জিলহজ্ব মাস মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসেই হজ্ব পালিত হয়। এই মাসের ফজিলত অনেক বেশি। জিলহজ্ব মাসের ১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা উত্তম। এই দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম আরাফার দিন অর্থাৎ ইওয়ামুল আরাফাহ। নবীজী(সঃ) বলেছেন, “ ইয়াওমে এই রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী। তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবেন”। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নংঃ ১১৬২)। বাংলাদেশেও মুসলিমগণ অধিক সওয়াবের আশায় আরাফার দিনে রোজা রাখেন। রাসুলুল্লাহ(সঃ) বলেছেন, “ এমন কোনো দিবস নেই যেখানে আল্লাহ তা’আলা আরাফা দিবস থেকে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।” অর্থাৎ এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয় হয়। কিন্ত হজ্ব সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবে যেদিন ৯ জিলহজ্ব অন্যান্য দেশে সেদিন ৯ জিলহজ্ব নয়। তাহলে এই রোজা কবে রাখা উচিত? জেনে নিন আজই।
আরাফার রোজা কবে রাখতে হবে?
আরাফার দিনেই এই রোজা রাখা উচিত। কিন্ত সৌদি আরবে বাংলাদেশের চাইতে একদিন আগে চাঁদ ওঠে। তাই সৌদি আরবে যেদিন ৯ জিলহজ্ব সেদিন বাংলাদেশে ৮ই জিলহজ্ব। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন রোজা রাখবে? এ নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। এটি নিয়ে দুইটি মতের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রথম মত অনুযায়ী, হজ্ব শুধুমাত্র সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয়। হাজীগণ সৌদি আরবে যেদিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন, সেদিনই আরাফার দিন। সেই হিসাব অনুযায়ী সৌদি আরবের এই দিন বাংলাদেশে ৮ই জিলহজ্ব। অন্য একটি মতে বলা হয়েছে, ঈদ এবং রোজা সব দেশের চাঁদ দেখার সময় থেকে নির্ধারিত হয়। তাই যে দেশে যেদিন ৯ই জিলহজ্ব সেদিনকেই এই দিন ভেবে রোজা রাখা উচিত। দ্বিতীয় মতটিকে অনেকেই সমর্থন দিয়েছেন। কেননা প্রাচীনকালে কোনো টিভি বা ডিজিটাল ডিভাইস ছিলো না। তখন সৌদি আরবে কবে আরাফার দিন তা জানা সম্ভব ও ছিলো না। তাই নিজ নিজ দেশের ৯ জিলহজ্বকে এই দিন ভাবতো। আরাফার দিন পেতে চাইলে বাংলাদেশে ৮ ও ৯ জিলহজ্ব রোজা রাখাই উত্তম।
এ বছর বাংলাদেশে আরাফার রোজা কবে?
বাংলাদেশে ৮ই জিলহজ্ব অর্থাৎ ১৫ই জুন তারিখে সৌদি আরবের হাজীগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে ৯ই জিলহজ্ব ১৬ই জুন বাংলাদেশের চন্দ্রসময় অনুযায়ী আরাফার দিন। দুটি মত অনুযায়ী এই দুইটি দিনেই আরাফার দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ প্রথম মত অনুযায়ী ১৫ই জুন এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী ১৬ই জুন। তাই বাংলাদেশী অবস্থানকারী মুসলিমদের উচিত ১৫ জুন এবং ১৬ জুন দুইদিনই রোজা রাখা। তাহলে আরাফার দিন কোনো মত অনুযায়ীই মিস হবার সম্ভাবনা থাকবে না।
আরাফার রোজার ফজিলতঃ
এই নবীজী(সঃ) রাখতেন। তবে আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ(সঃ) রোজা রাখেননি। এটি একটি নফল ইবাদত। কিন্ত নফল রোজা হলেও এর ফজিলত ও মাহাত্ম্য অনেক বেশি। মূলত নিজ নিজ দেশের জিলহজ্ব মাসের ১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত তাকবির, দোয়া, দরুদ, রোজা, ইত্যাদি বেশি করা উচিত। আরাফার দিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক জাহান্নামীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “ আরাফার দিনের রোজার সওয়াব এক হাজার দিন রোজা রাখার সমান।”(তারগীব)। এদিনে রোজা রাখাকে নবীজী(সঃ) আগের ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হবে বলে আশা করেছেন। তাই আরাফার দিনে রোজা রাখা ও বেশি বেশি ইবাদত করার ফজিলত অনেক বেশি।
আসুন এই রেখে বেশি বেশি ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে এবং বেশি বেশি দরুদ ও তাকবীর পাঠ করি। কেননা রাসুলল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “ আল্লাহ এদিন বান্দাদের নিকটবর্তী হন। তিনি গর্ব করে ফেরেশতাদের বলেনঃ ‘ তোমরা কি বলতে পারো আমার এ বান্দাগণ আমার কাছে কি চায়?’