নাইট ক্রিম ভালো নাকি খারাপ? এমন কনফিউশন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা হাজারো নকল পণ্যের ভীড়ে আসলটি খুজে বের করা কঠিন। কেউ কেউ আবার এটিকে ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ভেবে বসেন। “সস্তার তিন অবস্থা” সেই প্রবাদের মতই কমদামে সাশ্রয়ে ক্রিম কিনতে গিয়ে ভেজাল পণ্য লাগিয়ে ত্বকের সর্বনাশ করে ফেলেন অনেকেই। নাইট ক্রিমের উপাদান কেনার সময় দেখে কেনাও জরুরী। অনেকেই গায়ের রঙ ফর্সা করার আশায় ভেজাল পণ্য কিনে প্রতারিত হন এবং নাইট ক্রিমগুলো ব্যবহারকে ক্ষতিকর মনে করেন। এক্ষেত্রে মনে রাখা উচিত যে, কোনো ক্রিমই রাতারাতি ত্বকের রঙ পাল্টে দিতে পারেনা। মার্কারি/পারদযুক্ত নাইট ক্রিম লাগিয়ে সাময়িক উজ্জলতা দেখে আরো ফর্সা হবার আশায় বারবার ব্যবহার করে ত্বকের বারোটা বাজান অনেকেই। নাইট ক্রিমগুলো ত্বকের জন্য খুবই উপযোগী এবং ত্বকে বয়সের ছাপ ঠেকাতে সাহায্য করে। তাই নাইট ক্রিম কেনার ক্ষেত্রে কোন ত্বকে কোন বয়সে কোন ধরনের নাইট ক্রিমগুলো লাগাতে হবে তা জানা জরুরী।
এটি লাগানো কেনো জরুরী?
- এটি বয়সের ছাপ দূর করে।
- কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়।
- ত্বক পুণরজ্জীবিত করে।
- আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে ও হাইড্রেটেড রাখে।
- ড্যামেজড ত্বকের কোষ রিপেয়ার করে।
- ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
- ছোপ ছোপ দাগ ও কালচে ভাব কমায়।
- মুখের দাগ দূর করে।
- ত্বককে টানটান রাখে।
- ত্বকের ঝুলে পড়া প্রতিরোধ করে।
- ক্লান্তিভাব ও মলিনতা দূর করে।
- চোখের নিচের কালচে দাগ ও ফোলাভাব দূর করে।
- বলিরেখা দূর করে।
- ত্বককে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যকর রাখে।
- ইভেন টোন নিশ্চিত করে।
- প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে সুন্দর ও ব্রাইট করে।
- ত্বকের কোষগুলোকে সজীব রাখে।
- ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখে।
কোন বয়সে কোন ধরনের নাইট ক্রিম লাগানো উচিত?
নাইট ক্রিম লাগানোর ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী প্রোডাক্ট কেনা উচিত। কোনো নাইট ক্রিমই বাচ্চাদের ত্বকে ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না। ১৮-২০ এর কোঠায় যাদের বয়স তাদের ক্ষেত্রে এন্টি-এজিং নাইট ক্রিমগুলো লাগানো একদমই উচিত না। এই বয়সে এন্টি-অক্সিডেন্ট ও মাল্টিভিটামিনযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো লাগানো উচিত। বয়স ৩০ বা তার বেশি হলে এন্টি-এজিং উপাদান, রেটিনল, এএইচএ, ভিটামিন এ, বি-৩, হায়ালুরনিক এসিডযুক্ত নাইট ক্রিম কেনা উচিত। যাদের বয়স চল্লিশ বা চল্লিশের কাছাকাছি কিংবা তার চেয়ে বেশি, তাদের জন্য রিভাইভিং, এন্টি-এজিং নাইট ক্রিমগুলো প্রয়োজন।
কোন ধরনের ত্বকে কোন উপাদানযুক্ত নাইট ক্রিম দরকার?
ত্বকের ধরনের ওপর ভিত্তি করে নাইট ক্রিম বাছাই করা উচিত। কেননা ত্বকের ধরন অনুযায়ী না লাগালে সুফল না পেয়ে বরং ত্বকের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণত ত্বক ৫ ধরনের হয়ে থাকে- স্বাভাবিক, শুষ্ক, তৈলাক্ত, মিশ্র,এবং সেনসিটিভ বা সংবেদনশীল। চলুন এখন জেনে নেই কোন ধরনের ত্বকে কোন ধরনের উপাদানযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো লাগানো উচিত।
স্বাভাবিক ত্বকঃ
এ ধরনের ত্বকে ভিটামিন সি, এন্টিঅক্সিডেন্ট, হায়ালুরনিক এসিড, গ্লিসারিন, ও মাল্টিভিটামিনযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো লাগানো উচিত। স্বাভাবিক ত্বকে যেকোনো নাইট ক্রিমই মানানসই। তবে এমন কোনো ক্রিম লাগাবেন না যা স্বাভাবিক ত্বককে রুক্ষ বা তৈলাক্ত করে দিতে পারে।
শুষ্ক ত্বকঃ
শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকে ময়শ্চারাইজারযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো লাগানো উচিত। এ ধরনের ত্বকে কোলাজেন কম উৎপাদিত হতে পারে। শুষ্ক ত্বকে মধু, শিয়া বাটার,কোকোয়া বাটার, এসেনসিয়াল অয়েল, গ্লিসারিন ইত্যাদি যুক্ত নাইট ক্রিম দরকার। এছাড়াও শুষ্ক ত্বকে মাল্টিভিটামিনযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো বেছে নেয়া যেতে পারে। কিছুটা ভারী ধরনের নাইট ক্রিম শুষ্কতা দূর করে ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
তৈলাক্ত ত্বকঃ
তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম উৎপন্ন হয়। তাই এই ত্বকে হালকা ধরনের নাইট ক্রিমগুলো বেছে নিতে হবে যা অতিরিক্ত তেল উৎপাদনে বাধা দিবে। এই ত্বকে হায়ালুরনিক এসিড, রেটিনল, অ্যালোভেরা জেল, অ্যাকুয়া, ভিটামিন ই, নায়াসিনামাইড ইত্যাদি উপাদানযুক্ত নাইট ক্রিম ভালো।
মিশ্র ত্বকঃ
মিশ্র ত্বকে হালকা ধরনের ও হাইড্রেটিং নাইট ক্রিমগুলো ভালো। এ ধরনের ত্বকে কফিদানার নির্যাস, অ্যালোভেরা জেল, ভিটামিন ই, নায়াসিনামাইড, হায়ালুরনিক এসিড ইত্যাদি উপাদান রয়েছে এমন নাইট ক্রিমগুলো লাগাতে হবে।
সেনসিটিভ বা সংবেদনশীল ত্বকঃ
সংবেদনশীল ত্বকে খুব সতর্কতার সাথে প্রোডাক্ট লাগানো উচিত। এতে জুঁই ও জোজোবার নির্যাস, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-৩, বায়োটিন, হায়ালুরনিক এসিড, অ্যাকুয়া, ইত্যাদি উপাদানযুক্ত নাইট ক্রিমগুলো লাগানো ভালো।
কোন ধরনের উপাদানযুক্ত ক্রিম ভুলেও কিনবেন নাঃ
কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রঙ ফর্সাকারী ক্রিম নামে নকল ও ভেজাল পণ্য বিক্রি করে। এসব ভেজাল পণ্য থেকে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। মনে রাখবেন স্কিনকেয়ারের আসল পণ্য সবসময় ভালোমানের ব্র্যান্ড থেকে কেনা উচিত। কেনার আগে অবশ্যই উপাদান ও মেয়াদ দেখে কিনবেন। যেসব পণ্য নাইট ক্রিমে থাকলে সেগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো হলোঃ
- প্যারাবেন।
- আর্টিফিসিয়াল কালার/কৃত্রিম রঙ।
- ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ।
- আর্টিফিসিয়াল ফ্রেগ্রেন্স বা কৃত্রিম সুগন্ধ।
- টক্সিক উপাদান।
ভালো ব্র্যান্ডের ও উন্নতমানের কিছু জনপ্রিয় নাইট ক্রিম চলুন একনজরে দেখে নেইঃ
ত্বক সতেজ, প্রানবন্ত ও তারুণ্যময় রাখতে নাইট ক্রিম ব্যবহার আবশ্যক। দিনের ধকল শেষে পরিশ্রান্ত ত্বক সজীবতা ফিরে পায় নাইট ক্রিমের ছোয়ায়। তাই কমদামে নকল ও ভেজাল পণ্য না কিনে ব্র্যান্ডের পণ্য কিনুন, আর পেয়ে যান ইয়াংগার লুকিং সুন্দর ত্বক।