ঘামাচি কি? কেনো হয়? গরম আসলেই ঘামাচিও এসে হাজির হয় বিনা দাওয়াতে আসা অতিথির মত। বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা, বাড়ছে গরমের দাবদাহ। গরমে ঘেমে ভিজে যায় শরীর, সেই অতিরিক্ত ঘামেই শরীরে ঘামাচি দেখা দেয়। কারো কারো শরীরে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করে। একে তো গরম, তার মধ্যে ঘামাচির চুলকানি আর জ্বালাপোড়া আরো অসহ্য মনে হয়। অনেকেই নখ দিয়ে চুলাকানোর ফলে ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় ঘা হয়ে যায়। কিভাবে ওঠা রোধ করা যায়? ট্যালকম পাউডার কি ঘামাচি দূর করতে পারে? কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত? কিভাবে সহজেই ঘরোয়া উপায়ে দূর করা যায়? শরীরের কোন কোন জায়গায় বেশি হয়? কাদের বেশি হয়ে থাকে? সহজ ৫টি ঘরোয়া উপায়ে দূর হবে ঘামাচি? চলুন জেনে নেই কিভাবে!!
ঘামাচি কি?
ঘামাচি এক ধরনের চর্মরোগ। গরমের কারণে প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের ঘাম বেশি হয়, তাদের ঘামাচিও বেশি হয়। গরমের তাপে শরীর বারবার ঘেমে যায়। এসময় ধুলাবালি, ত্বকের মৃতকোষ(ডেডসেলস), আর স্টেফ এপিডারমাইডিস জীবাণু মিলে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এসময় ঘাম বের হতে পারে না বলে ব্রণের মতো ফুসকুড়ি দেয়া দেয় সেটাই ঘামাচি। অতিরিক্ত ঘাম হলে ঘামাচি থেকে মারাত্মক চর্মরোগ, এমনকি হিটস্ট্রোকও হতে পারে।
কেনো হয়?
- গরম বেড়ে গেলে।
- লোমকূপ বন্ধ হয়ে ঘাম বের হতে না পারলে।
- অতিরিক্ত ঘাম হলে।
- অতিরিক্ত টাইট বা মোটা কাপড় পড়লে।
- ধুলাবালি ও রোদে বেশি থাকলে।
- শরীরে বাতাস চলাচল না হলে।
- নখ দিয়ে চুলকানোর ফলে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে।
ঘামাচি দূর করার সহজ ৫ টি ঘরোয়া উপায়ঃ
১. নিম পাতার নির্যাস দিয়ে গোসল
নিম পাতাকে প্রাকৃতিক জ্বালানাশক বলা যেতে পারে। নিম পাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ঠান্ডা করে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে ঘামাচি দূর হয়।
২. বরফসেক
বরফসেক ঘামাচি কমাতে দারুণ কার্যকরী। ত্বকের মৃতকোষ, ধুলাবালি, আর স্টেফ এপিডারমাইডিস জীবাণুর কারণে তৈরী হয়। বরফসেক দেয়ার আগে শরীর পরিষ্কার করে নিন। কফি, চিনি, ও পানি মিশিয়ে বডি স্ক্রাব বানিয়ে মৃতকোষ এক্সফোলিয়েট করুন। এরপর বরফ কুচি আইসপ্যাক বা আইস রোলারে নিয়ে শরীরে ঘষতে থাকুন। সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা যাবে না। বরফের টুকরাও ঘষে নিতে পারেন। এটি ঘাম ও ঘামাচি দুটোই কমায়।
৩. বৃষ্টির পানিতে গোসল
গরমে প্রায়ই বৃষ্টি হয়। আপনার ঘামাচি থাকলে বৃষ্টির পানিতে গোসল করে অনেকটা উপকার হবে। কেননা বৃষ্টির পানিতে খনিজ উপাদান থাকে যা দূর করতে সাহায্য করে।
৪. ক্যালামাইন ব্যবহার
ক্যালামাইন এক ধরনের ত্বকের সিরাপ। এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা করে ফলে ঘামাচি দূর হয়। ক্যালামাইন ঘামের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। গোসল করে শরীর মোছার সাথে সাথেই ক্যালামাইন ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এটি দ্রুতই শুকিয়ে যায়। নিয়মিত ৫-৭ দিন ব্যবহার করলে, চলে যাবে কোনো ওষুধ ছাড়াই।
৫. হাইড্রেটিং প্যাক লাগিয়ে নিন
ঘামাচি কমাতে শরীরকে হাইড্রেট করা জরুরি। ঘরে বসে বানিয়ে নিন হাইড্রেটিং প্যাক। অ্যালোভেরা জেল, গোলাপজল, ও শসার রস মিশিয়ে লাগিয়ে নিন ঘামাচির স্থানে। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে এই প্যাকে মুলতানি মাটিও যোগ করতে পারেন। হাইড্রেটিং প্যাকটি ধোয়ার সময় অবশ্যই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন।
ট্যালকম পাউডার কি ঘামাচি দূর করতে পারে?
সব ধরনের ট্যালকম পাউডার ঘামাচি দূর করতে পারেনা। তবে প্রিকলি হিট বা মেনথলযুক্ত ট্যালকম পাউডার ভালো কাজ করে। তবে অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের ও আসল প্রোডাক্ট কিনতে হবে। জনপ্রিয় ও কার্যকরী কিছু ট্যালকম পাউডার হলোঃ
শরীরের কোন কোন জায়গায় ও কাদের বেশি হয়?
ঘামাচি শরীরের যেকোনো জায়গায়ই হতে পারে। তবে ভাজযুক্ত জায়গাগুলোতে সবচেয়ে বেশি হয়। এছাড়াও টাইট বা মোটা কাপড় পড়লেও পিঠে, কাধে, বগলের নিচে, ইত্যাদি জায়গায় বেশি হতে দেখা যায়। বাচ্চাদের এবং যারা অধিক সময় রোদে বা বাইরে থাকে তাদের বেশি হয়। যাদের ঘাম বেশি হয়, তাদেরও ঘামাচি ওঠার প্রবণতা বেশি থাকে।
কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?
- টাইট পোশাক পড়বেন না।
- ঘাম মোছার আগে পাউডার বা লোশন লাগাবেন না।
- নখ দিয়ে ভুলেও চুলকাবেন না।
- প্রয়োজন ছাড়া রোদে বা বাইরে বের হবেন না।
- গরম খাবার ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন।
ঘামাচি রোধে করণীয়ঃ
- ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন
- বরফসেক নিন
- প্রচুর পানি ও তরল খাদ্যগ্রহণ করুন।
- ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করুন।
- শরীর বারবার মুছে বা গোসল করে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
- বাইরে গেলে সানস্ক্রিন পাউডার লাগিয়ে যান।
- ঘামাচি বেড়ে ঘা কিংবা একজিমা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এই গরমে ঘামাচি হওয়া মানেই মরার ওপর খাড়ার ঘা! প্রতিকারের চেয়েও তাই প্রতিরোধ বেশি জরুরি। তাহলে আর দেরী কেনো? ঘামাচি ঠেকাতে আদা জল খেয়ে লেগে পড়ুন! ঘরে বসে দূর করুন।