রোজায় পানিশূন্যতা! সারাদিন রোজা রেখে পানি তৃষ্ণা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত আমাদের কিছু ভুল খাদ্য গ্রহনে রোজায় পানি তৃষ্ণা বেড়ে যায়। রোজা রেখে সারাদিন সকল পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এই পানি ঘাটতি পূরণে অনেকেই ইফতার এবং সেহরিতে একসাথে অধিক পরিমাণে পানি পান করেন যা উচিত নয়। রোজায় পানিশূণ্যতা পূরণে ও পানি তৃষ্ণা দূর করতে পানি এবং তরল খাদ্যের প্রয়োজন আবশ্যক। কিন্ত একসাথে অধিক পানি গ্রহণ তার সমাধান নয়। শরীরে অতিরিক্ত পানিশূন্যতা হলে পানি তৃষ্ণা অনুভূত হয়। তাই রোজা রেখে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দিলেই পানি তৃষ্ণা দূর করা সম্ভব। ৩ টি সহজ টিপস মেনে চললে রোজায় পানি তৃষ্ণা দূর হবে এবং সেইসাথে শরীরের পানিঘাটতি পূরণ হবে। চলুন জেনে নেই রোজায় পানি তৃষ্ণা দূর করার সহজ টিপসগুলো এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চললে রোজায় পানিশূন্যতা হবে না সে বিষয়ে বিস্তারিত।
রোজায় পানি তৃষ্ণা দূর করার সহজ ৩ টি টিপস:
১. প্রচুর পানি পান করা:
রোজা রেখে শরীরে তৈরি হয় পানিশূন্যতা। তাই পানি ঘাটতি পূরণে পানি পান করা আবশ্যক। তবে পানি পান করার নিয়ম রয়েছে। একসাথে অধিক পানি পান করা যাবে না। কিছুক্ষন পর পর অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে। একসাথে অধিক পানি পান করলে শরীরে অস্থিরতা এমনকি বমি হতে পারে। ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করে মোট ৮-১২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। সেক্ষেত্রে একসাথে পান না করে কিছুক্ষণ পর পর পান করুন।
২. তরল খাদ্য গ্রহণ
ইফতারে আমরা সবাই ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চিনিমিশ্রিত শরবত ইত্যাদি গ্রহন করে থাকি। কিন্ত এসব খাবার শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। ইফতারে স্যুপজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। তবে স্যুপ অধিক গরম অবস্থায় খাওয়া যাবে না। স্যুপ উষ্ণ সহনশীল পর্যায়ে আসলে তখন খেতে হবে। এছাড়া খাদ্য তালিকায় ইফতার এবং সেহরিতে পানিযুক্ত ফল খাওয়া আবশ্যক। শসা, তরমুজ, আঙুর, টমেটো ইত্যাদি শরীরে পানিশূন্যতা পূরণে সহায়তা করে।
৩. রোদ থেকে দূরে থাকা
রোজায় যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে থাকলে খুবই ভালো। সেক্ষেত্রে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। রোদ শরীর থেকে পানি টেনে শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে দেয়। তাই রোদ এড়িয়ে চলতে পারলে পানিশূন্যতা হবে না। এসময় যত কম রোদে থাকা যায় ততই ভালো।
রোজায় পানিশূন্যতা এড়াতে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন:
- ভাজাপোড়া খাবার বর্জন করুন। এগুলো পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দেয়।
- লবনযুক্ত খাবার কম খাবেন। লবন শরীর থেকে পানি শুষে নেয়।
- চিনিযুক্ত শরবত ও চিনিযুক্ত ফলের জ্যুস এড়িয়ে চলুন। প্রাকৃতিক চিনিমুক্ত ফলের রস খাবেন।
- ইফতারে বরফযুক্ত বা ঠান্ডা পানি খাবেন না।
- সফট ড্রিংক বা কোমল পানীয় খাবেন না।
- চা কিংবা কফি খাবেন না। এগুলোতে ক্যাফেইন থাকে যা পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে।
- ফ্রোজেন ফুড খাবেন না।
রোজায় পানিশূন্যতা থেকে মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, কোষ্টকাঠিন্য, বমিভাব, খিচুনি, ইত্যাদি হতে পারে। তাই রোজায় শরীরে পানিশূন্যতা যাতে তৈরী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সহজ টিপসগুলো মেনে চললে ও ভুলগুলো এড়িয়ে চললে রোজায় পানিশূন্যতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।