হূমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন “পৃথিবীতে খারাপ মানুষ অনেক আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই”। অপ্রকাশিত ভালোবাসার মধ্যে বাবার ভালোবাসা অন্যতম। একমাত্র বাবারাই পারে নিজের ভালবাসা, আবেগ আড়ালে রেখে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে। নারীত্ব পূর্ণতা পেল কী পেল না, এ নিয়ে সমাজের বেশ মাথাব্যথা থাকে। কিন্তু একজন পুরুষের বাবা হওয়াটা গ্লোরিফাই করা হয় না কেন জানি। আমরা একজন নারীর “মা” হওয়াকে যেভাবে সম্মানের গর্বের বলে প্রচার করি, বিপরীতে একজন পুরুষের “বাবা” হওয়াটা ঐভাবে সেলিব্রিট করি না। অথচ বাবাদেরকেও স্পেশাল ফিল করানো উচিত। এ ধারনা থেকেই পৃথিবীব্যাপী প্রচলন হয় বাবা দিবস পালনের।
আমাদের জীবনে বাবা দিবসের গুরুত্বঃ
বাবারা বৃক্ষের মতোন একটা পরিবারকে আগলে রাখেন। মাথার উপরে ভরসার ছায়া হয়ে থাকেন। ভীড় বাসে কর্মস্থলে যান। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সংসারের জন্য উপার্জন করেন। একজোড়া জুতা নিয়ে মাইলের পর মেইল পায়ে হেঁটে যান। আরাম আয়েশ কী জিনিস তা বোধহয় আমাদের দায়িত্ববান বাবারা বুঝতে চান না। বাবাদের ঘড়ি কখনো পুরনো হয় না, শার্ট কখনো রঙ হারায় না, ছোট হয়ে যায় না, ফোন বদলানোর ইচ্ছে হয় না। নিজের জন্য কিছু না কিনে, সবসময় টাকা বাঁচিয়ে সন্তানদের আবদার পূরন করেন। নিজের সেরাটা দিয়ে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। বাবারা এমনই হয়, সব খেয়াল রাখে।
‘বাবা’ শব্দটি তুর্কী হলেও আমাদের খুব কাছের দুটি অক্ষর। হৃদয়ের খুব কাছের। বাবা আমাদের জীবনে এমন একজন, যার হাত ধরে হাঁটতে শেখা, জীবনের সমীকরণ শেখা। শত ত্যাগ স্বীকার করা নিঃস্বার্থ এক মানুষ হচ্ছে বাবা। তাই প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা দিবসের গুরুত্ব অনেকখানি। আমাদের উপমহাদেশে মায়ের সাথে সন্তানের কানেক্টিভিটি বেশি। বাবার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব থাকে অনেকের। তবে সন্তান জন্ম থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি দিন, প্রতিটি অধ্যায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাবা। তাদের আদর্শে সন্তানেরা ভালো-মন্দ বুঝতে শেখে। পরবর্তীতে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখে বাবাদের শেখানো এই আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি। তাই বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য বাবা দিবস পালন জরুরী।
বাবা দিবসের ইতিহাস ও ঐতিহ্যঃ
বাবা দিবসের শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। সোনার স্মার্ট ডোডকে বলা হয় বাব দিবসের প্রবক্তা। প্রতি বছর বিশ্বের ১১১ টি দেশে পালিত হয় বাবা দিবস। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকেই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সেপ্টেম্বরের প্রথম রোববার বাবা দিবস পালন করে থাকে।
বাংলাদেশে বাবা দিবস পালনের বিশেষ কোনো ইতিহাস নেই। সম্প্রতি মিলেনিয়াম এবং জেনারেশন জি কমিউনিটির সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমে বাবা দিবস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশে একটি প্রচলিত কথা আছে যে প্রতিটি দিনই বাবা দিবস। তাই বাবাকে প্রতিদিনই ভালোবাসো।
বাবা দিবসে বাবার জন্য বিশেষ কিছু আয়োজনঃ
বাবার জন্য জমানো আবেগগুলো বেশিরভাগ অপ্রকাশিতই থেকে যায়। আমরা ঠিকঠাক বাবা মায়েদের প্রতি আমাদের ভালবাসা প্রকাশ করতে পারি না। তবে এই বাবা দিবসের বিশেষ উপলক্ষে হয়ে যাক সেই নিরব ভালোবাসার উদযাপন। এই বিশেষ দিনে আমরা বাবাদের জন্য স্পেশাল কিছু করতে পারি। বাবা দিবসে তাদের উপহার হিসেবে দিতে পারি পুরো একটি দিন। তাঁর পছন্দের কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসা যায়। পড়ুয়া হলে পছন্দের বই দেওয়া যায় উপহারস্বরূপ। পছন্দের খাবার তৈরি করা যায়। পুরনো দিনের বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে বাসায় গেট টুগেদারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো। এতে স্মৃতিচারণায় সময়গুলো হবে স্মরণীয় এবং বর্ণিল। এছাড়াও তাদের নিয়ে মুভি দেখতে যাওয়া, হাতে আঁকা ছবি দেওয়া যায়। পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া হতে পারে একটি সুন্দর উদযাপনের ভালো অপশন।
পরিশেষঃ
বাবার জন্য প্রতিদিনই যেন সম্মান ও শ্রদ্ধার হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আজ পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বাবার প্রতি আমাদের সম্পর্ক আরো গাঢ় হোক। বাবার সাথে প্রতিদিনই যেন ভালোভাবে কাটে। তাঁদের জন্য নিরাপদ হোক পরিবার ও দেশ। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা, শ্রদ্ধায়, সম্মানে, সন্তানের ভালবাসায়।