ঘুম থেকে উঠেই দেখলেন মুখ তৈলাক্ততায় ভরা? পুজের চুলকানিতে নখ দিয়ে খোচাখুচি করতে বাধ্য হচ্ছেন? দাগে ভরে গেছে পুরো মুখ? ব্ল্যাকহেডস আর হোয়াইটহেডস এর অত্যাচারে মুখের হাল বেহাল? বাস থেকে লেগুনা সব জায়গাতেই শুনতে হচ্ছে নানারকম জ্ঞান? যে যা টোটকা দিচ্ছে সব ট্রাই করেও ফলাফল শূণ্য? ঘনঘন তৈলাক্তভাব, ব্রণের যখন তখন বিনা নিমন্ত্রণে আগমণ কিংবা নাছোড়বান্দা দাগ যা আপনার সাথে ব্রেকআপ করছে না কিছুতেই, সব সমস্যার সমাধান নিয়ে আজ কথা বলবো। জেনে নিন কিভাবে সহজেই এই শত্রু ভাগাবেন চিরতরে? সত্যিই দাগ পুরোপুরি চলে যাবে তো? গেলেও বা কিভাবে? চলুন এই সমস্যার সমাধানের সাতকাহণ আজ বিস্তারিত জেনে নেই। ভাবছেন এটা দূর করা অসম্ভব? এসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আজ আপনাদের এমন কিছু সমাধান দিবো যার কার্যকরীতা নিজেই পরখ করে চক্ষু হবে চড়কগাছ। কি কি খাদ্যাভাস প্রয়োজন, ঘরোয়া টোটকাসমুহ, কোন ত্বকে কোন ফেসওয়াশ কোন স্ক্রাব লাগানো যাবে নাকি যাবে না সব কিছু জানতে মিস করবেন না আজকের এই লেখার একটি লাইনও। নিজে জানুন, উপকারী মনে হলে অন্যকেও জানান।
ব্রণ কি?
এটাও আবার প্রশ্ন হয়! সবাই তো জানে এটা কি তাই না? যদি এটাই ভেবে থাকেন তাহলে এখুনি ভাঙুন এই ভুলের মহল। এটি অনেক ধরনের, অনেক গড়নের, অনেক বর্ণের হয় এবং সেইসাথে এর রয়েছে উৎপত্তির হরেক রকম জায়গা। কি ভাবছেন ভুলভাল বকছি? একদমই না। সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত উৎপাদিত তেলের সাথে অবাঞ্ছিত শুষ্ক রুক্ষ মৃত কোষ যাকে আমরা ডেডসেলস নামে চিনি সেই মৃতকোষ যখন মিশ্রিত হয় এবং ধুলাবালির আক্রমনে, ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে লোমকূপ যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখনই আগমণ ঘটে এই চিরশত্রুর। তবে চিরশত্রুতা মেটাতে ডার্মাটোলজিস্টরা করেছেন হাজারো রকম গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। তাদের সেই কঠোর সাধনার ফসল বর্তমান সময়ে এসে একে চিরতরে ভাগানোর উপায় বের করতে কি পরিমাণ জাদুর মত কাজ করেছে, ভাবতেও পারবেন না।
ব্রণ কেনো হয়?
এটি উড়ে এসে জুড়ে বসা সেই উপদ্রব যাকে উপড়ে ফেলার চিন্তা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ঠিক বললাম তো? ব্রণ কেনো হয় সেটার বিভিন্ন কারন ডার্মাটোলজিস্টরা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের ওপর গবেষণা চালিয়ে বের করেছেন। চলুন জেনে নেই কারণগুলো এক ঝলকে
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অভাব
হরমোনের তারতমাই ঘটা খুবই স্বাভাবিক এবং সেটার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এই যেমন ধরুন আপনার বয়সন্ধিকাল যখন শুরু হবে আপনি ছেলে বা মেয়ে যাই হোন না কেনো আপনার হরমোনের মারাত্মক তারতম্য ঘটে। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পনের এই ধাপে নানারকম শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে বলেই সাধারণত এই বিনা নিমন্ত্রণের অতিথির সূচনা ঘটে এই বয়সন্ধিকালেই। এসময় এর ধরণের ওপর এবং আপনার স্কিনের ধরণ বুঝে এর সাথে যুদ্ধ চালাতে কি অস্ত্রসস্ত্র লাগবে, সেই আলোচনাও থাকবে আজকের এই সাতকাহনে।
লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া
লোমকূপ বন্ধ হতে পারে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব থাকলে এবং ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক কিংবা অন্যান্য ধুলাবালি ও জীবানু ঢুকে যখন লোমকুপকে বন্ধ করে দেয়। বিশেষত গ্রীষ্মকালে, ত্বকের চামড়া আঠালো হয়ে যায়, এসময় ময়লা ও ধুলাবালির কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে অ্যাকনি সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত তৈলাক্ততা
তৈলাক্ত ত্বক মানে অয়েলি ফেস এ আমরা সবচেয়ে বেশি এই সমস্যায় ভুগে থাকি। তৈলাক্ততা থাকলে আঠালো থাকে এবং বেশি তেল উৎপাদন হওয়ার কারনে ধুলাবালি সহজেই এই তেলের সংস্পর্শে এসে আটকে যায় ও লোমকুপ বন্ধ করে এর উৎপত্তি ঘটায়। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
ডেডসেল বা মৃতকোষের সংখ্যাবৃদ্ধি
স্বাভাবিকভাবেই মৃতকোষ যখন বেড়ে যায়, এগুলো লোমকূপকে আটকে দিয়ে সেবেসিয়াস গ্রন্থির নিঃসরণকে ব্যাহত করে ফলে এই সমস্যার উৎপত্তি ঘটে।
অতিরিক্ত ধুলাবালির সংক্রমণ
বর্তমানে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষনের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ধুলাবালি এবং সেই ধুলাবালির সাথে মিশ্রিত রোগজীবাণু সহজেই এপিডার্মিসে অনুপ্রবেশ করে স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত করে অ্যাকনি সৃষ্টি করছে।
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ
ধুলাবালির সাথে কিংবা বাতাসের সাথে ভেসে এসে ব্যাকটেরিয়া যেকোনোভাবে ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তা ভেতরে অনুপ্রবেশ করে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করে।
রক্তের প্রদাহ বা ইনফেকশন
রক্তে এলার্জি, প্রদাহ কিংবা ইনফেকশন থাকলে তা এই সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। রক্ত সারাদেহে অক্সিজেন প্রবাহিত করে চালু রাখে আমাদের হৃদস্পন্দন, সেই রক্তেই যদি থাকে এমন কোনো সমস্যা , সেটি অ্যাকনি উৎপত্তির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
জীবনযাপনের পদ্ধতি অর্থাৎ লাইফস্টাইলের ধরন এলোমেলো হলে সেটিও এই সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে। আপনার যদি দিনে পানি খাওয়া একদমই না হয়, তৈলাক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ফাস্টফুড যদি আপনার রোজকার রুটিনে যুক্ত থাকে, দেরিতে ঘুমিয়ে, এক্সারসাইজ না করে , খাবারের বেহাল অবস্থা, এসবকিছুর কারণে এই সমস্যা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
বেপরোয়া খাদ্যাভ্যাস ও নিদ্রাহীনতা
ত্বকের সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করা হয় পানি কম খাওয়ার বদভ্যাসকে । এছাড়াও তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার, ভালো কার্ব না খেয়ে খারাপ কার্বগুলোকে রুটিন বানিয়ে নেয়া, সকালের খাবার দুপুরে আর দুপুরের খাবার না খেয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বদভ্যাসও দায়ী। রাত জেগে থাকলেও এর সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
ভারী মেকআপ দীর্ঘসময় পর্যন্ত রাখা
ভারী মেকআপ দীর্ঘসময় পর্যন্ত মুখে রেখে দিলে কিংবা সুন্দর লাগছে ভেবে রাতভর মেকআপ নিয়েই ঘুমিয়ে গেলে ব্রণ ওঠার সম্ভাবনা এবং ত্বকের ক্ষতি হওয়ার প্রবল সভাবনা থাকে।
অপরিষ্কার মেকআপ ব্রাশের পুণ:ব্যাবহার
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমরা মেকআপ শেষে কিংবা প্রোগ্রাম শেষে বাসায় ফিরে মেকআপ ব্রাশ গুছিয়ে রাখার আগে সেগুলো স্যানিটাইজ এবং পরিষ্কার করিনা। আলসেমি করে সেই একই ব্রাশ পরবর্তীতে আবার ব্যাবহার করি যেগুলোতে আগের মেকআপ কনিকাগুলো রয়ে গেছে। এটি মারাত্মকভাবে ত্বকে এই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
অযত্ন ও অবহেলা
প্রায়ই আমরা ব্যাস্ততার কারনে প্রতিদিনের ত্বকের যত্ন তো দূরে থাক সপ্তাহে একদিন যত্ন নেয়ার সময় পাই না। অযত্ন আর অবহেলায় ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও নির্জীব হয়ে যায়। তখনই ব্রণ মহাশয় সুযোগ পেয়ে যায় আগমণ করার। ত্বকের অযত্ন এটি সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকেও এই সংক্রমণ হতে পারে। ডিপ্রেশন, রাত জাগা, অধিক দুশ্চিন্তা থেকে জ্বালাপোড়া ও ফুসকুড়ি উৎপত্তি হতে দেখা গেছে।
ব্রণ কি কি ধরনের হতে পারে?
এটি প্রধানত ৯ ধরনের হয়ে থাকে। ব্রনের ধরনগুলো সম্পর্কে চলুন জেনে নেই-
- ভালগারিস(Acne Vulgaris): মুখে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব হলে কিংবা ত্বকে তেল অধিক উৎপাদিত হলে ভালগারিস ধরনটির সংক্রমণ হতে পারে। এটি বয়সন্ধিকালে শুরু হতে দেখা যায় তবে যেকোনো বয়সের পুরুষ বা মহিলার হতে পারে।
- মেকানিকা(Acne Mechanica): খেলোয়াড়রা কিংবা সৈনিকেরা আটসাট পোশাক অর্থাৎ টাইট পোশাক দীর্ঘসময় যাবৎ পড়ে থাকেন বলে তাদের লোমকূপ অতিরিক্ত চাপের প্রভাবে আটকে এটি সৃষ্টি হতে পারে। মেকানিকা সাধারণত বুকে, কাধে, পিঠে, মাথার স্ক্যাল্পে কিংবা শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।
- পুস্টুলেস(Pustules): স্ফীত ছোট ছোট র্যাশের ন্যায় লালভাব এবং ফোলা ভাব দেখা দিলে সেটাকে পুস্টুলেটস বলা হয়। সাধারণত সেনসিটিভ অর্থাৎ সংবেদনশীল ত্বকে পুস্টুলেটস বেশি হতে দেখা যায়।
- প্যাপিউলস(Papules): প্যাপিউল সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ের একটি স্তর যেখানে হাল্কা গোলাপী বা লাল র্যাশের মত দাগ বা ফোলাভাব দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বাইরে থেকে প্যাপিউল বোঝা না গেলেও স্পর্শ করলে অনুভব করা যায়।
- ব্ল্যাকহেডস(Blackheads): ছেলে কিংবা মেয়ে ব্ল্যাকহেডস হয়নি এমন কাউকে খুজে পাওয়া দুষ্কর। ব্ল্যাকহেডস ত্বকের লোমকূপগুলোকে আটকে দেয়, ধুলাবালিকে ত্বকে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেয় এবং রোমশ কালো ছোট দাগ বা অংশ দেখা যায়।
- হোয়াইটহেডস(Whiteheads): হোয়াইটহেডস ও ব্ল্যাকহেডস এর মতই এপিডার্মিসের ভেতরে অবস্থান করে। সাধারণত বয়সন্ধিকালে, হরমোনাল সমস্যাজনিত তৈলাক্ত ত্বকে, ভারসাম্যহীন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া খাবার খেলে হোয়াইটহেডস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- নডিউলস(Nodules): নডিউলসকে ব্লাইন্ড পিম্পল নামে ও অভিহিত করা হয়ে থাকে। ত্বকের এপিডার্মিসে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক অনুপ্রবেশ করলে নডিউলস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নডিউলস মারাত্মক একটি রুপ এবং এটি ত্বকে কালো দাগ সৃষ্টি করে।
- সিস্ট(Cyst): সিস্ট তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ও মারাত্মক একটি ধরন। সিস্ট হলে লোমকূপ আটকে যায় এবং এপিডার্মিসের ভেতরে ত্বকের মৃত কোষের অংশ সহকারে ফোলা অংশ পুজে ভরে যায়। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় কিংবা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের হরমোনের তারতম্যের কারনে সিস্ট হয়ে থাকে।
ব্রণের স্টেজ কয়টি ও কি কি?
- প্রথম স্তর( প্রদাহবিহীন): এই পর্যায়ে খুবই সাধারণ প্যাপিউলস বা পুস্টুলেস হতে দেখা যায়।
- দ্বিতীয় স্তর(মারাত্মক ধরনের প্রদাহবিহীন): এই পর্যায়ে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দেখা যায়, সেইসাথে প্যাপিউলস বা পুস্টুলেস এর মাত্রা বেড়ে যায়।
- তৃতীয় স্তর(প্রদাহজনিত): এই পর্যায়ে প্যাপিউলস ও পুস্টুলেস এর ভেতরে পুজের পরিমাণ বেড়ে যায়, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস বেড়ে যায় সেইসাথে নডিউলস এর উপস্থিতি দেখা যায়।
- চতুর্থ ও শেষ স্তর( মারাত্মক প্রদাহজনিত): এটি সর্বশেষ ও মারাত্মক স্তর। এই স্তরে প্যাপিউলস, পুস্টুলেস, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এর পরিমাণ ও পুজের পরিমাণ বেড়ে যায়। নডিউলস মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং সিস্ট দেখা যায়।
পিম্পল শরীরের কোথায় কোথায় হয়ে থাকে?
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে পিম্পলসের রয়েছে বিভিন্ন ধরন, স্টেজ বা স্তর এবং সেইসাথে এটি যে শুধু মুখেই হয় তাই নয়, এটি হতে পারে বুকে, কাধে, পিঠে, পায়ে, মাথার স্ক্যাল্পে এমনকি নিতম্বেও। অবাক লাগছে? জ্বি অবাক হওয়ারই কথা। বস্তুত মুখ হচ্ছে সৌন্দর্যের রাজধানী, যেখানে এই সমস্যা হচ্ছে উচ্ছিষ্ট পচে যাওয়া নর্দমা। তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য প্রধানত থাকে মুখ থেকে এর দাগ সরানো। কিন্ত শরীরের অন্যান্য স্থানে হলেও তা ভাগাতে হবে কেননা সেটা থেকে পরবর্তীতে হতে পারে মারাত্মক কোনো চর্মরোগ। তাই এটি শরীরের যেখানেই হোক না কেনো সেটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সেটার সমাধান বের করতে হবে।
চলুন জেনে নেই ব্রণ সাড়ানোর ৩০ টি ঘরোয়া উপায়
শুষ্ক ত্বকের জন্য
- বাষ্প ও তরমুজের রস: বাষ্প বা গরম পানির ভাব ত্বকের লোমকূপ আলগা করে খুলে দেয়, এবং এনে দেয় প্রশান্ত কোমলতা। বাষ্প নেয়ার পর সংক্রমণের জায়গা মুছে তরমুজের রস ব্যাবহার করলে অ্যাকনি তো দূর হবেই সেই সাথে স্কিন হবে টানটান ও উজ্জ্বল।
- টি ট্রি অয়েল: এই তেলটি আক্রান্ত জায়গায় ব্যবহার করলে দ্রুত অ্যাকনি থেকে উপশম পাবেন এবং ত্বক হবে মসৃণ।
- ল্যাভেন্ডার অয়েল: ল্যাভেন্ডার অয়েলে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমিয়ে সমস্যা দূর করে।
- তুলসি পাতার রস: তুলসী পাতার রস সংক্রমণের জায়গায় ব্যাবহার করলে এটি দ্রুত দূর হয়। এছারাও তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।
- এলোভেরা: কচি এলোভেরা রাতে সংক্রমণের জায়গাসহ মুখে ব্যাবহার করে সকালে ধুয়ে ফেললে ত্বক মসৃণ হয় এবং দাগ দূর হয়।
- মধু: মধুতে রয়েছে এলার্জি-প্রতিরোধী, প্রদাহরোধী, প্রতিরোধী উপাদান যা সংক্রমণকে দূরে রাখে এবং কোমলতা বজায় রাখে।
- শশার রস, চালের গুড়া ও মধু: শশার রস, চালের গুড়া ও মধুর মিশ্রণ ব্রণের সমস্যা প্রতিরোধ করে, হাইড্রেটেড রাখে এবং জেদি ব্ল্যাকহেডস সরিয়ে করে তোলে লাবণ্যময়।
- গোলাপজল ও দারুচিনি গুড়া: দারুচিনি গুড়ার সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট হিসেবে ব্যাবহার করলে অ্যাকনি দূর হয়।
- এলোভেরা জেল, হলুদ গুড়া এবং গোলাপ জল: এই তিনটি উপাদানের মিশ্রণে ব্রণের দাগ দূর হয়, জৌলুস বাড়ে, ত্বক হয় কোমল, প্রানবন্ত।
- আপেল ও মধু: আপেলের রসের সাথে মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করলে সমস্যা দূর হয়।
- কফি, মধু ও চিনি: এই মিশ্রণটি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস এর ক্ষেত্রে ম্যাজিকের মত কাজ করে। এছাড়াও এই মিশ্রন ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে লোমকূপ খুলে দেয়।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
- শশার রস: শশার রস ত্বকের সতেজতা ধরে রাখতে এবং হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহাযয় করে। সেই সাথে শশার রস ডার্ক সার্কেল দূর করে থাকে।
- দারুচিনি ওলেবুর রস: দারুচিনি এবং লেবুর রসের মিশ্রণ এই সমস্যা দ্রুত সাড়াতে পারে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত করে তোলে।
- মুলতানি মাটি: মুলতানি মাটি ত্বকের ঝুলে পরা রোধ করে, প্যাপিউলস এবং পুস্টুলেস দূর করে।
- পেপে ও চালের গুড়া: পাকা পেপে বাটার সাথে চালের গুড়া মিশিয়ে ব্যাবহার করলে তা সহজেই দূর করবে পিম্পল এবং পেপের রস ত্বক উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে।
- চালের গুড়া ও লেবুর রস: চালের গুড়া স্ক্রাবের মত কাজ করে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করে, লেবুর রসের প্রদাহ-প্রতিরোধী উপাদান ত্বকের প্রদাহ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- লেবুর রস: লেবুর রস এ রয়েছে এক্সফোলিইয়েটিং উপাদান, যা লোমকূপ খুলে লাল ফুসকুড়ি সাড়াতে সাহায্য করে।
- টুথপেস্ট: টুথপেস্টে থাকে মেনথল, পুদিনা, লেবুসহ প্রাকৃতিক উপাদানের মিশ্রণ সেইসাথে টুথপেস্ট ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করে। এটি প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে।
- ফেসওয়াশ এবং বেকিং সোডা: যেকোনো সাধারণ রেগুলার ব্যাবহৃত ফেস ওয়াশের সাথে হাফ চা-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ব্যাবহার করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
- মাউথওয়াশ: মাউথওয়াশে থাকে প্রদাহরোধী ফর্মুলা ও পুদিনার সংমিশ্রণ যা পিম্পলকে দূর করতে কার্যকরীভাবে সহায়তা করে।
- তরমুজের রস ও চালের গুড়া: চালের গুড়া আটকে থাকা লোমকুপ খুলে দেয়, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করে এবং ত্বককে কোমল করে।
- আটা: আটা দিয়ে পিম্পল আর বাম্পস দূর করার কথা শুনে চমকে গেলেন? আটা শক্তিশালী এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস বের করে ত্বককে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
- চন্দন কাঠের গুড়া, লেবুর রস ও গোলাপ জল: লেবুর রস লোমকূপ খুলে দেয়, চন্দন কাঠের গুড়া ও গোলাপ জল এর জেদি দাগ দূর করে।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য
- ডিমের সাদা অংশ: এগ হোয়াইট বা ডিমের সাদা অংশ শুধু চুলের জন্য নয় বরং ব্রণ সাড়াতে ম্যাজিকের মত কাজ করে। এটি ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করে মসৃণ করে তোলে।
- বরফ: বরফ এমন একটি কার্যকরী উপাদান যা পিম্পলের দ্রুত সমাধান বলে বিবেচিত। বিশেষত প্রদাহজনিত ক্ষেত্রে একটি সুতি কাপড়ে বরফ জড়িয়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ধরলে দ্রুত আরাম ও উপশম পাওয়া যায়। বরফ ত্বকের লালভাব ও ফোলাভাব কমায়।
- পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতা ত্বকের প্রদাহ দূর করে, অ্যাকনি হওয়ার প্রবনতা কমায় এবং এর শীতলভাব নির্জীবতা দূর করে হাইড্রেটেড রাখে।
- মুলতানি মাটি ও নিমপাতা: মুলতানি মাটি নিমপাতার পেস্টের সাথে মিশিয়ে ব্যাবহার করলে উপকার পাওয়া যায় এবং ত্বকের প্রদাহ নিমপাতা কার্যকরীভাবে দূর করে।
- কাচা হলুদ ও চন্দর কাঠের গুড়া: কাচা হলুদ বাটার সাথে চন্দন কাঠের গুড়া ও গোলাপ জল মিশিয়ে আক্রান্ত জায়গার ওপর প্রয়োগ করলে এটি দূর হয়, ত্বকে ফিরে আসে লাবণ্য।
- নিমপাতা ও চন্দন বাটা: এই মিশ্রনটি ফুসকুড়ি ও প্রদাহ দূর করে ত্বককে করবে প্রাণবন্ত ও জেদি দাগ দূর করবে।
- শঙ্খচূর্ণ: এই উপাদানটি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যাবহৃত। শঙ্খ থেকে শাখা তৈরী ছাড়াও ব্রন সাড়াতে এই উপাদানটি অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে। এই গুড়া পিম্পল দূর করে এবং সেই সাথে জেদি দাগ ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
ব্রণ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে কোন ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যাবহার করবো?
পিম্পল থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এর জন্য বিশেষভাবে তৈরী ফেসওয়াশ ও ক্লিনজার পাওয়া যায় যেগুলো প্রতিদিন ব্যাবহারে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কার্যকরী হলেও সেগুলো এই সমস্যা সাড়াতে কিছুটা সময় নেয়। আপনার যদি সামনে কোনো প্রোগ্রাম কিংবা নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকে সেক্ষেত্রে দ্রুত এটি সাড়ানোর জন্য নিম্নে বর্ণিত ফেসিয়াল ওয়াশ ও ক্লিনজারগুলো ব্যাবহার করকে দ্রুত সমাধান পাবেন কেননা সেগুলো বিশেষভাবেএর প্রতিকার ও এর দাগ দূর করার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। চলুন জেনে নেই সেই প্রোডাক্টগুলোর নাম ও সেগুলো কোন ত্বকের জন্য ভালো হবে।
ব্রণের জন্য দ্রুত কার্যকরী বেস্ট রেটেড কিছু ফেস ওয়াশ ও ক্লিনজার
ফেসিয়াল ওয়াশ কিংবা ক্লিনজার সাধারণত তিনটি ধরনে ও ঘনত্বে পাওয়া যায়- ফোমিং ফেসিয়াল বা ক্লিনজার, ক্রিম ফেসিয়াল ওয়াশ বা ক্লিনজার এবং জেল ফেসিয়াল ওয়াশ বা ক্লিনজার।
- ফোমিং ফেসিয়াল বা ক্লিনজার: এগুলো অয়েল কন্ট্রোলে ভূমিকা রাখে এবং জেদি দাগ দূর করে। এই ধরনের ফেস ওয়াশ কিংবা ক্লিনজার অয়েলি এবং কম্বিনেশন স্কিনের জন্য ভালো।বেস্ট ফোমিং ফেসিয়াল ও ক্লিনজারগুলো হলো-
ক্রিম ফেসিয়াল ওয়াশ বা ক্লিনজার:
এগুলো রুক্ষ, শুষ্ক ও নির্জীব ত্বকের জন্য ব্রণ প্রতিরোধী প্রোডাক্ট। ক্রিম ফেসিয়াল ও ক্লিনজারগুলো হলো
জেল ফেসিয়াল ওয়াশ বা ক্লিনজার:
জেল ফেস ওয়াশ বা ক্লিনজার সব ধরনের ত্বকে ব্যাবহার উপযোগী। জেল ফেসিয়াল ও ক্লিনজার হলো-
ব্রণ প্রতিরোধ ও দাগ দূর করার জন্য কি কোনো ফেসিয়াল মাস্ক পাওয়া যায়?
কিছু ফেসিয়াল মাস্ক আছে যা জেদি দাগ প্রতিরোধে এবং ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করেএই সমস্যাকে ভাগায় চিরতরে। চলুন জেনে নেই বাংলাদেশের টপ ক্লাস
এন্টি-অ্যাকনি ফেসিয়াল মাস্কগুলোর নাম-
ব্রণ প্রতিরোধে কোন খাবারগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে?
- তৈলাক্ত খাবার;
- ভাজাপোড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার;
- ফাস্টফুড;
- আইসক্রিম;
- চকোলেট;
- অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট;
- পরিশোধিত চিনি;
- দুগ্ধজাত খাবারসমূহ;
ব্রণ প্রতিরোধে কোন খাবারগুলো বেশি খেতে হবে?
- বেশি পরিমাণে পানি।
- টাটকা শাক-সবজি।
- মৌসুমি ফলম।
- ঘরোয়া কম তেলযুক্ত বা সেদ্ধ খাবার।
ব্রণ প্রতিরোধে ও এর দাগ দূর করতে কোন কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে?
- সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা;
- অতিরিক্ত তেল ফেশ ওয়াশ বা ক্লিজার দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করা;
- স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপন মেনে চলা;
- বেশি পরিমানে পানি খাওয়া;
- সানব্লক ও ফেসিয়াল সিরাম নিয়মিত ব্যাবহার করা;
- ব্রণ-প্রতিরোধী মাস্ক সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন মুখে ব্যাবহার করা;
- স্বাস্থ্যসম্মত মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যাবহার করা;
- মেকআপ ব্রাশগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা;
- রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেক আপ তুলে তারপর মুখ পরিষ্কার করে ঘুমাতে যাওয়া;
- পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো;