ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে কী করবেন? জেনে নিন করণীয় ।

গরম, ঘাম, রোদের তেজ সব মিলেয়ে গরমকাল জনজীবনে এক আতংকের নাম। একদিকে আম, কাঁঠাল, লিচুর মতো মৌসুমী ফলের ছড়াছড়ি অন্যদিকে প্রখর রোদে নাজেহাল অবস্থা। শহরে গরম যেন এক অভিশাপেরই নাম! মানুষজনের হাঁসফাঁস অবস্থা সবখানেই। এসিরুমে যতক্ষণ থাকা যায় ততক্ষণ একটু শান্তি মিলে। তবে বাইরে বেরুলেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। লেবুর শরবত কিংবা লাচ্ছি দেদারসে বিক্রি হয়। বরফজল মেশানো ঠান্ডা শরবত খেয়ে পথিক তৃষ্ণা মেটায়। কর্পোরেট যুবকের শার্ট ভিজে যায় ঘামে। মেয়েরা চিন্তিত থাকে তাঁদের স্কিন নিয়ে। রোদ, ধূলো, গরমের অশান্তি থেকে মুক্তি চায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই। ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে তাই কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়।  গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে কী কী করতে হয়, কী রঙের পোশাক পরলে গরমে স্বস্তি মিলবে, গরমের সময় কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত, গরমে স্বস্তি পেতে যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে, এইসব বিষয়  সম্পর্কে জেনে নিন ।  

গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখার কয়েকটি উপায়

গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখার কয়েকটি উপায়ঃ 

গরমে সবাই চায় বসবাসের জায়গাটা যেন ঠাণ্ডা থাকে। ঘর ঠাণ্ডা রাখাটা গরমকালে এক রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। ভ্যাপসা গরমে প্রাত্যহিক জীবনযাপন করাটা যেন এক যুদ্ধ! সবাই চায় সুশীতল বাতাসে দেহ, মন জুড়াতে । একটু ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়া তখন পরম আরাধ্য। ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে তাই যতদূর সম্ভব ঘর ঠাণ্ডা রাখতে হবে । আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক, আপনার বসবাসের জায়গা কিংবা ঘরটি কিভাবে ঠাণ্ডা রাখবেন- 

  • ৩-৪ বালতি পানি জানলার নিচে রেখে দিন। তাতে পর্দার নিচের অংশটা ডুবিয়ে দিয়ে চালিয়ে দিতে হবে ফ্যান। 
  • ঘরে রোদ আটকানোর জন্য পাতলা পর্দার পরিবর্তে  ভারী পর্দা ব্যবহার করুন । জানলায় মাদুরের পর্দাও ব্যবহার করা যায়। 
  • সাদা বা হালকা রঙের সুতির কাপড় বিছানার চাদর হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বিছানার চাদর মোটা হলে ঘাম বেশি হয়।
  • একটু বেলা বাড়লে ঘরের পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিকের জানালাগুলো বন্ধ করে দিন। 
  • প্রতিদিন দুপুরে ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে আপনার টেবিল বা পোর্টেবল ফ্যানটি জানালার কাছে নিয়ে চালিয়ে দিন। এটি বাইরের ঠান্ডা হাওয়া ভেতরে নিয়ে আসবে এবং ঘরের অসহ্য গরম দূর হবে।
  • বাড়ির চারপাশে গাছ লাগান। বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বেশি করে গাছ লাগান। বাড়ির আশেপাশে গাছ থাকলে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না ৷ ফলে ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। 
  • এসির মতো বাতাসের জন্য টেবিল ফ্যানের সামনে গামলা ভর্তি বরফ রেখে ফ্যান চালিয়ে দিন ৷ নয়তো একটি পানির বোতলে বরফ জমিয়ে ফ্যানের সামনে রাখুন। যখনই ফ্যান চালাবেন, বরফের ঠান্ডা হাওয়া ঘরকে শীতল করে তুলবে৷
  • ঘর ঠাণ্ডা রাখার আরেকটি সহজ উপায় হলো ঘরের ভেতরে গাছের ব্যবহার। গাছ ঘরের ভেতরের তাপ শোষণ করে ঘর ঠাণ্ডা করে। এ জন্য ইনডোর প্লান্ট ব্যবহার করতে পারেন।
ভ্যাপসা গরম থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায়

ভ্যাপসা গরম থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায়ঃ

গরমে ঘর থেকে বের হলেই শুরু হয়ে যায় বিপত্তি। ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যেতে হয়। শরীর ক্লান্ত লাগে।  তাই গরম থেকে বাঁচতে একটু ফুরফুরে মেজাজে থাকতে জেনে  নিন গুরুত্বপূর্ন কিছু টিপস-

১। ত্বকে ঠান্ডা পানির মিস্ট ও বরফের ব্যবহারঃ 

আইস ফেসিয়াল বা সকালে চেহারায় বরফপানির ট্রিটমেন্ট কার্যকরী এক রূপচর্চা। এতে ত্বকের লোমকূপের স্ফীতি কমে যায় বলে সিবাম ও ঘাম-তেলের আধিক্য হয় না। সারা দিনে মাঝেমধ্যে ঠান্ডা পানির মিস্ট স্প্রে করলে তরতাজা অনুভূতি দেয়। রিফ্রেশিং ভেজা ওয়াইপও ব্যবহার করতে পারেন। 

২। অতিরিক্ত মেকআপ না ব্যবহার করাঃ

এমন আর্দ্র আর গরম আবহাওয়ায় মেকআপে মিনিমালিজম খুবই প্রয়োজন। গরমে ফাউন্ডেশনের দরকার নেই। শুধু বিবি ক্রিম বা টোনার, ময়েশ্চারাইজারের পর লুজ পাউডার ব্যবহার করা যায়। সানস্ক্রিন অবশ্যই দিতে হবে।

৩. ঘামের আধিক্য ও দুর্গন্ধের দিকে খেয়াল করাঃ 

গরমে ঘাম থেকে রেহাই মিলে না কারোরই।  কিন্তু যদি তা সীমা ছাড়ায়, অ্যান্টিপার্স্পারেন্ট ব্যবহার করা যায়। ডিওডোরেন্ট তো  মাস্ট। ঘাম ও দুর্গন্ধ নিজের ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘামে ভেজা অন্তর্বাস নিয়মিত বদলে ফেলা উচিত। এতে ফুরফুরে লাগবে নিজেরই। 

৪. উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন করাঃ

ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে ভালোমানের পোশাক নির্বাচন করা উচিত। পোশাকের রঙ এবং ফ্রেবিক দুটোই যেন আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী। হালকা রঙ বেছে নিলে গরমে আরাম পাওয়া যাবে। ঘামে হোক বা বৃষ্টিতে, দ্রুত শুকায় এমন ফেব্রিক নির্বাচন করা উচিত। 

গরমে স্বস্তি পেতে কী খাওয়া উচিত

গরমে স্বস্তি পেতে কী খাওয়া উচিত?

ভ্যাপসা গরমে ভারী, তেলতেলে খাবার  খাওয়া কোনোমতেই উচিত নয়।  গরমে ফাস্টফুড অস্বস্তি বাড়ায়।  এ সময় তাজা রসালো ফল, সালাদ, সবজির নানা পদ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। অনেকেই জানেন না গরমে স্বস্তি পেতে কী খাওয়া দরকার? আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক গরমে স্বস্তি পেতে কী খেতে হবে – 

১। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে ।  

২। প্রয়োজনে স্যালাইন পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

৩। ডিটক্স ওয়াটার গরমের জন্য খুব উপকারি । লেবু পুদিনার শরবতও আপনাকে দিবে স্বস্তি। 

৪। কাচা আম পোড়া শরবত কিংবা তেঁতুলের শরবত খেতে পারেন । 

৫। ডাবের পানির কোনো বিকল্প নেই গরমে ঠাণ্ডা রাখতে।  

৬। রসালো ফল খান যেমন তরমুজ, আনার, আঙুর, সফেদা ইত্যাদি। 

৭। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফল ও সবজি রাখা। 

৮। টক দই, লাচ্ছি এ জাতীয় খাবার খান। 

৯। লাউ, পেঁপে, সজনে ডাটা, করলা এই জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

গরমে স্বস্তি পেতে যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবেঃ  

গরমে কিছু নিয়ম কানুন মেলে চললে তবেই পাবেন স্বস্তি। তাই নিজের আরামের কথা ভেবে কিছু কাজ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের পরিচয়। 

  • কড়া রোদে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।  
  • প্রয়োজন ছাড়া গ্যাস জ্বালাবেন না। 
  • রান্নার সময় ছাড়া গ্যাসের ওভেন বন্ধ করে রাখুন ৷ 
  • রাতে খুব বেশি আলোর ব্যবহার করা যাবে না। 
  • অতিরিক্ত লাইট বন্ধ করে রাখুন।
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান থেকে বিরত থাকুন।
  • মসলা জাতীয় খাবার গ্রহন করা থেকে বিরত থাকুন। 
  • কোমল পানীয় পরিহার করুন । 
  • একইভাবে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বিশেষ করে টিভি না দেখলে বন্ধ করে রাখতে হবে।
  • মোবাইলের চার্জার প্লাগ থেকে খুলে রাখুন ।