চুলের কালার দীর্ঘদিন রাখতে চান?কালার চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে

চুলের কালার দীর্ঘস্থায়ী করতে চান? কিভাবে চুলে রঙ থাকবে দীর্ঘদিন? কালার চুলের যত্ন নিবেন কিভাবে? হালের ট্রেন্ডি ফ্যাশনে গা ভাসিয়ে চুলের কালার ছাড়া যেনো ভীষণ জরুরি। চুলের নতুন নতুন লুক দিতে অনেকেই  চুলের কালার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে থাকেন। চুলের কালার করা মানেই কি চুলের ক্ষতি? বেশিরভাগ চুলের কালার ক্ষতিকর আমোনিয়াযুক্ত থাকে। তবে ড্যামেজ ছাড়াই চুলের কালার করার পণ্যও রয়েছে অনেক। বিশেষত পাকা চুল কালো করতে চান অনেকেই। চুলের কালার কোনোরকম ক্ষতি ছাড়াই দীর্ঘদিন রাখার কিছু উপায় রয়েছে যা অনেকেরি অজানা। কালো রঙ ছাড়াও গোল্ডেন, ব্লন্ড, অ্যাশ ব্লন্ড, বার্গেন্ডি, ইত্যাদি নানা বর্নের চুলের কালার রয়েছে মানুষের পছন্দের তুঙ্গে। কিন্ত নিয়ম না মেনে কালার করলে পছন্দের রঙ করা যেমন কঠিন, ঠিক তেমনি রয়েছে চুলের ক্ষতির আশংকা। কিভাবে চুলের কালার দীর্ঘদিন থাকবে? কালার চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হবে? চলুন জেনে নেই।

চুলের কালার দীর্ঘদিন থাকবে কিভাবে?

চুলের কালার দীর্ঘস্থায়ী রাখার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে চুলে কালার দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেই চুলের কালার দীর্ঘস্থায়ী করার সহজ টিপসঃ

  • চুলে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যাবহার করতে হবে।
  • হট অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে।
  • কালার চুলের জন্য বিশেষভাবে তৈরী চুলের পণ্য ব্যাবহার করতে হবে।
  • ভুলেও চুলে গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
  • কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করা যাবে না।
  • কালার চুলে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার, কার্লার, ইত্যাদি ব্যাবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • এক রঙের ওপর অন্য রঙ দেয়া যাবে না।
  • রোদে বেশিক্ষণ না থাকাই ভালো। অতিবেগুনী রশ্মি চুলের কালারে প্রভাব ফেলে।
  • কালার করার পর চুলের গোড়ায় পাকা চুল বের হলে শুধুমাত্র যে জায়গায় পাকা চুল বের হয়েছে ঐ অংশে কালার প্রয়োগ করুন।
  • কালারে ডেভোলাপার এর পরিমাণ যেনো বেশি থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ডেভোলাপারই চুলের কালার দীর্ঘদিন রাখতে সাহায্য করে।

কালার চুলের যত্নঃ

কালার চুলের যত্ন নেয়ার সহজ কিছু উপায় রয়েছে। জেনে নিন কালার চুলের যত্ন নেয়ার উপায়ঃ

কালার চুলের যত্ন
  • কালার করার আগে চুল ভালোভাবে পরিষ্কার ও শ্যাম্পু করে নিন

চুল নোংরা বা ধুলাবালিযুক্ত থাকলে কিংবা তেল দেয়া থাকলে সেই চুলে কালার সহজে বসতে চায় না। তাই কালার করার আগেই ভালোমানের শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে কন্ডিশনার দিয়ে নিতে হবে। বাড়তি যত্নের জন্য চুলে ঘরোয়া প্যাক যেমন ডিম, মধু , মেথি, ইত্যাদি পেস্ট করে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।

  • অ্যামোনিয়া মুক্ত চুলের কালার প্রয়োগ করুন

অ্যামোনিয়া চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে চুলকে রুক্ষ, শুষ্ক, ও নির্জীব করে তোলে। তাই চুলে কালার করার ক্ষেত্রে বেছে নিতে হবে। চলুন একনজরে দেখে নেই চুলের জন্য অ্যামোনিয়ামুক্ত উন্নতমানের জনপ্রিয় কিছু হেয়ার কালারঃ

  • চুলে কালার করার পর ১২ ঘন্টা কালার চুলে থাকতে দিন

অনেকেই পার্লার থেকে কালার করে এসেই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলে। এতে চুলে রঙ ঠিকভাবে বসার আগেই তা হালকা হয়ে যায়। তাই চুলে রঙ বসার জন্য কমপক্ষে আধা ঘন্টা কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

  • কালার চুলের জন্য তৈরী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

কালার চুলের জন্য বাজারে নামীদামী ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু রয়েছে। এসব শ্যাম্পু চুলের ড্যামেজ রিপেয়ার করে এবং চুলকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সেইসাথে এসব শ্যাম্পু চুলের রঙকে আরো গাঢ় ও ঝলমলে দেখাতে সাহায্য করে। কালার চুলের জন্য কিছু ভালোমানের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার হলোঃ

সপ্তাহে দুইদিন শ্যাম্পু করুন
  • সপ্তাহে দুইদিন শ্যাম্পু করুন

কালার চুলের যত্ন নিতে সপ্তাহে বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। চুলের কালার দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সপ্তাহে দুইদিন শ্যাম্পু করতে পারেন। অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। 

  • সপ্তাহে ১-২ দিন হট অয়েল ম্যাসাজ করুন

তেল দিলে চুলের কালার ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। কালার করার পর চুল রুক্ষ ও শুষ্ক যাতে না হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তেল উষ্ণ গরম করে চুলে ম্যাসাজ করতে পারেব। হট অয়েল ম্যাসাজ শ্যম্পু করার ১ ঘন্টা আগে লাগালে ভালো হয়।

  • হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন

চুলের কালার আরো ঝলমলে ও সুন্দর দেখাতে চুলের রুক্ষতা দূর করা একান্ত জরুরি। কালার চুলে যেকোনো হেয়ার মাস্ক লাগাতে পারেন। তবে কিছু কিছু মাস্ক কালার চুল ড্যামেজমুক্ত করতে বেশি কার্যকরী। চলুন একনজরে দেখে নেই কালার চুলের জন্য কার্যকরী কিছু মাস্কঃ

কোন চুলে কালার কতক্ষণ থাকবে তা চুলের বৃদ্ধি পাওয়ার সময়কালের সাথে সম্পর্কিত। সঠিক যত্ন নিলে ও ভালোমানের পণ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করলে চুলের কালার দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব।