তাড়না। তবে রউনা দেয়ার পর বমি হলে শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে। বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রেন, লঞ্চ, কিংবা প্লেনে চড়লে অনেকেরই বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো, কিংবা বমি হয়ে থাকে। যাত্রাপথে বমি এড়াতে অনেকেই তাই বমির ওষুধ খেয়ে রউনা দেন। কিন্ত আদৌ এই বমির ওষুধ কি গাড়িতে বমি হওয়া ঠেকাতে পারে? মোশন সিকনেস কি? মোশন সিকনেস কেনো হয়? কাদের হয় মোশন সিকনেস? বমির ওষুধ খেলে কি কোনো ক্ষতি হয়? যাত্রাপথে বমি মোশন সিকনেস, অতিরিক্ত এসিডিটি, অসুস্থতা ইত্যাদি নানা কারণে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মোশন সিকনেসের কারণেই যানবাহনে বমি হয়ে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে দূর যাত্রাপথে ৫-৭ বার বমি হয়। সেজন্য তারা ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয় এবং ভয়ে অনেকে দূরে কোথাও যান না। তবে কিছু টিপস মেনে চললে মোশন সিকনেস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মোশন সিকনেস কি?

মোশন সিকনেস মানে হচ্ছে গতিজনিত অসুস্থতা। যাত্রাপথে বিভিন্ন যানবাহনে বিশেষত বাসে, প্রাইভেট কারে, মাইক্রোবাসে, লঞ্চে মোশন সিকনেস হয়ে থাকে অনেকেরই। সাময়িক অসুস্থতা হলেও মোশন সিকনেস এর কারণে ভ্রমণের সৌন্দর্য কিংবা ঘুরতে যাওয়ার আনন্দই মাটি হয়ে যায়। মোশন সিকনেস হলে বমি হওয়া, গা গুলানো, বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো, মাথা ব্যাথা, ক্লান্তি, ইত্যাদি হয়ে থাকে।

মোশন সিকনেস কেনো হয়

মোশন সিকনেস কেনো হয়?

মোশন সিকনেস এই শব্দটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত থাকলেও অনেকেই জানিনা কেনো হয় মোশন সিকনেস! সাধারণত আমরা যখন গাড়িতে উঠি তখন আমাদের মস্তিস্ক ধরে নেয় আমরা স্থির অবস্থায় আছি। গাড়িতে বসে থাকার কারণে অন্তকর্ণ মস্তিস্কের কাছে সংকেত পাঠায় স্থির থাকার। অপরদিকে গাড়ির ঝাকুনি বা চারপাশে তাকানোর কারণে চোখ মস্তিস্কে গতিশীলতার সংকেত পাঠায়। এই দুই ধরনের মিশ্র সংকেতের প্রভাবে মোশন সিকনেস হয়ে থাকে। গাড়ির উল্টোদিকে বা পেছনের দিকের সিটে বসলে কিংবা চাকার কাছাকাছি সিটে বসলে মোশন সিকনেস বেশি হয়ে থাকে।

বমির ওষুধ খেলে কি মোশন সিকনেস দূর হয়?

বমির ওষুধ সবসময় মোশন সিকনেস ঠেকাতে পারে না। অনেকেই গাড়িতে উঠে বমির ওষুধ খান ফলে সেই ওষুধ কাজ করার আগে বমি হয়ে যায়। যাত্রাপথে বমির ওষুধ খেতে হলে রউনা দেয়ার কমপক্ষে ২-৩ ঘন্টা আগে বমির ওষুধ খেতে হবে। বাজারে জয়ট্রিপ, ডমপেরিডন, ওমিডম, ইত্যাদি বমির ওষুধ পাওয়া যায়। তবে এসব ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

গাড়িতে বমি বমি ভাব বা মোশন সিকনেস দূর করার উপায়

গাড়িতে বমি বমি ভাব বা মোশন সিকনেস দূর করার উপায়ঃ

  • মাথা ঠান্ডা করার ওষুধ খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।
  • যাত্রাপথে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
  • আদা, লেবু, লেবুর পাতা, দারুচিনি, এলাচ ইত্যাদি সাথে রাখতে পারেন।
  • সম্ভব হলে গাড়ির জানালা খুলে রাখুন। এতে হাওয়া বাতাস প্রবেশ করতে পারবে।
  • বমির কথা ভাববেন না, এতে বমি ট্রিগার হতে পারে। অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা করুন।
  • গাড়ি চলাকালীন মোবাইলে গেমস খেলা বা মুভি দেখার চেষ্টা করবেন না।
  • সাথে পলিথিন রাখুন।
  • কখনোই খালি পেটে রউনা দিবেন না। এতে এসিডিটি বেড়ে গিয়ে বমি হতে পারে।
  • বেশি সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।