হাজার হাজার গাছ কাটা হচ্ছে রাস্তা প্রশস্ত করার নামে। সরকারি উন্নয়ন মানেই প্রকল্প। অনেক টাকা-পয়সার লেনদেন হয় এইসব প্রকল্পে। অসাধু লোকেরা তাই উৎ পেতে থাকে। গাছও এইসব অসাধু মানুষের জন্য প্রকল্প ও উন্নয়নের ফাঁদে কাটা পড়ে। একটি বড় গাছ না কেটেও যে চার লেনের রাস্তা বানানো যায় এবং পৃথিবীতে এর যে অসংখ্য উদাহরণ আছে, সেটি আমাদের ‘প্রকল্পজীবীদের’ মাথায় নেই। আর থাকলেও তারা গাছ কাটাকেই সহজ মনে করেন। কারণ তাতে বহুমুখী লাভ। পরিবেশ রক্ষায় বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রুখতে গাছের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরী। নদীমাতৃক দেশে মরুভূমির লু হাওয়ায় মানুষের দিশেহারা অবস্থা। কৃষকের ফসল পুড়ে যায়। খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। সড়কের পিচ গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠে। রেললাইন বেঁকে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে। কয়েকটা দিন বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখী হলো কি হলো না, এরপর আবারও তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি। মানুষ সারা জীবন যে অক্সিজেন নেয়, তা সরবরাহ করতে মাত্র আটটি গাছই যথেষ্ট। অথচ এই ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে সারা জীবনে আটটি গাছ লাগানো মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় কবে?
১৯৭২ সালে, জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস অনুষ্ঠিত হয় সুইডেনের স্টকহোমে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ৫ জুন বিশ্বব্যাপী প্রথম বারের মতো পালিত হয়। বর্তমানে জুনের ৫ তারিখ এ দিসব পালিত হচ্ছে।
কেন এত গাছ কাটা হচ্ছে?
গাছ না কেটেও পরিবেশের ক্ষতি না করেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা যায়। আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকেরা এই ব্যাপারটা বুঝতে চান না। বুঝলেও টাকার লোভ সামলাতে পারেন না। অন্য দেশে গাছ বাঁচিয়ে রাস্তা করা হয়। আর আমাদের দেশে রাস্তা করার জন্য সবার আগে গাছ কেটে ফেলা হয়।
মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে গাছ থেকে তৈরি জিনিসপত্র যেমন কাঠের আসবাব, কাগজ, জ্বালানি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়ছে। ঘরবাড়ি, রোড, রেল বন্দর সবকিছুই বাড়ছে। আর এসব বাড়লে কমছে চাষের জমি ও বনাঞ্চল।
গাছের প্রয়োজনীয়তাঃ
- গাছ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে থাকে যা গ্রহণ করে আমরা বেঁচে আছি।
- উন্নত জাতের কাঠ পাওয়া যায় যা দিয়ে ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তৈরি করে থাকে।
- বিভিন্ন ধরনের ভেষজ ওষুধ পেয়ে থাকে যা সেবন করে বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকি।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের অত্যান্ত কার্যকারী ভূমিকা পালন করে থাকে ।
- বিভিন্ন ধরনের ফলমূল দিয়ে থাকেন যা খেয়ে শরীরের বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়।
- পৃথিবীর তাপমাত্রা ঠিকঠাক রাখে।
- মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করে।
- নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।
- অনেক পশু-পাখি, কীটপতঙ্গের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।
গাছ কাটলে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হয়?
উন্নয়নের নামে যখন একটি গাছ কেটে ফেলা হয়, সেই গাছের ওপর নির্ভরশীল পাখিরা কোথায় যাবে, সেই ভাবনাটি বিবেচনায় রাখা উচিত। পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি দেশের আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক। অতিরিক্ত গরম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবে গাছ । আসুন এখন জেনে নিই গাছ কাটলে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হয়-
- গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে যা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
- গাছ নিধনের ফলে এই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় সাইক্লোন জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির প্রভাব বেড়ে যায় ।
- গাছের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে বায়ু পরিশোধ হয়ে থাকে। গাছ নিধনের ফলে এই প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে থাকে।
- গ্লোবাল ওয়ার্মিং বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
গাছ লাগানো নিয়ে ইসলাম কী বলে?
ইসলামে গাছ লাগানো গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। হাদীস শরীফে বলা আছে যে উত্তম ইবাদত এর মধ্যে গাছ লাগানো একটি উত্তম ইবাদত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যখন কোন একটি মুসলমান বাক্তি ফলবান বৃক্ষ রোপন করল, আর সে গাছে ফল আসার পরে সে অথবা অন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের পক পকালি খেয়ে থাকে সেটা তার জন্য সদকা।মহান আল্লাহ তাআলাকে গাছ-গাছালি ও বৃক্ষরাজি সিজদা করে।
গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে প্রিয়নবী (সা.) আরো বলেন তুমি নিশ্চিতভাবে জানো সামনে কিয়ামত চলে এসেছে আর তোমার হাতে যদি একটি গাছ থাকে তারপরে তুমি সেটি রোপন করো (মিশকাতুল মাসাবিহ)।