রোজায় চুলের যত্ন নিচ্ছেন তো?এড়িয়ে চলুন এই ৫ ভুল

রোজায় চুলের যত্ন নিচ্ছেন তো? সারাদিন রোজা রেখে চুলের যত্ন নেয়ার সময় পাচ্ছেন না? রোজা রেখে পানিশূন্যতায় চুল নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে? রোজায় পানিশূন্যতা হওয়া খুবই স্বাভাবিক, যার প্রভাব পড়ে আপনার চুলেও। রোজা রেখে ইফতার তৈরীর প্রস্তুতি, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, আর ইফতার শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়া শরীর নিয়ে চুলের যত্ন নেয়ার সময় কই!! কিন্ত আপনার এই ভুলে হতে পারে চুলের সর্বনাশ। পানিশূন্যতা হয় বলে রোজায় চুলের বিশেষ যত্ন নেয়া জরুরী। এছাড়াও রোজা রেখে চুলে তেল বা চুলের মাস্ক ব্যবহারে রোজার ক্ষতি হতে পারে এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে অনেকেরই। কিন্ত রোজা রেখে চুলে তেল দিলে কিংবা চুলের মাস্ক লাগালে তাতে রোজা ভেঙে যায় না। সেইসাথে ইফতার প্রস্তুতির সময় স্ক্যাল্প ঘেমে যায়। অনেকেই এ কারণে ইফতারের পর চুলে শ্যাম্পু করে থাকেন। কিন্ত রোজ শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল আরো নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। ক্লান্ত শরীর নিয়ে চুলের যত্নে অনিহা দেখায় অনেকেই। এছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে চুলে রঙ কিংবা রিবন্ডিং করান অনেকেই।

রোজায় চুলের যত্ন নেয়ার সঠিক উপায়ঃ

  • ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮-১২ গ্লাস পানি পান করুন।
  • সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু করুন।
  • শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবেন।
  • সপ্তাহে একদিন ডিম, মেথি, ইত্যাদি দিয়ে ঘরোয়া হেয়ার প্যাক লাগান।
  • চুলের যত্নে কেরাটিন সমৃদ্ধ চুলের মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • চুল প্রাকৃতিক উপায়ে শুকাবেন।
  • জট ছাড়ানোর ক্ষেত্রে চুলের নিচের দিক অর্থাৎ চুলের আগার দিক থেকে জট ছাড়ানো শুরু করুন।
  • চুলের সিরাম ব্যবহার করুন।
  • সপ্তাহে ১-২ দিন স্ক্যাল্প এবং চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত তেল লাগিয়ে নিন।
  • চুলে তেল ৪০মিনিট-১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • মেহেদির সাথে তেল, ডিম, কিংবা মেথি গুড়া মিশিয়ে লাগাতে পারেন।
  • রোদে বের হলে অবশ্যই চুলে স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখুন।

রোজার মাসে চুলের যত্ন নিতে যে ৫ ভুল এড়িয়ে চলবেনঃ

চুল শক্ত করে বাধবেন না
  • চুল শক্ত করে বাধবেন না

ইফতার কিংবা সেহরীর খাবার তৈরী করতে গিয়ে কিংবা ঘুমানোর সময় চুল শক্ত করে বাধা অনেকেরই অভ্যাস। কিন্ত শক্ত করে বাধলে বা প্রতিদিন একই উপায়ে বেনি করলে চুল ভেঙে যায়। তাই চুল বেশি শক্ত করে বাধবেন না।

ভেজা চুল আচড়ানো যাবে না
  • ভেজা চুল আচড়ানো যাবে না

রোজায় তাড়াহুড়া করে অনেকেই ভেজা চুল আচড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্ত ভেজা চুল আচড়ালে চুলের গোড়া নরম থাকায় অনেক চুল উঠে আসে যা চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এছাড়াও অনেকেই তাড়াহুড়া করে গোসল করে ভেজা চুল বেধে রান্না করতে যায়। ভেজা চুল বাধলে চুল ভেঙে যেতে পারে।

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
  • হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

রোজায় পানিশূন্যতার কারণে চুল নিষ্প্রাণ ও নির্জীব হয়ে পড়ে। অনেকেই রান্নার তাড়াহুড়ায় হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকায়। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুলে হিট দিয়ে শুকাতে হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত চুল শুকিয়ে গেলেও চুলের প্রানশক্তি হারিয়ে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। তাই চুল প্রাকৃতিক উপায়ে শুকানো উচিত।

চুলের ক্ষতিকর রঙ থেকে বিরত থাকুন
  • চুলের ক্ষতিকর রঙ থেকে বিরত থাকুন

অনেকেই ঈদকে সামনে রেখে লুক এ ভিন্নতা আনতে চুলে রঙ করে থাকেন। এক্ষেত্রে হালকা রঙ আনতে গেলে চুলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। কালো বা গাঢ় বাদামী চুলে যদি কেউ ব্লন্ড বা গোল্ডেন রঙ করতে যায় সেক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় ব্লিচ ব্যবহারে চুলের ক্ষতি হয়। তাই চুলের রঙ না করাই ভালো। যদি একান্তই চুলে রঙ করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার চুলের আসল রঙের কাছাকাছি কোনো রঙ বেছে নিতে হবে।

তৈলাক্ত চুলে কন্ডিশনার লাগাবেন না
  • তৈলাক্ত চুলে কন্ডিশনার লাগাবেন না

অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা যে চুলে রোজ কন্ডিশনার লাগালে চুল সিল্কি হবে বা ভালো থাকবে। এমন ধারণা একদমই ভুল। চুলের যত্ন নিতে প্রতিদিন কন্ডিশনার লাগানোর প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ৩-৪ দিন কন্ডিশনার লাগানোই যথেষ্ট। বিশেষত তৈলাক্ত চুলে কখনোই কন্ডিশনার লাগাবেন না। শ্যাম্পু করে তারপর কন্ডিশনার লাগাবেন না। 

শুধু রমজান মাসে নয় বরং চুলের যত্ন নিতে হবে সারাবছরই। যেমন যত্ন নিবেন চুলের বাহ্যিক অবস্থাও ঠিক সেরকমই থাকবে। চুলের ক্ষতি করে এমন জিনিস থেকে যতটা বিরত থাকা যায় ততই ভালো। বিশেষ করে স্ট্রেইটনিং, কার্লিং, বা স্প্রে করে চুলের স্টাইল করা যেনো নিয়মিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রানবন্ত থাকুক আপনার চুল যত্ন আর সতেজতায়।