রোজায় ত্বক রুক্ষ হচ্ছে?ডিহাইড্রেশনের কারণ ও মুক্তির উপায় কি?

রোজায় ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক, ও মলিন হয়ে যাচ্ছে? ডিহাইড্রেশন কি? ডিহাইড্রেশনের কারণ কি? রোজায় ত্বকের যত্ন কিভাবে নিতে হবে? রোজা রেখেও ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্ত থাকবেন কিভাবে? রমজান মাস পবিত্রতা ও মহিমার বার্তা নিয়ে আসে। রোজা রাখলে সেহরী থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার বন্ধ রাখতে হয়। ফলে শরীরে তৈরী হয় ডিহাইড্রেশন। যেহেতু রোজা রেখে দিনের বেলা পানি পান করা যাবে না তাই আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের জন্য ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে। সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে ত্বকে দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, রুক্ষতা, ও নির্জীবতা। রোজা আসলেই ঈদকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা শুরু হয়। ঈদে নিজেকে আরো সুন্দর করে তুললে রোজায় ত্বকের যত্ন নেয়া আবশ্যক। রোজায় পানিশূণ্যতা অর্থাৎ ডিহাইড্রেশন রোধে করনীয় সম্পর্কে আজ জানবো বিস্তারিত।

ডিহাইড্রেশন কি? আমাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশই পানি। কোনো কারণে শরীরে পানির অভাব হলে তাকেই ডিহাইড্রেশন বা পানিশূণ্যতা বলা হয়ে থাকে। ডিহাইড্রেশনের কারণ অসংখ্য। তবে যে কারণেই ডিহাইড্রেশন হোক না কেনো তা শরীর ও ত্বকের উজ্জ্বলতায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। পানির অভাবে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে হারিয়ে ফেলে সতেজতা।

ডিহাইড্রেশনের কারণ কি?

ডিহাইড্রেশন নানা কারণে হতে পারে। মানবশরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূণ্যতার প্রধান কারণগুলো হলোঃ

  • পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া।
  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।
  • অপুষ্টি।
  • বারবার বমি হওয়া।
  • ডায়রিয়া।
  • ঘন ঘন প্রসাব হওয়া।
  • রোজা রাখা।
  • বেশি চা-কফি পান করা।
  • বারবার মুখ ধোয়া।
  • অতিরিক্ত স্ক্রাবার মুখের ত্বকে ব্যবহার।
  • অধিক ক্ষারযুক্ত পণ্য ব্যবহার।

ডিহাইড্রেশনের প্রধান লক্ষণসমূহঃ

  • মাথা ব্যাথা।
  • ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
  • মাথা ঘোরা।
  • ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
  • ঠোঁটে মরা চামড়া ওঠা।
  • ত্বক থেকে মৃত কোষ ওঠা।
  • প্রসাব কম হওয়া।
  • ব্রণ প্রবণতা।
  • ঘন ঘন পানি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া।
রোজায় ত্বকের বিশেষ যত্ন নিবেন কিভাবে

রোজায় ত্বকের বিশেষ যত্ন নিবেন কিভাবে?

রোজায় সারাদিনের ক্লান্তিভাব ও পানিশূণ্যতার ছাপ চেহারায় ফুটে ওঠে। রোজায় তাই ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। যেহেতু সারাদিন রোজা রেখে স্কিন কেয়ার করা হয়ে ওঠে না তাই রোজায় ইফতার এর পর ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। চলুন জেনে নেই রোজায় ত্বকের যত্ন নেয়ার সহজ কিছু টিপস-

টোনার ব্যবহারঃ

সারাদিন রোজা রেখে ত্বক রুক্ষ ও নির্জীব হয়ে পড়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে তাই টোনার ব্যবহার আবশ্যক।  টোনার ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার করে ও ডেড সেল তুলতে সাহায্য করে। শসার রস, লেবুর রস, ইত্যাদি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে ভালো কাজ করে। এছাড়াও ভালো মানের প্রিমিয়াম কিছু টোনার রয়েছে যেগুলো দ্রুত ও কার্যকরী। ভালোমানের কিছু টোনার হচ্ছেঃ

হাইড্রেটিং ফেসওয়াশ ও ক্লিনজার ব্যবহারঃ

যেহেতু রোজা রেখে ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে হাইড্রেটিং ফেসওয়াশ বা ক্লিনিজার বেছে নিতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেজড ও হায়ালুরণিক এসিডযুক্ত ফেসওয়াশ কিনতে হবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য মিল্ক-বেজড ও ওয়াটার-বেজড ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে। ত্বক হাইড্রেট করার জন্য ভালোমানের জনপ্রিয় ফেসওয়াশ ও ক্লিনজারগুলো হলোঃ

হাইড্রেটিং সিরাম ব্যবহারঃ

সিরাম ত্বকের টানটান ভাব, কোমলতা, ও উজ্জ্বলতা আনতে সাহায্য করে। রোজায় ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে হাইড্রেটিং সিরাম বেছে নিতে হবে। মুখ পরিষ্কার করার পর ভালোভাবে মুছে নিয়ে ত্বক আর্দ্র থাকা অবস্থায়ই সিরাম প্রয়োগ করতে হবে। সব ধরনের ত্বকের জন্য সিরাম ভালো কাজ করে। সিরাম ত্বকের রুক্ষতা দূর করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ময়শ্চারাইজ করে,এবং ত্বকের দাগ দূর করে। চলুন একনজরে দেখে নেই রোজায় ব্যবহারের জন্য কার্যকরী জনপ্রিয় কিছু সিরামঃ

রোজায় পানিশূন্যতা দূর করার কার্যকরী ৩ উপায়ঃ

রোজায় পানিশূন্যতা দূর করার সহজ তিনটি টিপস জেনে নিনঃ

পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ

রোজায় পানি অন্যান্য মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি খাওয়া উচিত। কেননা সারাদিনের পানিশূণ্যতা পূরণ করা আবশ্যক। সেক্ষেত্রে চিনিযুক্ত আর্টিফিসিয়াল রঙ দেয়া পানীয় না খেয়ে চিনির শরবত, স্যুপ, ও বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর পানি খেতে হবে। সব মিলিয়ে ৮-৯ গ্লাস পানি পান করতে হবে। একসাথে বেশি পরিমাণ পানি না খেয়ে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করা উচিত।

বেশি বেশি শাকসবজি ও ফল খাওয়াঃ

রোজা রেখে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। রোজায় খাওয়ার জন্য সবুজ শাকসবজি বেছে নিতে হবে। যেসব সবজি পানি ঘাটতি পূরণ করে সেগুলো বেছে নিতে হবে। রোজায় ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও পানির চাহিদা পূরণ করবে এমন ফল যেমন, তরমুজ, কমলা, আঙ্গুর, ইত্যাদি বেছে নিতে হবে। এছাড়াও বাইরের কৃত্রিম রঙযুক্ত পানীয় না বা পাউডার না কিনে বাসায় লেবুর শরবত, এলোভেরার শরবত, বেলের শরবত, ইত্যাদি বানিয়ে নিতে পারেন। সঠিক খাস্যাভ্যাস পানিশূন্যতা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

চা-কফি পান না করাঃ

চা এবং কফি উভয়ই ক্যাফেইনযুক্ত এবং শরীরে পানিশূণ্যতা সৃষ্টি করতে পারে। এই পানীয়গুলো শরীরের তাপমাত্র বাড়িয়ে দেয়। তাই রোজায় চা-কফি যত কম পান করা যায় ততই ভালো। এগুলো ত্বককেও শুষ্ক করে দেয়।

রোজার শরীরের ও ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। রমজানের নিয়ম কানুন বজায় রাখার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ডিহাইড্রেশন মুক্ত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। রোজা থেকেও ত্বক রাখুন সতেজ, সজীব, উজ্জ্বল, ও প্রাণবন্ত।