চুলের রঙ শুনলেই ড্যামেজ হবার কথা মাথায় চলে আসে? ভাবছেন চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে?মাঝখান থেকে ভেঙে যাবার আতংকে রঙ করার ইচ্ছা স্বত্ত্বেও করতে পারছেন না? অল্প বয়সেই চুল পেকে যাচ্ছে? সাদাটে হয়ে যাচ্ছে? সস্তা, নকল অসংখ্য প্রোডাক্টের ভীড়ে উন্নতমানের পণ্য খুজে পাওয়া আসলেই দুষ্কর। আর তার ওপর রিবন্ডেড হলে তো কথাই নেই। মাথার সামনের দিকে পাতলা হয়ে হতাশ হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যাও কিন্ত কম নয়। ভাবছেন তবু কিভাবে বলছি ড্যামেজমুক্তভাবে পছন্দসই রঙ করার কথা? জ্বি আপনি অবশ্যই পারবেন খুব সহজে নিজের পছন্দের শেড চুলে আনতে। ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই ফ্যাশন সচেতনতার চিহ্ন হয়ে গেছে চুলের রঙ। কেউ কেউ তো আবার বিভিন্ন শেড প্রয়োগ করে পরখ করেন কোনটায় তাকে বেশি ভালো লাগে। তবে প্রয়োগ করার আগে আপনাকে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা, বেছে নিতে হবে উন্নতমানের ভালো ব্র্যান্ডের পণ্য, প্রয়োগের পদ্ধতি হতে হবে সঠিক আর পরের যত্ন তো আছেই। চলুন তাহলে বিস্তারিত জেনে নেই কোন উপায়ে কোনরকম ক্ষতি না করেই কালার করা যাবে!
চুলের রঙ করা বলতে কি বোঝানো হয়?
অল্প বয়সে যদি চুল পেকে সাদাটে ভাব ধারণ করলে কিংবা ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে স্টাইলের জন্য রঙের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক মানুষই জন্মগতভাবে নিজস্ব চুলের বর্ণ নিয়েই পৃথিবীতে জন্মায়। কিন্ত অনেকেই চায় তাদের পছন্দের বর্ণে সাজিয়ে নিজের লুকে নতুনত্ব আনতে ও স্টাইলিস শেড লাগাতে। অনেকে আবার অল্প বয়সে পাকা ধরলে তা থেকে মুক্তির জন্য অনেকে নিয়মিত কালো কালারিং শেড ব্যাবহার করে থাকেন। এইযে আর্টিফিসিয়ালি কোনো প্যাক লাগানোর মাধ্যমে বর্ণের পরিবর্তন হয়, এটাই মূলত রঙ করা যা আর্টিফিসিয়ালি সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য করা স্টাইল।
চুলের রঙ কত ধরনের হয়ে থাকে?
সাধারণত এসব পণ্যের বিভিন্ন শেড রয়েছে। তবে ঘনত্ব বা বাহ্যিক ধরনের ভিত্তিতে এই পণ্য সাধারণত পাউডারি বা ডাই, ক্রিমি এবং স্প্রে আকারে পাওয়া যায়।
- পাউডারি বা ডাই: এটি দেখতে পাউডারের মত। প্রায় সব শেডই পাউডারি কিংবা ডাই ধরন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
- ক্রিমি: বেশিরভাগ ক্রিমজাতীয় পণ্য এর সাথে শেড-বর্ধনকারী ক্রিম বা ডেভোলাপার ক্রিম প্যাকেটের সাথেই দেয়া থাকে। নামীদামী ব্যান্ডগুলোর ক্রিম টেক্সচারের বর্ণগুলো কন্ডিশনিং ক্রিম হিসেবেই পরিচিত, কেননা সেগুলোতে কন্ডিশনার যুক্ত থাকে। এছাড়াও সেই প্যাকেজের সাথে একজোড়া হাতের দস্তানা, প্রয়োগের ব্রাশ, ট্রে সবই দেয়া থাকে।
- স্প্রে: এসব স্প্রে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি কিংবা কয়েক ঘন্টার জন্য প্রয়োগযোগ্য স্প্রে যা স্বল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন শেডের রঙ করার জন্য ব্যাবহার করা যায়।
- স্থায়ী রঙ: এটি দীর্ঘদিন থাকে এবং নতুনভাবে গজালেও প্রয়োগকৃত অংশে থেকে যায়।অস্থায়ী রঙ: একে নন-পারমানেন্ট কিংবা সেমি-পারমানেন্ট বলা হয়ে থাকে। এগুলো কিছুদিন পর ফিকে হয়ে যায়। এবং অনেকবার শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়ার পর প্রায় ফ্যাকাশে ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
চুলের রঙের জনপ্রিয়ও বহুল ব্যাবহৃত কিছু শেড হলো
- গাঢ় কালো: এটি বয়স্ক লোকেরা বেশি ব্যাবহার করে থাকে। যাদের অকালে পাকতে শুরু করে, তারাও গাঢ় কালো কালারিং করে থাকে।
- বাদামী: বাদামী আরেকটি জনপ্রিয় শেড যা বহুলভাবে ব্যাবহার হয়ে থাকে।
- গাঢ় বাদামী: যারা একটু ডিপ ন্যাচারাল ধরনের কালার রাখতে চান, তাদের জন্য এই শেড দারুন সমাধান।
- হালকা সোনালী বা ব্লন্ড: এটি তরুনীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি ছেলেদের ও এটি করতে দেখা যায়।
- অ্যাশ ব্লন্ড: এই শেডও ব্যাপক জনপ্রিয় এবং ট্রেন্ডি। বিশেষ করে এই শেড বর্তমানে তরুণ ও তরুনীদের কাছে বেস্ট শেড বলে বিবেচিত
- অ্যাশ: অনেকেই এই শেড পছন্দ করেন। এতাও অন্যতম জনপ্রিয় একটি শেড।
- সোনালী: সোনালী শেড তরুনীদের ব্যাপক পছন্দের। এমনকি অনেক তরুন এই বর্ণের হাইলাইট করে থাকে।
- বিচ ব্রাউন: এই শেডের বর্ণ অনেকটা বিচের বালুর মত শেড দেয়। এই শেড উজ্জ্বল বর্ণের ত্বকের মানুষদের ক্ষেত্রে সুন্দর লাগবে।
- ক্যারামেল: চিনি কিছুক্ষণ চুলায় জ্বাল করলে যে বাদামি লালচে বর্ণ তৈরী হয় সেটাই ক্যারামেল শেড। যারা লাল মানাবে কিনা এমন ভয়ে থাকেন, তারা ক্যারামেল শেড ট্রাই করে দেখতে পারেন।
- গোল্ডেন ব্রাউন: এই শেডটি তুমুল জনপ্রিয় এবং দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। তবে কালচে কিংবা গাঢ় বাদামী বর্ণের জন্য এটি প্রয়োগ না করাই ভালো।
- অ্যাশ ব্রাউন: ছাই ও বাদামী মিলে যে সুন্দর শেড তৈরী হয় সেটাই অ্যাশ ব্রাউন শেড। এটি একটি জনপ্রিয় এবং ভুল ব্যাবহৃত শেড।
- অ্যাশ ব্ল্যাক: এটি অ্যাশ কালো সমন্বয়ে সুন্দর একটি শেড এবং এতে সাদাটে কোন ভাব আসবে না।
- বার্গ্যান্ডি: এটি তরুণ-তরুনী থেকে বয়স্ক সবাই ব্যাবহার করতে পারবেন। এটি ভীষণ সুন্দর একটি শেড।
- বেগুনি: এটি ইউনিক এবং সকল ধরনের চুলের সাথে বেশ মানিয়ে যায়।
- লালচে বাদামী: এটি বহুকাল ধরে ব্যাবহৃত একটি শেড যেটা রোদে ঝলমল করে। স্ট্রেইট ধরনে এটি দারূন মানায়।
রঙ প্রয়োগের ধরণগুলো কি কি
- ফুল কভারেজ: এক্ষেত্রে আপনি ফয়েল পেপার ব্যাবহার করে কিংবা ফয়েল পেপার ছাড়া পণ্যটি লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন।
- হাইলাইটস: হাইলাইটস হলো মাথার সম্পূর্ণ অংশের জায়গা জায়গা থেকে সরু বা কিছুটা মোটা গোছা নয়ে তাতে এক বা একের অধিক শেডের ব্যাবহার করা;
- বায়ালেজ: এক্ষেত্রে ওপর থেকে নিচে বর্ণ একই রকম অথবা কিছুটা হালকা হতে পারে। বাউন্সি, স্ট্রেইট কিংবা হালকা কোকড়ানো ধরনে এই শেড করা যেতে পারে।
- স্লাইস: এক্ষেত্রে কিছু কিছু গোছা বা স্লাইস ফয়েল পেপারে নিয়ে প্রয়োগের ব্রাশ দিয়ে লাগিয়ে ফয়েল পেপার আটকে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
- অমব্রি: অমব্রি হচ্ছে বায়ালেজের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ধরন। এটি স্ট্রেইট বা কোকোড়ানো উভয় ধরনে ভালো লাগে।
- সমব্রি: এটির ক্ষেত্রে শেড কিছুটা হালকা হয়ে থাকে।আন্ডারলাইট: এক্ষেত্রে নিচের অংশের গোছায় ফয়েল পেপার ছাড়াই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
রঙ করার পর কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে
- আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে;
- হিট অর্থাৎ তাপ প্রয়োগ করা যাবে না;
- প্রয়োগের পরপরই রিবন্ডিং করা উচিত না;
- গরম পানি দিয়ে ধোয়া যাবে না;
- স্ট্রেইটনিং মেশিন কিংবা কার্লার মেশিন ব্যাবহার করা যাবে না;
- ব্লো ড্রাই করা যাবে না এবং হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকান যাবে না;
- সালফারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যাবহার করা যাবে না;
- প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ দিন তেল গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে;
- তীব্র রোদে অথবা প্রখর সূর্যতাপে দীর্ঘসময় থাকা যাবে না;
- বাইরে স্কার্ফ অথবা ক্যাপ পড়ে বের হতে হবে;
- ধরন অনুযায়ী বর্ণএবং প্রয়োগের ধরন নির্বাচন করবেন;
- প্রয়োগের ৫-৭ দিন আগে থেকে বিশেষ যত্ন নিন যেমন- হারবাল হেয়ার প্যাক, মেহেদী বাটা, মেথি বাটা ও ডিম, এসেনসিয়াল অয়েল ইত্যাদি ব্যাবহার করবেন যাতে রুক্ষ না হয়ে যায়;
- ভালো ও উন্নতমানের ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যাবহার করবেন;
কোন বর্ণের ত্বকে কোন শেড ভালো মানায়?
- বাদামী, গাঢ় বাদামী ও তামাটে বর্ণের ত্বকের জন্য বাদামী, কালো, সোনালী, বিচ ব্রাউন ইত্যাদি ভালো লাগে।
- উজ্জ্বল বর্ণের ত্বকের ক্ষেত্রে আপনি হালকা সোনালী ব্লন্ড, অ্যাশ ব্লন্ড, সোনালী, বার্গেন্ডি, লালচে বাদামী ইত্যাদি ভালো মানায়।
কোন ধরনের চুলে প্রয়োগের কোন ধরন ভালো লাগে?
হালকা কোকড়ানো কিংবা কোকড়ানো ধরনে বার্গেন্ডি, সোনালী, বেগুনী, লাওলচে বাদামী, বাদামী, কালো ইত্যাদি রঙ বায়ালেজ বা অমব্রি ধরনে প্রয়োগ করলে ভালো লাগে দেখতে। সোজা অর্থাৎ স্ট্রেইট চুলে হালকা ব্লন্ড, সোনালী, বার্গেন্ডি, বিচ ব্রাউন, বাদামি ও অন্যান্য হালকা শেড ভালো লাগে।
কোন ব্যান্ডের রঙে ড্যামেজমুক্তভাবে পারফেক্ট শেড পাবেন?
চুলের রঙের ক্ষেত্রে কন্ডিশনিং এবং প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত, ক্ষতিকারক সালফারবিহীন কিছু ব্র্যান্ড বেশ জনপ্রিয় এবং তাদের কেমিক্যালমুক্ত পণ্য কোনো ক্ষতি ছাড়াই এনে দেয় চুলের পারফেক্ট শেড। সব ধরনের চুলের জন্য ক্ষতিকারক উপাদানবিহীন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রেভলন(Revlon), হাই স্পিডি(Hi Speedy), বিজেন(Bigen), এবং গার্নিয়ার(Garnier)। চলুন একনজরে দেখে নেই এই ব্র্যান্ডগুলোর বহুল ব্যাবহৃত জনপ্রিয় প্রোডাক্টগুলো-