মেঘলা দিনে সানস্ক্রিন ছাড়াই বের হচ্ছেন? আকাশ কালো মেঘে ঢেকে থাকলে ত্বকের ক্ষতি হবে না ভাবছেন? এখন প্রশ্ন হচ্ছে মেঘলা দিনে কেনো সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা জরুরী? কোন ধরনের সানস্ক্রিন ক্রিম মেঘলা দিনের জন্য উপযুক্ত? সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম কি? আমরা অনেকেই ভাবি ঘর থেকে বের না হলে, গাড়িতে যাতায়াত করলে, কিংবা মেঘলা বৃষ্টির দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তার চেয়েও মারাত্মক ভুল এমন ভাবা যে রোদ থাকলে কিংবা তাপমাত্রা কম থাকলে সানবার্ন হওয়ার আশংকা নেই। মেঘলা দিনে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে থাকে। তাই এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে রোদ না থাকলে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার না করলেও চলবে। কিন্ত গবেষণায় জানা যায়, আকাশে কালো মেঘের আস্তরণ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির ২৫ শতাংশও আটকাতে পারে না। ফলে অজান্তেই ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি ত্বকের ক্যান্সারও হতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক সানস্ক্রিন ক্রিম কি? মেঘলা দিনে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, নিয়ম ও সতর্কতাগুলো।
সানস্ক্রিন ক্রিম কি?
সানস্ক্রিন ক্রিম সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকে পৌছাতে বাধা দেয়। এই ক্রিম ত্বকে একটি পুরু স্তর তৈরী করে ত্বকে ক্ষতিকর ইউভি-এ এবং ইউভি-বি রশ্মি প্রবেশে বাধা দেয়। সানস্ক্রিন ক্রিমে এসপিএফ এবং পিএ+, পিএ++, পিএ+++ অথবা পিএ++++ থাকে। এসপিএফ মান এবং পিএ প্লাস এর সংখ্যা দ্বারা বোঝা যায় সেই সানস্ক্রিন ক্রিমটি কত শতাংশ পর্যন্ত সূর্যরশ্মি আটকাতে সক্ষম। যে সানস্ক্রিন ক্রিমের এসপিএফ ও পিএ মান যত বেশি, সেই সানস্ক্রিন ক্রিমের সূর্যরশ্মি প্রতিরোশ ক্ষমতাও তত বেশি। সূর্যের ইউভি-এ রশ্মি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে বাধা দিয়ে বয়সের ছাপ, অকাল বার্ধক্য, রিংকেলস, ইত্যাদি নানা সমস্যা এমনকি ক্যান্সার তৈরী করতে পারে। ইউভি-বি রশ্মি ত্বকের পুড়ে যাওয়া(সানবার্ন), কাল দাগ, ট্যানিং, ইত্যাদি তৈরী করে। সানস্ক্রিন ক্রিম এই দুইটি ক্ষতিকর রশ্মিকেই ত্বকে প্রবেশ করতে দেয় না। ফলে ত্বক সুরক্ষিত থাকে।
মেঘলা দিনে সানস্ক্রিন ক্রিম কেনো ব্যাবহার করা জরুরি?
মেঘলা দিনে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে থাকলেও সূর্যের ক্ষতিকরে রশ্মির পরিমাণে খুব বেশি তারতম্য হয় না। তাই মেঘলা দিনে ঘরের বাইরে বের হলে কিংবা ঘরে থাকলেও অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম লাগাতে হবে। কেননা দিনের তাপমাত্রা, রোদের থাকা বা না থাকায় সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির পরিমানে প্রভাব পড়ে না। তাই মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এমনকি আপনি গাড়িতে চলাচল করলেও গাড়ির কাচ ভেদ করে ইউভি রশ্মি সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বৃষ্টির ফোটাকে ভেদ করেও সূর্যের ইউভি রশ্মি ত্বকে পৌছাতে সক্ষম। তাই মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা আবশ্যক।
মেঘলা দিনে কোন ধরনের সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন?
ত্বক তৈলাক্ত হোক বা শুষ্ক, ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সানস্ক্রিন ক্রিম বাছাই করতে হয়। মেঘলা দিনে ত্বকে তেল চিটচিটে ভাব বেশি থাকে। তাই তখন ত্বকে জেল ও ওয়াটার-বেজড সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। ত্বক বেশি শুষ্ক হলেও ওয়াটার-বেজড বা হালকা ক্রিমি টেক্সচারের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। চলুন বাংলাদেশে বহুল জনপ্রিয় ও মেঘলা দিনে ব্যবহার উপযোগী কিছু উন্নতমানের সানস্ক্রিন একনজরে দেখে নেইঃ
সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের সঠিক নিয়মঃ
- প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।
- এরপর সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
- বাইরে বের হওয়ার কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগান।
- বাড়ির ভেতরে অবস্থান করলে রান্নাঘরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে এটি লাগাবেন।
- ঘেমে গেলে মুখ পুণরায় ধুয়ে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগাবেন।
- ২-৩ ঘন্টা পর পর লাগানো উচিত।
- মুখে, হাত, গলায় ও শরীরের বাহ্যিক দৃশ্যমান স্থানগুলোতে এই ক্রিম লাগাবেন।
- এই ক্রিম লাগানোর পর অন্য প্রসাধনী ব্যবহারের পূর্বে এটি ভালোভাবে মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- বাড়ির ভেতরে থাকলে এসপিএফ-১৫ বা ২০ লাগাবেন। বাইরে বের হলে এসপিএফ ৩০ বা ৫০ লাগানো উচিত।
সতর্কতাঃ
- অবশ্যই মুখ পরিষ্কার করে তারপর লাগাতে হবে।
- ঘেমে যাওয়া অবস্থায় সরাসরি লাগানো যাবে না। আগে মুখ পরিষ্কার করে মুছে তারপর লাগাতে হবে।
- বাইরে বা রান্নাঘরে যাওয়ার কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট আগে প্রয়োগ করুন।
- চোখে যেনো না ঢুকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
- ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য কিনুন।
- সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করুন।
- কেনার আগে প্যাচ টেস্ট করে ত্বকের সাথে মানানসই কিনা বা এলার্জি আছে কিনা জেনে নিন।
- মেয়াদ দেখে কিনুন।
সানস্ক্রিন ক্রিম ত্বকের ক্যান্সার, অকাল বার্ধক্য ও ত্বকের নানা ধরনের রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। উজ্জ্বলতা ও কোমলতায় ত্বক হোক দীপ্তিময় সানস্ক্রিনের সুরক্ষায়। যত্নে থাকুক আপনার ত্বক।