সানস্ক্রিন নাকি সানব্লক? কোনটি অধিক কার্যকরী? শীত শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেছে প্রখর রোদের দহন। সূর্যের তাপ যেনো পুড়িয়ে দিচ্ছে ত্বক আর ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সানস্ক্রিন/সানব্লক না হলে চলে? কোন ধরনের ত্বকে কোন ধরনের সানস্ক্রিন/সানব্লক লাগাবেন? এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর মতামতের শেষ নেই। অনেকেরই ধারণা সানস্ক্রিন আর সানব্লক একই জিনিস এবং এরা একইভাবে কাজ করে। কিন্ত সানস্ক্রিন আর সানব্লকের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কতটুকু সুরক্ষা দিয়ে পারবে সানস্ক্রিন বা সানব্লক সেই অনুযায়ী এসপিএফ(সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর) ও পিএ প্লাস সংখ্যা দেয়া থাকে। এছাড়াও সানস্ক্রিন কিংবা সানব্লক শুধুই ক্রিম আকারে পাওয়া যায় এই ধারণাও ভুল। সূর্যরশ্মি প্রতিরোধের জন্য উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরী এসপিএফ সমৃদ্ধ ক্রিমের পাশাপাশি সান প্রোটেকটিভ লোশন, পাউডার, স্প্রে, স্টিক ইত্যাদি পাওয়া যায়। সানবার্ন থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য বাইরে বের হওয়ার আগে এবং ঘরের ভেতরেও ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সানস্ক্রিন বা সানব্লক লাগাতে হবে।
সানস্ক্রিন নাকি সানব্লক? কোনটি অধিক কার্যকরী?
সানস্ক্রিন এবং সানব্লক উভয়ই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। সানস্ক্রিন এবং সানব্লকের কাজ করার ধরন ভিন্ন। সানস্ক্রিন ত্বকের ওপর একটি প্রলেপ তৈরী করে যা সূর্যরশ্মিকে ত্বকের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। অপরদিকে সানব্লক সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিকে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয় ফলে সূর্যরশ্মি ত্বকে ঢুকতে পারে না। সানস্ক্রিন এবং সানব্লক উভয়ই কার্যকরী। তবে তুলনামূলক ভাবে সানব্লক সানস্ক্রিনের চেয়ে বেশি কার্যকরী।
কোন ত্বকের জন্য কোন ধরনের সানস্ক্রিন/ সানব্লক ভালো?
ত্বকের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সানস্কিন বা সানব্লক কেনা উচিত। কেননা সব ধরনের ত্বকে সব ধরনের সানস্ক্রিন বা সানব্লক প্রযোজ্য নয়। চলুন জেনে নেই কোন ত্বকের জন্য কোন ধরনের সানস্কিন বা সানব্লক ভালোঃ
স্বাভাবিক ত্বকঃ
স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে যেকোনো সানস্ক্রিন বা সানব্লকই ভালো কাজ করে। ঘরের ভেতরে থাকলে এসপিএফ ১৫ বা ২০ এবং ঘরের বাইরে বের হলে এসপিএফ ৩০ বা ৫০ যুক্ত পণ্য বেছে নিতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বকঃ
তৈলাক্ত ত্বকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সিবাম উৎপন্ন হয় তাই তেলতেলে ভাব বেশি থাকে। এ ধরনের ত্বকে ক্রিম বা লোশন টেক্সচারের পণ্য লাগানো উচিত না। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেজড, ম্যাটিফাইং, এবং হায়ালুরণিক এসিড আছে এমন ধরনের সানস্ক্রিন বা সানব্লক কেনা উচিত। তৈলাক্ত ত্বকে সান-প্রোটেকটিভ পাউডার ভালো কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বকের কিছু জনপ্রিয় সানস্ক্রিন/সানব্লক হলোঃ
শুষ্ক ত্বকঃ
শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম টেক্সচারের এবং ময়শ্চারাইজার আছে এমন ধরনের সানস্ক্রিন বা সানব্লক ব্যবহার করতে হবে। এক্ষত্রে আপনি সান-প্রোটেকটিভ লোশন ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালোমানের কিছু সানস্ক্রিন/সানব্লক হলোঃ
মিশ্র ত্বকঃ
মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে জেল-বেজড ও হাইড্রেটিং সানস্ক্রিন বা সানব্লক কেনা উচিত। এ ধরনের ত্বকে কিছু কিছু জায়গায় তেল নিঃসরণ হয় তাই মিশ্র ত্বকে ক্রিমজাতীয় পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। মিশ্র ত্বকের জন্য ভালো কিছু সানস্ক্রিন/সানব্লক হলোঃ
সংবেদনশীল ত্বকঃ
সংবেদনশীল ত্বকে হাইড্রেটিং ও সংবেদনশীলতার জন্য বিশেষভাবে প্রস্ততকৃত সানস্ক্রিন বা সানব্লক কেনা উচিত। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে প্যাচ টেস্ট করে নেয়া ভালো। এছাড়াও উপাদানগুলো ভালোভাবে দেখে নেয়া উচিত।
সানস্ক্রিন বা সানব্লক লাগানোর সঠিক নিয়মঃ
- প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
- মুখ ভালোভাবে মুছে সানব্লক লাগিয়ে নিন।
- এরপর ত্বক অনুযায়ী একটি উন্নতমানের ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
- ঘেমে গেলে বা পানিতে মুখ ধুয়ে নিলে, পুণরায় মুখ পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন বা সানব্লক লাগিয়ে নিন।
- মুখের পাশাপাশি ঘাড়, গলা, হাত ও পায়ের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন/সানব্লক লাগিয়ে নিন।
- মেঘলা দিনে বা ঘর থেকে বের না হলেও এই পণ্য লাগাতে হবে।
- বাইরে বের হওয়ার কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন/সানব্লক লাগিয়ে নিন।
সানস্ক্রিন বা সানব্লক না লাগালে কি কি ক্ষতি হতে পারে?
- কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়।
- ত্বক কুচকে যায় ও বলিরেখা দেখা দেয়।
- বয়সের ছাপ দেখা যায়।
- কালো দাগ বা পিগমেন্টেশন হতে পারে।
- সানবার্ন বা ত্বক পুড়ে কালচে বা তামাটে বর্ণ ধারণ করে।
- ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
সানস্ক্রিন বা সানব্লক ত্বককে কালচেভাব ও পুড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিয়ে ত্বককে সতেজ ও সুন্দর রাখে। ঘরে থাকুন কিংবা বাইরে, সূর্যরশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন বা সানব্লক লাগাতে মোটেও ভুলবেন না।