৩০ না পেরোতেই চেহারায় বয়সের ছাপ? রিংকেলস আর চোখের নিচের বলিরেখা থেকে মুক্তির উপায় খুজছেন? ব্রণ ওঠার প্রবণতা থামাতে পারছে না কিছুতেই? মুখের ধুলাবালি সূক্ষ্মভাবে ত্বকের লোমকূপে প্রবেশ করে ব্রণ সৃষ্টিতে দারুণ সাহায্য করে আপনার মুখের বারোটা বাজিয়ে দেয়। ডাবল চিনের সমস্যা দূর করতে অনেকেই ছোটেন পার্লারে, কেউবা করান সার্জারি। তবে ত্বকের টানটান ভাব আর তারুণ্য বজায় থাকলে ডাবল চিন থেকে থাকবেন মুক্ত, ত্বক হবে উজ্জ্বল, মসৃণ ও তারুণ্যদীপ্ত। বয়স ধরে রাখতে এন্টি-এজিং ক্রিম লাগিয়েও হচ্ছে না সমাধান? আপনার ত্বকের সূক্ষ্ম ময়লা, অদেখা জীবাণু, ধুলাবালি, ব্রণ বা র্যাশের তীব্রতা কিংবা বার্ধক্যের ছাপ দূর করে তারুণ্য ধরে রাখবে সহজেই মাত্র একটি পণ্য আর তা হচ্ছে টোনার। অনেকেই মনে করেন টোনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই কিন্ত টোনারের কার্যকরীতা জানলে আপনিও চমকে উঠবেন আর ব্যবহার করতে শুরু করবেন। বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তাহলে জেনে নেই টোনার কি?কত ধরনের? এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, কখন ব্যবহার করা উচিত? ঘরোয়া উপায়ে তৈরীর নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত।
টোনার কি?
টোনার হচ্ছে ত্বকের ক্ষুদ্র অদৃশ্য সূক্ষ্ম জীবাণু, ধুলাবালি, ময়লা, মেকআপের সূক্ষ্ম কণা, সানব্লকের অবশিষ্টাংশ দূর করার কার্যকরী এক পণ্য। এটি ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় থাকা অতিরিক্ত তেল নিঃসরন বিরত রাখে এবং ময়লা-জীবাণু দূর করে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে দীর্ঘক্ষণ সহজেই। টোনার ত্বকের কুচকে যাওয়া, বয়সের ছাপ, চোখের নিচের কালচে ভাব, বলিরেখা ইত্যাদি দূর করে ত্বকের তারুণ্য ও লাবণ্য ধরে রাখবে, ত্বককে রাখবে সতেজ ও প্রাণবন্ত। মলিনতা ও ক্লান্তিভাব দূর করে ত্বককে রাখে উজ্জ্বল, ধরে রাখবে যৌবনের উচ্ছলতা, বয়স থামিয়ে দিবে নিয়মিত ব্যবহারে। টোনার লোমকূপের গভীরে প্রবেশ করে অদৃশ্য জীবানূ ও ধুলাবালি চুম্বকের মত টেনে বের করে এবং সেইসাথে ত্বক হাইড্রেটেড রাখে। এছাড়াও টোনার সানবার্ন ও ট্যানিং এর কালচেভাব কমিয়ে ত্বকের টোন উজ্জ্বল করে। ত্বকের কোষগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ভেতর থেকে ময়শ্চারাইজডও করে টোনার।
টোনার কত ধরনের হয়ে থাকে?
টোনারের টেক্সচার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ভিত্তিতে টোনারকে তিনভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সেগুলো হচ্ছেঃ
- মাইসেলার টোনার: এটি লিকুইড ও জেল দুই ধরনেই পাওয়া যায়। এটি ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে ত্বকে মসৃণ রাখে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- প্রাকৃতিক নির্যাস-সমৃদ্ধ টোনার: বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে এই টোনার তৈরী করা হয়। এতে এলোভেরা, শসা, গোলাপ কিংবা এভোক্যাডো ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানের নির্যাস থাকতে পারে।
- ঘরোয়া উপায়ে তৈরী টোনার: বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান বা তাদের রস নিংড়ে ঘরে বসেই বানিয়ে নেয়া যায় চমৎকার কার্যকরী টোনার।
টোনার কিভাবে কাজ করে?
টোনার এর ক্ষুদ্র ওয়াটার-বেজড কণাগুলো ত্বকের লোমকূপ থেকে মৃত কোষ আলগা করে লোমকূপের ছিদ্র উন্মুক্ত করে দেয়। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে চুম্বকের মত ধুলাবালি-ময়লা, জীবাণু, মেকআপের ছোট কণা, জেদি ধুলিকনা টেনে বের করে এবং একইসাথে ত্বকের অতিরিক্ত তেল বা সিবাম নিঃসরণ প্রতিরোধ করে। টোনার ত্বকের PH ব্যালেন্স করে কোমলতা ও মসৃণতা বজায় রাখে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। বয়সের ছাপ ও বলিরেখা, কুচকে যাওয়া ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল করে ধরে রাখে তারুণ্য, আপনাকে করে চিরযৌবনা।
টোনার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- প্রথমে মুখ পানি দিয়ে ভিজিয়ে একটি ভালোমানের ফেসওয়াস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
- মুখ একটি টিস্যু দিয়ে হালকা চেপে চেপে মুছে নিন।
- ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনার কটন প্যাডে বা কটন বলে লাগিয়ে মুখে আলতো করে চেপে চেপে সম্পূর্ণ মুখে ড্যাব ড্যাব পদ্ধতিতে প্রয়োগ করুন। আপিনি মুখে টোনার স্প্রে করেও ব্যভার করতে পারেন।
- ৫-৭ মিনিট অপেক্ষা করুন।
- এরপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- তারপর টিস্যু বা টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছে ময়শ্চারজার লাগিয়ে নিন।
চলুন একনজরে জনপ্রিয় কিছু মাইসেলার ও প্রাকৃতিক নির্যাস-সমৃদ্ধ টোনার দেখে নেই
মাইসেলার টোনারঃ
প্রাকৃতিক নির্যাস-সমৃদ্ধ টোনারঃ
ঘরোয়া উপাদান দিয়েই বানিয়ে নিন ফেস টোনার। জেনে নিন সহজ উপায়
- অ্যালোভেরা: এটি প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করে।রাতে অ্যালোভেরা মুখে লাগিয়ে সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- গোলাপজল: গোলাপের পাপড়ি পানিতে দিয়ে চুলায় ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেকে একটি বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন। আপনি চাইলে ভালোমানের গোলাপজল কিনেও ব্যবহার করতে পারেন।টোনার হিসেবে গোলাপজল অতুলনীয়।
- ডাবের পানি: ডাবের পানি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করে।এটি বয়সের ছাপ ও বলিরেখা দূর করে ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে।
- গ্রিন টি: গ্রিন টি পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেকে নিন।নিয়মিত ব্যাবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
- শসার রস: শসা কুচি করে বা শসার রস বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকানোর পর ধুয়ে ফেলুন।
- তরমুজ ও কমলার রস: এই দুই ফলের রস ত্বকে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তারপর ধুইয়ে ফেলুন।
- রাইস ওয়াটার বা ভাতের মাড়: চাল ধোয়া পানি এবং ভাতের মাড় উভয়ই ফেস টনার হিসেবে দারুন কাজ করে।
- টমেটো: টমেটোর রস কিংবা টমেটোর টুকরা ত্বকে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।