এসি বিস্ফোরণের কারণ কি? এসি ব্লাস্ট প্রতিরোধে করনীয়

এসি বিস্ফোরণের কারণ কি? তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। গরম থেকে কিছুটা শান্তি পেতে এসি কেনার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকটাই। কিন্ত এসি কিনে নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনছেন নাতো? গরমের তীব্রতায় এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে দেখা যায় প্রায়ই। কিন্ত অনেকেই জানে না এসি বিস্ফোরণের কারণ কি? আপনারই কোনো ভুল ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। এসি বিস্ফোরণের কারণ জেনে সচেতনতার সাথে এসি ব্যবহার করলে আপনি নিশ্চিন্তে এসি ব্যবহার করতে পারবেন। এসি বিস্ফোরণ ঠেকাবেন কিভাবে? সেটা নিশ্চিত করতে জানতে হবে এসি বিস্ফোরণের কারন কি কি! গরমে এসি সারাক্ষণ ছেড়ে না রেখে কিভাবে কম সময়ে সহজেই ঘর ঠান্ডা করা যায় জানতে চান? চলুন জেনে নেয়া যাক। এসি নিয়ে ভয়? আর নয়। আশা করি এই লেখাটি পড়ে কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।

এসি বিস্ফোরণের কারণঃ

এসি বিস্ফোরণের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। অসাবধানতা আর অসচেতনায় ঘটতে পারে বিপদ। চলুন জেনে নেই এসি বিস্ফোরণের কারণ কি কি-

  • রেফ্রিজারেন্ট লিক হলে।
  • কনডেন্সারে ময়লা জমলে।
  • ভোল্টেজ ওঠানামা করলে
  • রুমের আকারের তুলনায় এসির লোড নেয়ার ক্ষমতা কম হলে।
  • দীর্ঘসময় বিরতিহীন এসি ছেড়ে রাখলে।
  • ক্যাবল সঠিক স্পেকের না হলে।
  • এসির পাইপে ব্লকেজ থাকলে।
  • সঠিকভাবে ভ্যাকুয়াম না করলে।
  • কম্প্রেশরের টেম্পারেচার ও প্রেশার বেশি হলে।
  • সার্কিট ব্রেকারের রেটিং সঠিক না হলে।
  • অদক্ষ মেকানিক দিয়ে সার্ভিসিং করালে
  • কমদামী নিম্নমানের এসি কিনলে।
  • এসি থেকে গন্ধ বা শব্দ বের হলেও এসি চালাতে থাকলে
এসি বিস্ফোরণ প্রতিরোধে করণীয় কি কি

এসি বিস্ফোরণ প্রতিরোধে করণীয় কি কি?

এসি বিস্ফোরণের কারণ জানলে আপনি অনেকটাই সচেতনভাবে এসি চালাতে পারবেন। সেইসাথে এসি বিস্ফোরণ প্রতিরোধে কিছু সচেতনতা ও পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। চলুন জেনে নেই এসি বিস্ফোরণ ঠেকাতে কি কি করনীয়-

  • ভালো মানের ও ভালো ব্র্যান্ডের এসি কেনা।
  • এসি কেনার সময় গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি আছে কিনা এবং সেই এসির রিভিউ কেমন তা যাচাই করা।
  • নিয়মিত কনডেনসার পরিষ্কার করা।
  • দীর্ঘসময় বা জানালা খোলা রেখে এসি না চালানো।
  • কোনো গন্ধ বা শব্দ হতে থাকলে সাথেসাথে এসি বন্ধ করা।
  • ব্লকেজ আছে কিনা পরীক্ষা করা।
  • কম্প্রেশরের টেম্পারেচার ও প্রেশার বেশি কিনা চেক করা।
  • ভ্যাকুয়াম সঠিকভাবে করা।
  • রুমের আকার অনুযায়ী এসি লোড নিতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করা।
  • রেফ্রিজারেন্ট লিক ডিটেক্টর ইনস্টল করা।
  • সঠিক রেটিং এর সার্কিট ব্রেকার লাগানো।
  • এসি একটানা না চালানো।
  • রুমের দরজা জানালা বন্ধ রেখে এসি চালানো।
  • রুম ঠান্ডা হলে কিছুক্ষণ এসি বন্ধ রাখা।
  • দক্ষ এসি মেকানিক দিয়ে সার্ভিসিং করানো।
এসি ও ফ্যান দিয়ে কম সময়ে রুম ঠান্ডা করার কৌশল

এসি ও ফ্যান দিয়ে কম সময়ে রুম ঠান্ডা করার কৌশলঃ

  • সম্ভব হলে প্রথমে ঘরের মেঝে পানি দিয়ে মুছে নিন।
  • ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ করে দিন।
  • এসি অন করে সুইং মোড এ ১৮ কিংবা ২০ এ দিয়ে রাখুন।
  • ফ্যান ফুল স্পিডে ছেড়ে দিন।
  • ২০-৩০ মিনিট পর এসি বন্ধ করে শুধু ফ্যান ছেড়ে রাখুন।

এই পদ্ধতিতে প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে রুম ঠান্ডা করে নিলে আপনি শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। সেইসাথে এসির জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলও খরচ হবে না।

এই গরমে সাধ্যের মধ্যে এসি কিনতে চান অনেকেই। কেউবা সেকেন্ড হ্যান্ড এসিও কিনে থাকেন। বিশেষ করে বাচ্চা ছোট থাকলে বাচ্চার কষ্ট কমাতেও এসি কেনা জরুরি হয়ে পড়ে। তবে এসি কেনার আগে অবশ্যই এসি বিস্ফোরণের কারণ জানুন আর এসি ব্যবহারে সাবধান থাকুন।