কম্বিনেশন বা মিশ্র ত্বকের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। কারণ একধরনের স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলা যায় না। এই ধরনের ত্বকের সাথে ডিল করা কিছুটা ঝামেলার। মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে এমন প্রোডাক্ট বেছে নেওয়া উচিত যা কিনা একইসাথে তৈলাক্ত ভাব দূর করবে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে। কম্বিনেশন স্কিন নিয়ে অনেকেরই জানার পরিধি কম। তাই কিভাবে যত্ন নিতে হয় কিংবা কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই। এই লেখাটি কম্বিনেশন স্কিনের যত্ন সম্পর্কে আপনাকে সম্পূর্ণ ধারণা দিবে। আসুন তবে জেনে নিই কিভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক কম্বিনেশন টাইপ? কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে কী কী করবেন? কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে ব্যবহৃত প্রোডাক্টগুলোতে কোন কোন উপাদান থাকা আবশ্যক? কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপকারী কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং ফেসপ্যাক সম্বন্ধে।
আপনি কীভাবে বুঝবেন আপনার স্কিন টাইপ কম্বিনেশন?
ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন করতে হয়। অয়েলি স্কিনের যত্ন একরকম হয়, মিশ্র ত্বকের যত্ন আরেকরকম। সেন্সসিটিভ স্কিনের যত্ন নিতে হয় আবার আলাদাভাবে। তাই ত্বকের পরিচর্যা শুরু করার আগে প্রথমেই বুঝে নিতে হবে আপনার স্কিন টাইপ কী রকম। মুখমণ্ডলকে মূলত তিনটি জোনে ভাগ করা হয়-
১। “T” জোন (কপাল ও নাকের অংশ)
২। “C” জোন ( গালের অংশ)
৩। “U” জোন ( চিবুকের অংশ)
আপনার মুখের “T” জোন এবং “U” জোন যদি তৈলাক্ত থাকে এবং “C” জোন শুষ্ক থাকে তাহলে আপনার স্কিন কম্বিনেশন টাইপ। ঘুম থেকে ওঠার পর আয়নার সামনে দাঁড়ান ৷ যদি মনে হয় গালের অংশ বেশ শুষ্ক কিন্তু কপাল, নাক আর চিবুক তেলতেলে, তাহলে বুঝবেন আপনার ত্বক মিশ্র৷
কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে কী কী করবেন?
ক্লিনজারঃ সবারই নিয়মিত ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে নিয়ম করে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন। ওয়াটার বেসড ক্লিনজার খুব ভালো অপশন। মাইল্ড ক্লিনজার আপনার মুখের অতিরিক্ত সিরাম, ময়লা দূর করে দেবে। পাশাপাশি ওপেন পোরসের সমস্যা দূর করবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে মুখ পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। এতে আপনার টি-জোন তৈলাক্ত দেখাবে না।
টোনারঃ কম্বিনেশন স্কিনে রোজ টোনার ব্যবহার করুন। টোনার ত্বকের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে। অ্যালকোহল মুক্ত টোনার ব্যবহার করা উচিত। টোনার হিসেবে আপনি গ্রিন টি বা গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন।
সিরামঃ আপনার কম্বিনেশন স্কিনে আর্দ্রতা বজায় রাখতে অবশ্যই সিরাম ব্যবহার করুন। আপনি ভিটামিন সি বা হাইলুরনিক অ্যাসিড ব্যবহার করতে পারেন। সিরাম মাখার ৫ মিনিট পর মুখে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে আপনি অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।
ময়েশ্চরাইজারঃ ত্বকের যত্নে অবশ্যই ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করতে হবে। গরমে অনেকেই ত্বকে ময়েশ্চরাইজার লাগাতে চান না। এই ভুলটি করবেন না। গরমের কম্বিনেশন ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চরাইজার বেছে নিন।
সানস্ক্রিনঃ ভালোমানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই উচ্চ এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন মাখতে হবে। এতে ত্বক রোদ পোড়া ভাব থেকে রেহাই পাবে।
অয়েল ম্যাসাজঃ ত্বকের যত্ন নিতে নিয়মিত অয়েল ম্যাসাজ করুন। হালকা তেল দিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। অনেক সময় ত্বক রুক্ষ্ম হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হালকা তেলে ম্যাসাজ করুন। এতে মিলবে উপকার।
স্ক্রাবিংঃ কম্বিনেশন স্কিনের যত্ন নিতে অবশ্যই সপ্তাহে একবার স্ক্রাবিং করুন। স্ক্রাবিং ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। স্ক্রাবিং করলে রোমকূপে জমে থাকা সকল নোংরা বের হয়ে যাবে। এতে ত্বক থাকবে সতেজ ও পরিষ্কার।
ক্লে মাস্কঃ মিশ্র ত্বকের “T “ জোনের অতিরিক্ত অয়েল দূর করার জন্য ক্লে মাস্ক ব্যবহার করুন। ব্লটিং পেপারও ভালো কাজে দেয়। কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে সপ্তাহে একবার ক্লে মাস্ক ব্যবহার করুন।
কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে ব্যবহৃত প্রোডাক্টগুলোতে যে উপাদান থাকা আবশ্যকঃ
বাজার থেকে শুধু দামী প্রোডাক্ট কিনলেই হবে না। কম্বিনেশন স্কিনের যত্নের জন্য যে ফেসওয়াশ, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, টোনার কিনবেন সেইসব পণ্যে যেন নিম্নলিখিত উপাদান গুলো অবশ্যই থাকে। তাহলে আসুন জেনে নিই আবশ্যক উপাদানগুলো সম্পর্কে যা মিশ্র ত্বককে সুস্থ, সুন্দর, ও উজ্জ্বল রাখে।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিডঃ এই হাইড্রেটিং উপাদানটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।
নিয়াসিনামাইড (ভিটামিন বি৩)ঃ নিয়াসিনামাইড ত্বকের যত্নে এক অনন্য উপাদান। এটি ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটি স্কিন ব্যারিয়ার উন্নত করে। ত্বকের তৈলাক্ত এবং শুষ্ক উভয় এলাকার জন্য নিয়াসিনামাইড উপযুক্ত।
স্যালিসিলিক অ্যাসিডঃ তৈলাক্ত বা ব্রণ-প্রবণ এলাকায় স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত প্রোডাক্ট বেশ কার্যকর। এটি ত্বকের ছিদ্রগুলিকে এক্সফোলিয়েট এবং বন্ধ করতে সাহায্য করে। তবে ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা রোধ করে।
গ্লাইকলিক এসিডঃ গ্লাইকোলিক এসিড দিয়ে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের টেক্সচার মসৃণ হয়। এটি শুষ্ক এবং তৈলাক্ত উভয় অঞ্চলের জন্যই উপযুক্ত।
ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে উজ্জ্বল করে । পরিবেশের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ত্বকের টোনকে উন্নত করার জন্য ভিটামিন সি ব্যবহার করা হয়।
কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপকারী কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং ফেসপ্যাকঃ
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে খুব সহজেই মিশ্র ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। বাজারে প্রচলিত স্কিনকেয়ারের প্রোডাক্টের চাইতে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বেশি নিরাপদ। আসুন দেখে নিই কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপকারী কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান সম্বন্ধে-
মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটির ফেসপ্যাকও কম্বিনেশন স্কিনের জন্য উপকারী। মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লাকে দূর করে। এটি ম্যাট ফিনিশ লুক এনে দিতে পারে। এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
টক দইঃ টক দই কম্বিনেশন স্কিনের জন্য দারুণ উপকারী। টক দইয়ে থাকে ল্যাক্টিক অ্যাসিড, যা এক্সফোলিয়েটর ও হাইড্রেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি আপনার মৃত কোষ দূর করে, অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আমন্ডের ফেসপ্যাকঃ সারারাত আমন্ড জলে ভিজিয়ে রাখুন। আমন্ডের পেস্ট বানিয়ে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। তারপর এই ফেসপ্যাকটি ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।
মধুঃ কম্বিনেশন স্কিনের জন্য মধু খুব উপকারী। মধু ত্বকের রাফনেস দূর করে।
নারকেল তেলঃ মিশ্র ত্বকের “C” জোনের জন্য নারকেল তেল ব্যবহার করা যায়। এটি “C “ জোনের শুষ্কতা দূর করে।
জোজোবা তেলঃ জোজোবা তেল এহালকা ওজনের এবং নন-কমেডোজেনিক তেল যা অতিরিক্ত তৈলাক্ততা সৃষ্টি না করে ত্বকের শুষ্ক অঞ্চলে হাইড্রেশন প্রদান করে।
গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্টঃ গ্রিন টি তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশ পরিচিত, যা ত্বককে প্রশমিত করতে এবং ত্বকের বিভিন্ন উদ্বেগের সমাধান করতে সহায়তা করে।
কম্বিনেশন স্কিনের জন্য সুইটেবল কয়েকটি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টঃ
অনেক অনেক পণ্যের ভীড়ে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্ট খুঁজে পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ। এক নজরে দেখে নিই কম্বিনেশন স্কিনের জন্য সুইটেবল কয়েকটি প্রোডাক্ট-