পারফিউম নাকি বডি স্প্রে? এ নিয়ে কনফিউশন হয় অনেকেরই। পারফিউমের তুলনায় বডি স্প্রে এর দাম কম হওয়ায়, বডি স্প্রে কেনেন অনেকেই। কিন্ত অনেকে জানেই না যে পারফিউম আর বডি স্প্রে এক নয়। পারফিউম আর বডি স্প্রে দুটি ভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট যাদের কাজ, ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, ধরন সবই আলাদা। এগুলোর ব্যবহার পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন। তবে বেশিরভাগ মানুষই ভুল পদ্ধতিতে এসব সুগন্ধি ব্যবহার করার কারণে সেগুলো বেশিক্ষণ থাকে না। অনেকেই তীব্র ঘামের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকেরই পারফিউম কালেকশনের শখ থাকে। কিন্ত সঠিক ব্যবহার না জানলে সবই বৃথা। আজ কথা বলবো পারফিউম ও বডি স্প্রে এর পার্থক্য, ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে সে বিষয়ে।
পারফিউম নাকি বডি স্প্রে কোনটি দীর্ঘসময় থাকে?
পারফিউম দীর্ঘসময় থাকে। পারফিউমে ব্যবহৃত হয় পারফিউম অয়েল যা বডি স্প্রে তে নেই বললেই চলে। পারফিউম কিছুটা ঘন। এতে ফল, সুগন্ধি কাঠ, ও বিভিন্ন ফুলের নোটস থাকে যা বডি স্প্রে তে পাওয়া যায় না। পারফিউম তীব্র ঘ্রানযুক্ত হয় এবং এতে অ্যালকোহলের পরিমান কম থাকে। এছাড়াও পারফিউমে গ্যাস থাকে না যা বডি স্প্রে তে থাকে। হালকা ঘ্রাণযুক্ত এবং অ্যালকোহলের পরিমান বেশি থাকায় বডি স্প্রে এর সুগন্ধ সহজেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ফলে বডি স্প্রে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করলেও পারফিউমের মত দীর্ঘসময় থাকে না।
পারফিউম ও বডি স্প্রে এর পার্থক্যঃ
পারফিউম | বডি স্প্রে |
ঘনত্ব বেশি। | ঘনত্ব কম। |
অ্যালকোহলের পরিমান কম। | অ্যালকোহলের পরিমান বেশি, কিছু বডি স্প্রে-তে নাও থাকতে পারে। |
লিকুইড ফর্মুলা, গ্যাস নেই। | গ্যাস আকারে /লিকুইডের সাথে গ্যাস হিসেবে থাকতে পারে। |
পারফিউম অয়েল বেশি থাকে। | পারফিউম অয়েল কম থাকে কিংবা থাকে না। |
এসেনসিয়াল অয়েল থাকে। | এসেনসিয়াল অয়েল থাকে না। |
দীর্ঘস্থায়ী। | ক্ষনস্থায়ী। |
টপ, মিডল, ও বেইজ নোট থাকে। | মিশ্রিত হালকা নোট থাকে কিংবা নোট থাকে না। |
ডিওডোরেন্ট নয়। | বেশিরভাগ বডি স্প্রে ডিওডোরেন্ট হয়ে থাকে। |
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে ব্যবহার হয় না। | ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে। |
কাপড়ে বা শরীরে প্রয়োগ করা যায়। | সরাসরি শরীরে প্রয়োগ করতে হয়। |
পানির পরিমাণ কম। | পানির পরিমাণ বেশি। |
দাম বেশি। | কমদামী। |
কোনো অনুষ্ঠান বা বিশেষ উপলক্ষে ব্যবহার করা হয়। | প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়। |
সাধারণত কাচের বোতলে পাওয়া যায়। | মেটাল ক্যান হিসেবে পাওয়া যায়। |
পারফিউম ও বডি স্প্রে দীর্ঘসময় রাখতে করণীয়ঃ
- গোসলের পরপরি শরীর আর্দ্র থাকা অবস্থায় স্প্রে করুন।
- পারফিউম পালস পয়েন্ট যেমন- হাতের কবজি, কানের পেছনে, ঘাড়ে, গলায়, কাধে স্প্রে করতে হবে। বডি স্প্রে বগলের নিচে, কাধে, গলায় স্প্রে করা উচিত।
- পারফিউম কাপড়ে বা শরীরে স্প্রে এবং বডি স্প্রে সরাসরি শরীরে স্প্রে করতে হবে।
- বেশিক্ষণ রাখতে পালস পয়েন্টে ভ্যাসলিন বা ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে তার ওপরে স্প্রে করুন।
- স্প্রে করার আগে নজেলের স্প্রে পয়েন্ট আপনার দিকে আছে কিনা খেয়াল রাখুন।
- কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি দূর থেকে স্প্রে করুন।
পারফিউম ও বডি স্প্রে ব্যবহারের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে হবে-
- একই জায়গায় ২-৩ বার স্প্রে করা যাবে না।
- একসাথে ২-৩ টি পারফিউম মিক্স করে ব্যবহার না করাই ভালো।
- ঘামের ওপর স্প্রে করা যাবে না। ঘাম মুছে নিতে হবে।
- এলার্জি আছে এমন কোনো সুবাসযুক্ত প্রোডাক্ট কিনবেন না।
- একসাথে অধিক পরিমাণে বা পুরো শরীরে স্প্রে করা যাবে না।
- গোসলের পরপর স্প্রে করা ভালো। তবে ভেজা শরীরে স্প্রে করবেন না। আগে শরীর মুছে নিন।
- খেয়াল রাখবেন যেনো চোখে না ঢুকে।
- বডি স্প্রে কাপড়ে স্প্রে করবেন না।
পারফিউম ও বডি স্প্রে এর ধরন ও ব্যবহারের কারণ সম্পূর্ণই আলাদা। তবে বেশিক্ষণ রাখতে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা জরুরি। পালস পয়েন্টে ব্যবহার করে সুরভিত থাকুন সারাদিন।