মেছতা দূর করার উপায় কি?ঘরে বসেই ৩ উপায়ে দূর করুন মেছতা

৩০ পেরোতেই মুখে মেছতা আর বাদামী ছোপ ছোপ দাগ? মুখকে বলা হয় সৌন্দর্যের রাজধানী। তাই মুখে যেকোনো দাগ রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। মেছতা দূর করতে নানান প্রসাধনী ব্যবহার করেও সুফল মেলে না। ফলে হতাশায় ভুগতে থাকে অনেকেই। মেছতা একদিনে দূর হয়ে যাবে এমন ভাবনা মোটেও যৌক্তিক নয়। আবার অনেকক্ষেত্রে মেছতার দাগ বারবার ফিরে আসে। ত্বকের এসব বাদামী ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে অনেকেই লেজার ট্রিটমেন্ট নিয়ে থাকেন। তবে লেজার ট্রিটমেন্ট অনেক ব্যায়বহুল হওয়ায় অনেকের ক্ষেত্রেই তা ধরা ছোয়ার বাইরে। তাছাড়াও ত্বকে লেজার প্রয়োগ করলে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ঘরে বসেই মেছতা দূর করা সম্ভব। মাত্র ৩ টি উপায়ে আপনি ঘরে বসেই মেছতা ও অন্যান্য দাগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। চলুন জেনে নেই মেছতা কেনো হয় এবং মেছতা দূর করার উপায় কি কি!

মেছতা কেনো হয়

মেছতা কেনো হয়?

মেছতাকে মেলাজমা বা হাইপারপিগমেন্টেশন ও বলা হয়ে থাকে। মেছতা মুলত ত্বকের পিগমেন্টেশনের কারণে হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তাদের জেনেটিক্যালি মেছতা হতে পারে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সূর্যের রশ্মির প্রভাবে বাদামী ছোপ ছোপ দাগ বা মেছতা দেখা দেয়। ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে মেলানোসাইট গ্রন্থি থেকে মেলানিন উৎপন্ন হয়। সূর্যের ইউভি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাবে ত্বকের কিছু কিছু কোষ ট্রিগার হয়ে সেসব কোষে মেলানিন অধিক উৎপন্ন হয়। ফলে মেছতা অর্থাৎ বাদামী ছোপ ছোপ দাগ সৃষ্টি হয়। সাধারণত ৩০ বছরের পর থেকে ত্বকে মেছতা হতে দেখা যায়। মেছতা মেয়েদের ত্বকেই বেশি হয়ে থাকে তবে কোনো কোনো ছেলেদের ত্বকেও মেছতা হয়ে থাকে।

ঘরে বসে মেছতা দূর করার ৩ টি সহজ উপায়

ঘরে বসেই মাত্র সহজ ৩ টি উপায়ে মেছতা দূর করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত ত্বকের কিছু পরিচর্যা করতে হবে। মনে রাখবেন মেছতার দাগ দূর করতে ধীরে ধীরে মেছতার দাগ হালকা করতে হবে। চলুন জেনে নেই কোন তিনটি কার্যকরী উপায়ে মেছতা দূর হবে সহজেই।

দশজনের প্রায় চারজন চুল পড়ার সমস্যায় জর্জরিত। ছেলেদের জন্য চুল পড়া রোধ করা এক চ্যালেঞ্জ। তবে কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী, তাই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য চুলের যত্ন নিতে হবে। নইলে কিছুদিন পরপর ভিন্ন ভিন্ন হেয়ারস্টাইল করা যাবে না। এখন জেনে নিই, চুল পড়া রোধ করতে কী করণীয়-

আলু ও মুলতানি মাটির প্যাক
  • আলু ও মুলতানি মাটির প্যাকঃ

মেছতা দূর করার ক্ষেত্রে আলু সবচেয়ে ভালো কাজ করে। আলু কাটার সময় আলুর খোসাগুলো আলাদা করে রেখে দিন। এই খোসাগুলো মুখে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে নিন। তবে আলুর খোসার চেয়ে আলু কুচি বা আলুর ব্লেন্ড করা মিশ্রণ লাগানো ভালো। এরপর মুলতানি মাটির প্যাক লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যবহার করুন। আপনার ত্বক শুষ্ক হলে মুলতানি মাটির সাথে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেল, অলিভ অয়েল, ও আমন্ড অয়েলের মিশ্রণ
  • অ্যালোভেরা জেল, অলিভ অয়েল, ও আমন্ড অয়েলের মিশ্রণঃ

মেছতা দূর করতে প্রতি রাতে এই মিশ্রণ লাগাতে হবে। অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল মিশিয়েও লাগাতে পারেন যদি আমন্ড অয়েল না থাকে। তবে এই তিনটি উপাদানই মেছতার দাগ দূর করতে কার্যকরী। রাতে ঘুমানোর আগে লাগিয়ে একঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে সারারাত রাখলে কার্যকারীতা বেশি পাওয়া যায়। জনপ্রিয় কিছু অথেনটিক অ্যালোভেরা জেল, অলিভ অয়েল, ও আমন্ড অয়েল চলুন দেখে নেইঃ

গোলাপজল, টকদই, ও লেবুর রস
  • গোলাপজল, টকদই, ও লেবুর রসঃ

গোলাপজল, টকদই, ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মেছতার জায়গাগুলোতে লেবুর টুকরা ঘষে নিন ২-৩ মিনিট। এরপর ৩-৪ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর সম্ভব হলে নায়াসিনামাইড সিরাম লাগিয়ে নিন। নায়াসিনামাইড সিরাম দাগ দূর করতে ভালো কাজ করে। কার্যকরী ও ভালোমানের কিছু গোলাপজল ও নায়াসিনামাইড সিরাম হলোঃ

মেছতা দূর করতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেয়া আবশ্যক। এই ৩টি উপায়ে ত্বকের যত্ন নিলে মেছতা ধীরে ধীরে হালকা হয়ে একেবারেই চলে যাবে। মেছতা তৈরী হওয়ার পেছনে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি দায়ী। তাই মুখে মেছতা থাকলে সূর্যের তাপে কম থাকার চেষ্টা করুন এবং বাইরে যাওয়ার ২০-৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন বা সানব্লক ব্যবহার করুন। ভালো থাকুক আপনার ত্বক মেছতা ও দাগমুক্ত উজ্জ্বলতায়।