খুশকির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরছেন? বারবার খুশকির আক্রমণে হতাশ? কেনো হচ্ছে খুশকি? খুশকির জন্য সামাজিক অনুষ্ঠানে হচ্ছেন হাসির পাত্র? কিভাবে মুক্তি পাবেন খুশকি থেকে? কোথায় মিলবে সহজ সমাধান!! অনেক প্রশ্ন নিশ্চয়ই ঘুরছে মাথায়!! চলুন জেনে নেই খুশকির আদ্যপান্ত।
খুশকি কি?
খুশকি হচ্ছে মাথার ত্বকে সিবামে অত্যাধিক ছত্রাকের আক্রমণে তৈরী হওয়া মৃত স্ক্যাল্প কোষের সমন্ময়ে সৃষ্ট এক ধরনের সাদা স্তর যা স্ক্যাল্পে চুলকানি , প্রদাহ এবং চুলের ঝড়ে পড়ার কারন হিসেবে কাজ করে। সিবাম হচ্ছে স্ক্যাল্পের সেবেসিয়াস গ্রন্থিতে থাকা তৈলাক্ত পদার্থ যা মাথার ত্বককে ময়শ্চারাইজড, কোমল রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সিবামের অতিরিক্ত গঠন আপনার চুলের ফলিকল কমিয়ে চুলের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে যার কারণে ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং খুশকি তৈরী হয়। খুশকি কোনো মারাত্মক সমস্যা না হলেও এটি পরবর্তীতে স্ক্যাল্পে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস তৈরী করলে আপনার মাথার স্ক্যাল্পে ব্রণ, মারাত্মক প্রদাহ এমনকি পুজের সৃষ্টি করতে পারে।
জানেন কি খুশকি কেনো হয়?
ভাবুন তো খুশকি কি হঠাৎ এমনি এমনিই সৃষ্টি হয়? মোটেই না। খুশকি সাধারণত ছত্রাকের অতিরিক্ত আক্রমণের কারণে হয়ে থাকে । তবে এটিই খুশকি সৃষ্টির একমাত্র কারণ নয়। চলুন জেনে নেই খুশকি তৈরীর প্রধান কিছু কারণ যেগুলোর কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ খুশকি সমস্যায় ভুগে থাকে-
- প্রদাহজনিত ত্বক: ত্বকের নানা ধরন রয়েছে। প্রদাহজনিত বা চুলকানিপ্রবণ ত্বকে খুশকি বেশ আরামেই রাজত্ব করতে পারে কেননা খুশকি সেই ত্বকের সংবেদনশীলতা বেশি থাকে এবং জীবাণু প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। তাই আপনার ত্বক যদি প্রদাহজনিত কিংবা চুলকানিপ্রবণ হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে খুশকি থেকে দূরে থাকতে আপনার নিজের স্ক্যাল্পের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
- শুষ্ক স্ক্যাল্প: শুষ্ক ত্বক থাকলে মাথার স্ক্যাল্পে সিবাম উৎপাদনের পরিমান স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে এবং মাথার ত্বক রুক্ষ থাকে। সেক্ষেত্রে ছত্রাক সংক্রমণের প্রবণতা এবং খুশকির স্তর অধিক ঘন হয় যা মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে চুল ঝড়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে।
- অধিক তৈলাক্ত স্ক্যাল্প: মাথার ত্বক যদি অত্যাধিক তৈলাক্ত হয়, তাহলে বাইরের ধুলাবালি, জীবানু অতি সহজেই মাথার ত্বকে আক্রমণের সুযোগ পায়। সেজন্য ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়ে খুশকি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, মাথার ত্বক অধিক তৈলাক্ত হলে, সেবেসিয়াস গ্রন্থিতে সিবাম উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায় যা চুলের গোড়ায় ছিদ্রগুলো আটকে দেয় এবং ত্বকে খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- কোনো জীবন্ত ছত্রাকের সংক্রমণ: শুধুমাত্র ছত্রাকের আক্রমণেই খুশকি হয় এই ধারণা ভুল। তবে খুশকি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ছত্রাককেই দায়ী করা হয়। ওইযে কথায় আছে না, যত দোষ নন্দ ঘোষ? তবে যা রটে তার কিছু তো অবশ্যই ঘটে, তাই এক্ষেত্রে যেকোনো জীবন্ত ছত্রাকের সক্রিয় সংক্রমণ খুশকির মাত্রা এবং পরিমাণ তো বাড়ায়ই, সেইসাথে খুশকির মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে আপনার মাথার ত্বককে।
- এলার্জির সমস্যা: রক্তে এলার্জি কিংবা এলার্জির প্রবণতা থাকলে ত্বকে প্রদাহ কিংবা চুলকানি বেশি থাকে। এলার্জিপ্রবণ ত্বক থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই খুশকি হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়।
- সংবেদনশীল ত্বক: সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অস্বস্তিভাব নিত্যদিনের সঙ্গী বলেই ধরে নেয়া যায়। এই ধরনের ত্বক বিশেষত শীতের মৌসুমে এতটাই নির্জীব হইয়ে পড়ে যে খুশকির মাত্রা বেড়ে যায়।
জেনে রাখুন কি খুশকি কেন হয়?
- ক্ষতিকারক চুলের পণ্যের ব্যাবহার: বাঙালি বলেই ভুলেও সবকিছুতে সস্তা খোজার বাতিক ধরতে যাবেন না। কম দামে বিক্রি হওয়া কিংবা নকল পণ্যের ব্যাবহার মাথার ত্বকে প্রচুর ক্ষতি সাধন করে এবং সেইসাথে খুশকি প্রবণতা বাড়ায়। আবার কমদামী চুলের রঙ, শ্যাম্পু , কন্ডিশনার সবকিছুতেই ক্ষতিকারক কেমিক্যাল পাওয়া যায় যা খুশকির অন্যতম প্রধান কারণ এবং সেইসাথে মারাত্মক চর্মরোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- জটিল চর্মরোগ: পারকিনসন, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি মারাত্মক ধরনের চর্মরোগের সাথে খুশকির সংক্রমণ খুবই সহজাত ঘটনা এবং এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই চর্মরোগের পাশাপাশি খুশকির প্রতিরোধ করতে হবে কেননা খুশকি সৃষ্টিকারী ছত্রাক আপনার স্ক্যাল্প এর চর্মরোগকে আরো মারাত্মক রূপ নিতে সহায়তা করতে পারে।
- সঠিক শ্যাম্পু ব্যাবহার না করা: অনেকেই জানেন না যে মাথার ত্বকের ধরন বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হয়। কেননা একেক ধরনের স্ক্যাল্পের জন্য একে ধরনের শ্যাম্পু প্রয়োজন এবং শ্যাম্পু কোম্পানিগুলো চুলের বিভিন্ন ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু তৈরী করে থাকে। আপনাকে আপনার চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হবে। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ নিজের চুলের ধরন জানেই না এবং আন্দাজেই যেকোনো শ্যাম্পু ব্যাবহার করা শুরু করে দেয় যা একদমই অনুচিত। চুলের ও মাথার স্ক্যাল্পের ধরন অনুযায়ী সঠিক শ্যাম্পু ব্যাবহার না করার কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ খুশকির শিকার হয়ে থাকেন।
- চুলের অযত্ন: চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা না করা, শ্যাম্পু নির্বাচনে ভুল করা, ঠিকমতো চুল পরিষ্কার না রাখা, চুলের মারাত্মক অবহেলা ও অযত্নে খুশকি বাড়ে পরম শান্তিতে।
চলুন জেনে নেয়া যাক খুশকি কি কি ধরনের হয়ে থাকে
- শুষ্ক ত্বকের খুশকি: শীতকালে কেনো খুশকির সংক্রমণ বেড়ে যায় জানেন? কারণ ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনি যদি জন্মগতভাবেই শুষ্ক ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকেন কিংবা কোনো চর্মরোগের কারণে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে আপনার স্ক্যাল্পে খুশকি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। শুষ্ক ত্বকের খুশকি সাধারণত ছোট হালকা স্তরের মৃত চামড়া কিংবা ফুসকুড়ির ন্যায় হয়ে থাকে। গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার কারণেও এই ধরনের খুশকি হতে পারে।
- তৈলাক্ত ত্বকের খুশকি: ভাবছেন খুশকি শুধু শুষ্ক ত্বকেই বাসা বাধে? ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা অনেকেই জানিনা মাথার ত্বক অর্থাৎ স্ক্যাল্পে তেলের উৎপাদনের পরিমাণ যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকে তাহলে আপনার স্ক্যাল্প তৈলাক্ত বলেই ধরে নেয়া যায়। কিভাবে বুঝবেন তেল বেশি উৎপাদিত হচ্ছে?
- ছত্রাকজনিত খুশকি: বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে যখন খুশকি হয়, সেটাই ছত্রাকজনিত খুশকি। অনেক ছত্রাকই খুশকি হওয়ার জন্য দায়ী হলেও ম্যালাসেজিয়া নামক ছত্রাকই খুশকি সৃষ্টির প্রধান কান্ডারী। এই ধরনের খুশকিগুলো বড় আকারের, আঠালো ধরনের এবং গাঢ় বর্ণের হয়ে থাকে। এই খুশকির সংক্রমণে মাথার ত্বকে প্রদাহ ও চুলকানি হতে পারে এবং স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যায়।
চর্মরোগের কারনে কি খুশকি হতে পারে?
জ্বি, অবশ্যই। কিছু জটিল চর্মরোগ প্রদাহ, চুলকানি , ব্রণ ও পুজভর্তি ফুসকুড়ি সৃষ্টির পাশাপাশি খুশকিও সৃষ্টি করে থাকে। চলুন দেখে নেই কোন কোন চর্মরোগের কারণে মাথার ত্বকে এবং সেইসাথে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুশকির ন্যায় ফুসকুড়ি তৈরী হতে পারে-
- সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: এটি একটি জটিল চর্মরোগ যাকে খুশকির মারাত্মক পর্যায় বলে বিবেচনা করা হয়। এটি সাধারণত প্রদাহ, মারাত্মক জ্বালাপোড়া, র্যাশ, লালভাব ও চুলকানি সৃষ্টি করে থাকে। এই খুশকি নবজাতক ও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।
- একজিমা: এটি দেখতে বড় খুশকির আস্তরণ ও লাল ফুসকুড়ির ন্যায় যা প্রদাহ এবং চুলকানি তৈরী করে। একজিমাকে এটোপিক ডার্মাটাইটিসও বলা হয়ে থাকে।
- সোরিয়াসিস: এটি ত্বকের জায়গায় জায়গায় ছোট অংশ জুড়ে খুশকির পুরু আস্তরণ যা ফ্লেকস এর মতো কিংবা মাছের আশের মত যা মৃত চামড়া হিসেবে উঠে আসে। এই খুশকি দেখতে পাউডারের মতো এবং সাদাটে সোনালী বর্ণের হয়ে থাকে।
- অঞ্জনী: এই ধরনের খুশকি সাধারণত চোখের পাতায়, পাপড়িতে এবং চোখের পাতার কিনারায় হয়ে থাকে। প্রথমে চোখের পাপড়ির ফাকে ফাকে ছোট সাদা পাউডারের ন্যায় পদার্থ থাকলেো পরবর্তীতে এই খুশকি থেকে অঞ্জনীর সৃষ্টি হয়ে থাকে। খুশকির কারণে চোখে সাধারণত দুই ধরনের অঞ্জনী হতে দেখা যায় যেগুলো হচ্ছে স্টাই এবং কেলাজিয়ন।
- স্টাই: চোখের পাপড়ির গোড়ায় তেলক্ষরণকারী জেইস নামক গ্রন্থিতে স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে যে যন্ত্রণাদায়ক ছোট্ট লাল ফুসকুড়ির ন্যায় ফোড়ার সৃষ্টি হয়, সেই অঞ্জনীকে স্টাই বলা হয়। এক্ষেত্রে চোখের পাপড়ির ভাজে ভাজে পাউডারের মত সাদা খুশকি গুড়ো এবং কখনো কখনো চোখের পাতা বেশি ফুলে গেলে তাকাতে কষ্ট হয়, এমনকি ব্যাথায় জ্বর চলে আসতে পারে।
- কেলাজিয়ন: এটিও এক ধরনের অঞ্জনী। সাধারণত চোখের মেবোমিয়াম গ্রন্থিতে চোখের পাতার কিনারায় ছোট্ট ফোলাভাব দেখা যায়। কেলাজিয়নের ক্ষেত্রে ব্যাথার পরিমাণ ও ফোলাভাব স্টাই অঞ্জনীর তুলনায় কম থাকলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী।
খুশকি কোথায় কোথায় হয়ে থাকে?
অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা যে খুশকি শুধু মাথার স্ক্যাল্পে হয়। বস্তুত খুশকি মাথায় ত্বকে, মুখমন্ডলে, শরীরের ভাজযুক্ত স্থানগুলোতে , এবং চোখে আক্রমণ করে থাকে।
খুশকিমুক্ত থাকতে যে বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখবেন-
- নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক খাদ্যাভাস মেনে চলতে হবে;
- প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ দিন শ্যাম্পু করতে হবে;
- আপনার চুলের ধরণ অনুযায়ী ভালো মানের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যাবহার করতে হবে;
- চুলকে যথাসম্ভব ধুলাবালি থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে, প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় স্কার্ফ কিংবা টুপি ব্যাবহার করবেন;
- প্রকৃতিক উপাদানসম্বলিত তেল ব্যাবহার করুন;
- পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন;
- যেকোনো পণ্য ব্যাবহারের পূর্বে ত্বকের ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নিবেন;
- এলার্জি থাকলে উক্ত উপাদান আছ এমন পণ্য ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন;
- পরিমাণমতো ঘুমান;
- শীতকালে চুলের বিশেষ যত্ন নিন;
- খুশকি হওয়া মাত্রই দ্রুত কার্যকরী খুশকিদমনকারী পণ্য ব্যাবহার করা শুরু করুন;
- সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে খুশকিদমনকারী পণ্য অবশ্যই ব্যাবহার করবেন;
কিভাবে মুক্তি পাবেন খুশকি থেকে?
খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া কিছু অসাধারণ টোটকা তো রয়েছেই, সেইসাথে খুশকি দ্রুত সমাধানের জন্য কিছু কার্যকরী উন্নতমানের প্রোডাক্ট রয়েছে যা দেবে খুশকি থেকে দ্রুত মুক্তি এবং সেইসাথে প্রতিরোধ করবে খুশকির পুণরায় ফিরে আসার সম্ভাবনাও। তো চলুন জেনে নেই সেই ঘরোয়া টোটকাসমুহ এবং পণ্যগুলো সম্পর্কে-
খুশকি মুক্তির সহজ ও কার্যকরী ঘরোয়া সমাধানঃ
উষ্ণগরম নারিকেল তেল: নারিকেল তেল হালকা গরম করে মাথার স্ক্যাল্পের সর্বত্র ও প্রতিটি চুলের গোড়ায় বেশ ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে।
লেবুর রস: লেবুর রস একটি পাত্রে নিয়ে মাথার ত্বকে সুন্দরভাবে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। আপনি চাইলে চুলের প্রতিটি ভাজে ভাজে লেবুর টুকরো ঘষে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে খুশকি আরো কার্যকরীভাবে দূর হবে।
নারিকেল তেল ও লেবুর রস: নারিকেল তেল হালকা গরম করে তার স্তাঘে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যাবহার করে ২০-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
নারিকেল তেল ও এসেনসিয়াল অয়েল: নারিকেল তেলের সাথে আপনি রোজমেরী অয়েল, জোজোবা অয়েল ইত্যাদি এসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে ব্যাবহার করতে পারেন।
নারিকেল তেল ও কর্পূর: নারিকেল তেলের মধ্যে কর্পূর তেল ভিজিয়ে রেখে দিয়ে সেই তেল নিয়মিত ব্যাবহার করলে খুশকি দূরীভূত হয়।
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল এর গুনাগুন সম্পর্কে জানেনা এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে। অলিভ অয়েল হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো প্রতিটি চুলের গোড়ায় তেল পৌছাতে পারে।
পেয়াজের রস: পেয়াজের রস যেমন নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি খুশকির সমস্যার সমাধানে বেশ কার্যকরী। মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
রিঠা: চুলের যত্নে রিঠা বেশ কার্যকরী তা কে না জানে? রিঠা পানিতে জ্বাল করে ঠান্ডা করে তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি খুশকি দূর করতে দারুণ কার্যকরী।
মেথি: মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেকে নিয়ে এক্সহেকে নেয়া পানি একটি বাটিতে রেখে মেথি বেটে সেই পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ও মাথার ত্বকে ব্যাবহার করলে খুশকি দূর হয় এবং চুল হয় সিল্কি ও ঝলমলে। আপনি মেথির তেল ও স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন যা খুশকি নিরাময়ে উপকারী।
মসুর ডাল: মসুর ডাল বেটে মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখতে হবে ২০-৩০ মিনিট , এরপর শ্যাম্পু করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি খুশকি দূর করার একটু দ্রুত সমাধান।
খুশকি মুক্তির সহজ সমাধানঃ
মেহেদী: মেহেদী মাথার ত্বককে শীতলতা প্রদানের পাশাপাশি খুশকি দূর করে কার্যকরীভাবে। চুলে ও মাথার ত্বকে সুন্দরভাবে ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
হোয়াইট ভিনেগার বা সাদা সিরকা: এটি চুলের খুশকি দারুনভাবে তাড়িয়ে দেয়। মাথার স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
নিমপাতা: নিমপাতাতে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকনাশক কার্যকরী উপাদান এবং সেইসাথে রয়েছে প্রদাহ দূর করার উপাদান। নিমপাতা স্ক্যাল্পে ব্যাবহার করে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে।
আপেল সাইডার ভিনেগার: এই ভিনেগার ও খুশকি দূর করতে দ্রততমভাবে কাজ করে থাকে। স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে সুন্দরভাবে ধুয়ে ফেলুন।
লবণ: অবাক লাগছে? তাজ্জব হলেও সত্যি যে লবণ কার্যকরীভাবে খুশকি দূর করে। সেক্ষেত্রে আপনি সুন্দরভাবে স্ক্যাল্পে আঙুলের অগ্রভাগের মাধ্যমে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
গ্রীন টি: গ্রীন টি এর দুটি প্যাক পানিতে জ্বাল দিয়ে সেটি ঠান্ডা করে চুল সেটি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
টি ট্রি অয়েল: টি ট্রি অয়েল স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে খুশকি সমস্যায় দারুণ কাজ করে।
মেথি ও নিমপাতা বাটা: মেথি রাতভর ভিজিয়ে রেখে, মেথি ও নিমপাতা আলাদাভাবে ব্লেন্দ করে কিংবা বেটে স্ক্যাল্পের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন আর ঝেড়ে ফেলুন খুশকির যন্ত্রণা।
ওটমিল, দুধ এবং এলমন্ড অয়েল: এলমন্ড অয়েল কিংবা বাদামের তেল উষ্ণ গরম করে হাফ গ্লাস দুধ এবং ভিজিয়ে রাখা ওটমিল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
ডিমের সাদা অংশ এবং অলিভ অয়েল: এগ হোয়াইট বা ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে নিয়ে তার সাথে উষ্ণ গরম করে নেয়া অলিভ অয়েল যোগ করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যামউ করে ফেলুন।
নারিকেল তেল ও জবা ফুল: গাছ থেকে তোলা সতেজ জবা ফুল নিয়ে সেটি নারিকেল তেলে দিয়ে ফুটালে জবা ফুলের নির্যাস নারিকেল তেলের সাথে ভালোভাবে মিশে যায়। এবার এই মিশ্রণটি ঠান্ডা করে কিংবা উষ্ণ অবস্থায় মাথার ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে। এই মিশ্রণ খুশকি কার্যকরীভাবে দূর করে।
খুশকি দ্রুত দূর করার কার্যকরী প্রোডাক্টসমুহঃ
খুশকি দূর করার জন্য তিন ধরনের চুলের পণ্য পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
- খুশকিনাশক শ্যাম্পু
- 2 in 1 খুশকিনাশক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার
- খুশকিনাশক চুলের ক্রিম