মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে চিন্তিত? এটি কি এবং কেন হয় জানেন না? পিরিয়ডজনিত ইনফেকশন নিয়ে চিন্তা করছেন? দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চাচ্ছেন? বাজারের এতো এতো স্যানিটারি প্যাড!!! কোনটা ভালো হবে বুঝতে পারছেন না? আজকের এই লিখাটি আপনাকে আপনার সকল দুশ্চিন্তা এবং প্রশ্নের সমাধান দিবে!!!
মাসিক বা পিরিয়ড কি?
অনেকের মনেই এই প্রশ্নটি ঘুরতে থাকে যে পিরিয়ড কি –
পিরিয়ড হল মাসিক চক্রের একটি অংশ যখন একটি মেয়ের জরায়ু থেকে তার যোনি দিয়ে রক্ত বের হয়। এটি একটি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনের একটি অংশ। যা বয়ঃসন্ধির শেষ হয়ে যাওয়ার একটি লক্ষন। প্রতিটি মেয়ের শারীরিক গঠন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে যার উপর ভিত্তি করেই পিরিয়ড হয়ে থাকে। এখন আমরা পিরিয়ড সম্পর্কে কিছু সাধারন তথ্য জেনে নিব যা আমাদেরকে এই বিষয় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। আমাদের মধ্যে থাকা সকল ভুল ধারনাকে দূর করবে।
মাসিক (পিরিয়ড) কেন হয় তা কি জানেন?
আমরা অনেকেই জানি না এটি কেন হয়ে থাকে –
শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পিরিয়ড হয়। হরমোন রাসায়নিক পদার্থ। ডিম্বাশয় হতে কিছু হরমোন যেমন ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন নিঃসরণ হয়ে থাকে। এই হরমোনগুলি জরায়ু বা গর্ভ এর জন্য আবরন তৈরি করে। এই আস্তরণ একটি নিষিক্ত ডিমের সাথে সংযুক্ত হয় এবং বিকাশ শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়। নিষিক্ত ডিম না থাকলে সেই আবরণটি ভেঙ্গে রক্তপাত হয়। তারপর একই প্রক্রিয়া বার বার ঘটতে থাকে। আস্তরণ তৈরি হতে সাধারণত এক মাস সময় লাগে, তারপর ভেঙে যায়। এই কারণেই বেশিরভাগ মেয়ে এবং মহিলাদের মাসে প্রায় একবার তাদের মাসিক হয়।
মাসিক বা পিরিয়ড চক্র কি?
মাসিক চক্র হল একটি প্রক্রিয় যা আপনার শরীরে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলিকে বর্ণনা। আপনার পিরিয়ড বা মাসিক হলে মাসিক চক্র শুরু হয়। আপনার জরায়ুর আস্তরণ ত্যাগ করে এটি নির্গত হয়। এই চক্রটি আপনার প্রজনন ব্যবস্থার অংশ এবং আপনার শরীরকে সম্ভাব্য গর্ভাবস্থার জন্য প্রস্তুত করে। আপনার মাসিকের প্রথম দিন থেকে আপনার পরবর্তী মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় হলো মাসিক চক্র। এই একই প্রক্রিয়া ব্যক্তির স্বাস্থ্য বিবেচনা বিশেষে কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে।
কত বছর বয়স থেকে পিরিয়ড শুরু হয়ে থাকে?
পিরিয়ড নিয়ে যেই প্রশ্নটি সব থেকে বেশি করা হয় টা হলো কোন বয়স থেকে শুরু হয় –
সাধারণত 12 বছর বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু 10 থেকে 15 বছর বয়সের মধ্যে যেকোনো সময় এটি পাওয়া ঠিক আছে। প্রতিটি মেয়ের শরীরের নিজস্ব সময়সূচী আছে। তবে ৮ বছর বয়সের আগে বা 16 বছর বয়সের পরেও এটি শুরু হতে পারে কিছু শারীরিক পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে।সাধারণত, বেশিরভাগ মেয়েদের স্তন এবং পিউবিক চুল বৃদ্ধির কয়েক বছরের মধ্যে মাসিক হয়। মেনোপজের সময় মেয়েদের ঋতুস্রাব বন্ধ করে যায়, যা প্রায় ৫১ বছর বয়সে ঘটে থাকে। যদি আপনার এক বছরের বেশি সময় পিরিয়ড না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার মেনোপজ সময় চলে এসেছে।
মাসিক চক্র কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে?
এই চক্রটি সাধারনত ২৮ দিনের হিয়ে থাকে। তবে এর দৈর্ঘ্য এরচেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। একটি সাধারণ চক্র ২১ থেকে ৩৮ দিনের মধ্যে স্থায়ী হয়। হদিউ সেটি ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে তাহএল তাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে চিন্তার কন কারন নেই।
মাসিক শুরু হলেই কি পিরিয়ড নিয়মিত হয়?
একটি মেয়ের মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর এটি নিয়মিত নাও হতে পারে। এটি প্রথমে স্বাভাবিক এবং ভয়ের কোনো বিষয় নয়। প্রথম পিরিয়ডের প্রায় ২-৩ বছর পর, একটি মেয়ের পিরিয়ড প্রতি ৪-৫ সপ্তাহে একবার হওয়া উচিত। এটি আরো আগেও স্বাভাবিক হতে পারে।
একটি স্বাভাবিক মাসিক কতদিন হয়ে চলে?
পিরিয়িড সাধারনত ৫ দিন হয়ে থাকে। তবে এই সংখ্যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম বা বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ মেয়েদের মাসিক তিন থেকে সাত হয়ে থাকে।
মাসিক চক্রে কি কি ধাপ রয়েছে চলুন জেনে নেই
- মাসিক পর্যায়: এই পর্বটি মাসিকের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়। যদি গর্ভাবস্থা না ঘটে থাকে তখন আপনার যোনি দিয়ে আপনার জরায়ুর আস্তরণ বেরিয়ে যায়। বেশিরভাগ মেয়েদের তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্য রক্তপাত হয়, তবে মাত্র তিন দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়।
- ফলিকুলার পর্যায়: এই পর্যায়টি পিরিয়ড হওয়ার দিন থেকে শুরু হয় এবং ডিম্বস্ফোটনের সময় শেষ হয়। এই সময়ে, ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে জরায়ুর আস্তরণ বৃদ্ধি পায় এবং ঘন হয়। এছাড়াও, আরেকটি হরমোন – ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন ডিম্বাশয়ে ফলিকলগুলিকে বৃদ্ধি করে। ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে, বিকাশিত ফলিকলগুলির মধ্যে একটি সম্পূর্ণরূপে পরিপক্ক ডিম গঠন করবে।
- ডিম্বস্ফোটন: এই পর্যায়টি ২৮ দিনের মাসিক চক্রের প্রায় 14 দিনে ঘটে। অন্য হরমোন – লুটিনাইজিং হরমোন হঠাৎ বৃদ্ধির ফলে ডিম্বাশয় তার ডিম্বাণু নিঃসরণ করে থাকে।
- লুটেল পর্যায়: এই পর্যায়টি প্রায় ১৫ দিন থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে যায় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব দিয়ে জরায়ুতে যেতে শুরু করে। গর্ভাবস্থার জন্য জরায়ু আস্তরণ প্রস্তুত করতে সাহায্য করার জন্য প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যদি ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয় এবং নিজেকে আপনার জরায়ু প্রাচীরের সাথে সংযুক্ত করে , তাহলে গর্ভবতী হবেন। গর্ভাবস্থা না ঘটলে, ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যায় এবং আপনার পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পুরু আস্তরণ পড়ে যায়।
মাসিক বা পিরিয়ড লক্ষনগুলো কি কি?
কেউ কেউ মাসিকের লক্ষণগুলি অনুভব করে এবং অন্যরা করে না। এই লক্ষণগুলির তীব্রতাতেও পার্থক্য হতে পারে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এই লক্ষনগুলো পিরিয়ডের আগে দেয়। আবার কারো কারো পরে দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল ক্র্যাম্প বা ব্যাথা। শ্রোণী অঞ্চলে বা নিতম্বে যে ক্র্যাম্পিং অনুভুত হয় সেটি জরায়ু তার আস্তরণটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য যে সংকোচন করে তার ফলে হয়ে থাকে।
মাসিকের অন্যান্য লক্ষণগুলি হল:
- মেজাজ পরিবর্তন।
- ঘুমের সমস্যা।
- মাথাব্যথা।
- খাবারের ক্ষুধা।
- চেহারা ফুলে যাওয়া।
- ব্রণ।
অনিয়মিত পিরিয়ড কোনটি?
মেয়েদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং চিন্তার বিষয় হলো অনিয়মিত পিরিয়ড যা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অনিয়মিত ঋতুস্রাব এমন কিছু বর্ণনা করে যা স্বাভাবিক মাসিক নয়। আমরা অনেকেই এটি বুঝি না বা আমদের ধারনা সঠিক নয়। প্রত্যেকের এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে এবং বুঝতে হবে যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি।
অনিয়মিত সময়ের কিছু উদাহরণ হল –
- ২১ দিনের কম বা ৩৫ দিনের বেশি ব্যবধানে ঘটে।
- তিন মাস (বা ৯০দিন) মাসিক না হওয়া।
- মাসিক প্রবাহ যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বা কম।
- রক্তপাতের সময়কাল সাত দিনের বেশি স্থায়ী হয়।
- প্রচণ্ড ব্যথা, ক্র্যাম্পিং, বমি বমি ভাব বা বমি হয়।
- মাসিকের মধ্যে রক্তপাত বা দাগ দেখা যায়।
আপনি কিভাবে আপনার পিরিয়ড ট্র্যাক করবেন?
মাসিকের সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া একটি ভাল পদক্ষেপ। পিরিয়ড না হওয়াটা একটা বড় ব্যাপার নাও মনে হতে পারে, কিন্তু অনিয়মিত পিরিয়ড একটা বড় সমস্যা হতে পারে। পিরিয়ড স্বাভাবিক কি না তা জানা খুবই প্রয়োজন।
পিরিয়ড ট্র্যাক করতে:
- একটি চিহ্ন দিয়ে ক্যালেন্ডারে পিরিয়ডের প্রথম দিনটিকে চিহ্নিত করতে পারেন।
- বাকি পিরিয়ডের দিনগুলোকেও চিহ্নিত ক্রুন।
- শেষ হয়ে গেলে চিহ্ন করা বন্ধ করে দিন।
- এভাবে পরবর্তী মাসেও চিহ্নিত করুন।
- এমনও অ্যাপ রয়েছে যা এই সব করে যা ফোন বা ট্যাবলেটে ডাউনলোড করা যায়।
এই বিশেষ দিনগুলোতে সুরক্ষিত থাকতে আপনার কি কি করনীয় জানেন কি?
পিরিয়ডের রক্তের সাথে কীভাবে মোকাবিলা করবেন সে সম্পর্কে অনেক পছন্দ রয়েছে। কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল কাজ করে তা খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে কিছুটা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু মেয়েরা শুধুমাত্র একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং অন্যরা বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে।
আমাদের দেশে বেশিরভাগ মেয়েরা প্যাড ব্যবহার করে। বাজারে তো বিভিন্ন ধরনের প্যাড পাওয়া যায়, তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন কোন প্যাডটি আপনার জন্য সঠিক?
প্যাড পছন্দ করতে হতে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে। যেমন –
- আরামদায়ক।
- লিকেজপ্রুফ।
- জ্বালা- জন্ত্রনামুক্ত।
- দুর্গন্ধ দূর করে।
- শুষ্ক রাখে।
কার্যকরী স্যানিটারি প্যাড
আপনার বিভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে সোফি নিয়ে এসেছে ৩ প্রকার স্যানিটারি প্যাড। এটি জাপানিজ টেকনোলোজি ব্যবহার করে স্যানিটারি প্যাড তৈরি করে থাকে। এই প্যাডগুলোতে রয়েছে সুতি কাপর যা আপনার ত্বকের জন্য সুরক্ষিত ও নিরাপদ।
সোফি অ্যান্টইব্যাকটেরিয়া (Sofy Antibacteria)
আরামদায়ক ও জীবাণুমুক্ত স্যানিটারি প্যাড খুজছেন? এই স্যানিটারি প্যাড আপনাকে দিবে ৯৯.৯% ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা। এতে থাকা প্রাকৃতিক নির্জাস আপনাকে দুর্গন্ধ থেকে দূরে রাখবে।
সোফি কুল (Sofy Cool)
এই গরমে আরামদায়ক স্যানিটারি প্যাড খুজছেন? এই স্যানিটারি প্যাড আপনাকে দিবে সতেজতার অনুভূতি কারন এতে রয়েছে মেনথলের সজীবতা যা আপনাকে দীর্ঘক্ষণ ফ্রেশ রাখবে।
সোফি বডিফিট (Sofy Bodyfit)
বারতি সুরক্ষা চাচ্ছেন? এই স্যানিটারি প্যাড আপনাকে দিবে অতি দীর্ঘ লম্বা স্যানিটারি প্যাড, সেই সাথে দিবে এক্সট্রা স্লিম প্যাড যা আপনাকে খুবই হাল্কা অনুভূতি দিবে।