শীত শুরু হতে না হতেই ত্বক ফেটে রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? সঠিক ময়শ্চারাইজার খুজে পাচ্ছেন না? শুষ্ক ও মলিনভাব দেখে হতাশ হয়ে পড়ছেন? ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে বারবার? সামান্য আচড়েও সাদা শুষ্ক দাগ আর মুখে লালভাব? পাচ্ছেন না সঠিক সমাধান? অকালে বলিরেখা আর বয়সের ছাপ? দ্বিধায় না ভুগে জেনে নিন কিভাবে ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিবেন? কিভাবে রোধ করবেন শুষ্কতা? কিভাবে শীত কিংবা গ্রীষ্মে রাখবেন মসৃণ ও প্রাণবন্ত? কোন ভুল ধারনা থেকে বিরত থাকলে ত্বক থাকবে সুরক্ষিত! চলুন জেনে নেই শীতে ময়শ্চারাইজারের সঠিক প্রয়োগে কিভাবে ত্বক ফেটে যাওয়ার দুশ্চিন্তা হবে দূর, কিভাবে ত্বক রাখবেন উজ্জ্বল, কোমল ও তারুণ্যদীপ্ত!
ময়শ্চারাইজার কি?
ময়শ্চারাইজারবিহীন ত্বক অনেকটা পানিবিহীন গাছের গোড়ার মত। এটি হচ্ছে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনার এবং মসৃণতা ধরে রাখার জন্য ঘন টেক্সচারের স্কিন কেয়ার পণ্য যা আর্দ্রতা বাড়ায়, আর্দ্রভাবকে লক করে ভেতরে আটকে রাখে, বাইরের আবহাওয়ার জলীয়বাষ্প যাতে আর্দ্রতা ও মসৃণতা ছিনিয়ে নিতে না পারে সেই ব্যাবস্থা করে। শীতকালে বাইরের জলবায়ুতে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে বাইরের জলবায়ু আর্দ্রতা ছিনিয়ে নেয় এবং করে তোলে শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। তবে এটি সব ঋতুতেই ব্যাবহার করতে হবে এবং সকল ধরনের ত্বকের জন্যই এটি ব্যাবহার অপরিহার্য।
ময়শ্চারাইজার কত ধরনের হয়ে থাকে?
এরা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এই পণ্যের প্রকৃতি নির্বাচন করতে হবে। চলুন জেনে নেই ময়শ্চারাইজারের বিভিন্ন ধরনগুলো সম্পর্কে
শুষ্ক ত্বকের ময়শ্চারাইজার:
অয়েল-বেজড: এই ময়শ্চারাইজারগুলো বিশেষত শুষ্কভাবের জন্য অধিক কার্যকরী। এছাড়াও শীতের সময়ে লালভাব ফেটে যাওয়া, শুষ্কভাব , নিষ্প্রাণ ও মলিনভাব দূর হয় এর ব্যাবহারে। অয়েল-বেজড ময়শ্চারাইজারগুলো কিছুটা ঘন ধরনের এবং অধিক হাইড্রেশন প্রদান করে থাকে।
গ্লিসারিন-বেজড: গ্লিসারিন সুদূর প্রাচীনকাল থেকে ব্যাবহার হয়ে আসা কার্যকরী একটি উপাদান। যদিও পূর্বে গ্লিসারিন পানি কিংবা গোলাপজলের সাথে মিশিয়ে ব্যাবহার করা হতো, এখন গ্লিসারিন-বেজড অর্থাৎ গ্লিসারিন সম্বলিত ময়শ্চারাইজার বাজারজাত হওয়ার কারণে একই পণ্যে রুক্ষতা ও শুষ্কতার নানা সমস্যার সমাধান পাওয়া সহজ হয়েছে।
অ্যান্টি-এজিং: বয়সের ছাপ কিংবা বলিরেখা, চোখের নিচে ভাজ, ডাবল চিন ও ঝুলে পড়া থেকেও মুক্তি পাবেন এই পণ্যের সাহায্যে। অবাক লাগছে? বর্তমানে অ্যান্টি-এজিং ময়শ্চারাইজার পাওয়া যায় যাতে থাকে বয়সের ছাপ কমানোর কার্যকরী উপাদান। কম সময়ে সহজ সমাধান পেতে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে এগুলো দারুণ কাজ করে।
তৈলাক্ত ত্বকের ময়শ্চারাইজার:
জেল বেজড: এটি তৈলাক্ততা দূর করার কার্যকরী সমাধান। জেল-বেজড ময়শ্চারাইজার সাধারণত কিছুটা হালকা ধরনের এবং এগুলোতে পানির পরিমান বেশি থাকে। এগুলোতে তেলের পরিমাণ কম থাকে যার কারণে আপনার ত্বপকে কোনো তেল চিটচিটে আঠালো ভাব ছারাই আপনাকে দেবে সতেজ কোমলতা এবং ধরে রাখবে আর্দ্রতা।
হাইড্রেটিং বা হিউমেকটেন্ট: হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার আর্দ্রতা বাড়িয়ে মলিনভাব ও রুক্ষতা দূর করে। এগুলোতে সফট প্যারাফিন থাকে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং অকালসিভ উপাদান থাকার কারনে আর্দ্রতাকে ধরে রাখে দীর্ঘসময়।
সংবেদনশীল ত্বকের ময়শ্চারাইজার:
UV রশ্মিযুক্ত: এতে রয়েছে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি UV-A, UV-B, এবং UV-C থেকে সুরক্ষাকারী উপাদান যা ত্বক মসৃণ রাখার পাশাপাশি ট্যানিং এবং সানবার্ন থেকে সুরক্ষা দিবে।
ময়শ্চারাইজিং মলম বা সালভ: শুষ্কতা বেশি থাকলে কিছু জটিল চর্মরোগের ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজিস্টরা কিছু মলম প্রেসক্রিপশনে লিখে থাকেন যেগুলো দ্রুত চর্মরোগ সাড়িয়ে শুষ্কতা দূর করবে এবং বজায় রাখবে মসৃণতা। যেকোনো চর্মরোগের কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়লে কিংবা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা ইত্যাদি জটিল চর্মরোগের চিকিৎসায় ডার্মাটোলজিস্টরা এই ময়শ্চারাইজিং মলমগুলো সাজেস্ট করে থাকেন।এগুলোকে সালভ নামেও চেনে অনেকে।
কোন ধরনের ত্বকে কোন ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করবেন?
অনেকেই ত্বকের ধরন না বুঝে আন্দাজে যেকোনো পণ্য ব্যাবহার করেন যার কারনে ভালো ফল তো পাবেনই না বরং সৃষ্টি হতে পারে নানা চর্মরোগ। চলুন জেনে নেই কোন ধরনের ত্বকে কোন ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করতে হবে!
স্বাভাবিক: এই ধরনের ত্বকে সব ধরনের ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করা যাবে। তবে অয়েল বেজড ধরনের পণ্যগুলো স্বাভাবিক এপিডার্মিসে শীতকাল ব্যাতীত ব্যবহার না করাই ভালো
তৈলাক্ত: এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সিবাম নির্গত হয়। অনেকেই ভাবেন এই তেল থাকলেই ত্বক সুরক্ষিত থাকে, কিন্ত তা একদমই নয়। তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণত জেল-বেজড, টোনার, কিউকাম্বার, এলোভেরাযুক্ত হালকা টেক্সচারের হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার প্রয়োগ করতে হবে।
শুষ্ক: শুষ্ক ত্বকে ময়শ্চারাইজার মানে মরুভূমিতে বৃষ্টির পরশ। এক্ষেত্রে সিবাম কম উৎপন্ন হয় এবং রুক্ষভাব অনেক বেশি থাকে। শীতকালে সেই শুষ্কতা আরো বেড়ে যায় ফলে অবস্থা আরো করুণ হয়ে যায়। এজন্য অয়েল-বেজড, গ্লিসারিন বেজড, শিয়া বাটার, জোজোবা অয়েল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি উপাদানযুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও অকালসিভ উপাদান থাকতে হবে যাতে ত্বকের ময়শ্চারকে সীল কিংবা লক করে রেখে আর্দ্রভাব বজায় রাখা যায়।
মিশ্র: মিশ্র ত্বকের জন্য জেল-বেজড এবং হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার অসাধারণ সমাধান। এক্ষেত্রে শুষ্ক অংশের জন্য অলিভ অয়েল মিক্স করে লাগিয়ে নিতে পারেন
সংবেদনশীল বা সেনসিটিভ: সংবেদনশীল ত্বকে ডার্মাটোলজিক্যালি পরীক্ষীত, ক্ষতিকারক উপাদান যেমন-সালফেট, প্যারাবেন ইত্যাদিমুক্ত, হাইড্রেটিং অকালসিভ ও ইমলিয়েন্ট উপাদানযুক্ত তেল চিটচিটেভাবমুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করতে হবে। ব্রণপ্রবন হলে কিংবা জটিল চর্মরোগ থাকলে ময়শ্চারাইজিং মলমও ব্যাবহার করতে পারেন।
এই তিন সময়ে ময়শ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না
ময়শ্চারাইজার দিনের যেকোনো সময়ই লাগাতে পারেন। তবে তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি লাগাতে একেবারেই মিস করবেন না কেননা এই তিন সময়ে ময়শ্চারাইজার সবচেয়ে বেশি কাজ করে। সেই তিন সময় হলো- সকালে মুখ ধোয়ার পর, গোসলের পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ধোয়ার পর। এই তিন সময়ে মুখ ধোয়ার ৫-১৫ মিনিটের মধ্যেই ময়শ্চারাইজার লাগাবেন এবং লাগানো মাত্রই মুখে পুণরায় কিছু ব্যাবহার করবেন না। কমপক্ষে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এছাড়াও মুখে ফেসিয়াল করার পর, মুখ ধোয়ার পর, টোনার লাগানো ও মেকআপ লাগানোর মধ্যবর্তী সময়ে এটি লাগাতে হবে। ত্বকের সুরক্ষায় সব ঋতুতেই এটি ব্যাবহার করা উচিত।
কোন ঋতুতে বা সময়ে কোন ময়শ্চারাইজার উপযুক্ত?
অনেকেরই ভুল ধারনা শুধু শীতকালেই ত্বকে ময়শ্চারাইজার প্রয়োগ করতে হয় কিন্ত এই ধারণাটি ভুল।এবার আপনি বলতেই পারেন গ্রীষ্মকালে লাগালে তেলতেলে কিংবা আঠালো ভাব বেড়ে যায় এমনকি ঘাম বেড়ে যায়। এর কারণ হলো আপনি সঠিক পণ্যটি বাছাই করেননি। শীতকালের জন্য গ্লিসারিন-বেজড, অয়েল-বেজড, শিয়া বাটার , অলিভ অয়েল ইত্যাদিসমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করবেন আপনার এপিডার্মিসের ধরন বুঝে। কিন্ত গ্রীষ্মকালে শীতের তুলনায় সিবাম উৎপাদন বেড়ে যায় ফলে গ্রীষ্মকালে আপনার প্রয়োজন হালকা এবং হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার যেগুলোতে হায়ালুরনিক এসিড রয়েছে। দিনে এবং রাতে প্রয়োগের নিয়ম ও জানতে হবে আপনাকে। দিনে ব্যাবহারের ক্ষেত্রে হালকা এবং হাইড্রেটিং, অন্যদিকে রাতে ব্যাবহারের ক্ষেত্রে ভারী ঘন ও গ্লিসারিন কিংবা অয়েল-বেজড ধরনটি ব্যাবহার করবেন।
ময়শ্চারাইজার লাগানোর কতক্ষন পর মেকআপ কিংবা অন্য পণ্য ব্যাবহার করা যাবে?
হালকা টেক্সচারবিশিষ্ট হাইড্রেটিং ও অধিক পানিযুক্ত ময়শ্চারাইজারের ক্ষেত্রে এটি লাগানো মাত্রই তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় তাই এক্ষেত্রে ৫-১০ মিনিট রেখে অন্য পণ্য বা মেকআপ পণ্য ব্যাবহার করতে পারবেন। অপরদিকে ভারী টেক্সচারবিশিষ্ট ময়শ্চারাইজারের ক্ষেত্রে আপনাকে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে যাতে এটি শুকানোর জন্য এবং গভীরে প্রবেশের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।
জেনে নিন ত্বক মসৃণ রাখার সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি
কিছু ঘরোয়া উপাদান আপনাকে ময়শ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করবে। কখনো কখনো আর্থিক অসুবিধার কারণে কিংবা সঠিক পণ্য খুজে না পেলে সাময়িক সমাধান হিসেবে এই ঘরোয়া টোটকাগুলো দুর্দান্ত কাজ করে। বহুকাল ধরে আমাদের নানী-দাদীরা এই ঘরোয়া উপাদানগুলো ব্যবহার করেই শুষ্কতা প্রতিরোধ করতেন। যুগ বদলেছে, বদলেছে আমাদের যত্নের পদ্ধতি, বেড়েছে সতর্কতা, বাজারজাত হয়েছে সব ধরনের ত্বকের জন্য দারুণ কার্যকরী অসংখ্য পণ্য। তবু আমাদের দ্বারস্থ হতে হয় এই ঘরোয়া সহজলভ্য উপাদানের কাছে, কারণ এগুলোর সতেজতা ফেরায় ত্বকের মসৃণতা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে। চলুন তবে জেনে নেই
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল দুই ধরনের হয়- খাবার উপযোগী অলিভ অয়েল এবং ত্বকে প্রয়োগের অলিভ অয়েল। দুই ধরনের অলিভ অয়েলই মসৃণতা ধরে রাখতে পারদর্শী। অর্থাৎ অলিভ অয়েল আপনি খান কিংবা মুখে লাগান উভয়ই অসাধারণভাবে কাজ করবে। এটি প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে। সারাবছর মসৃণতা রাখতে চাইলে অলিভ অয়েলেওর নিয়মিত প্রয়োগ যথেষ্ট।
এলোভেরা জেল: বাজারজাত এলোভেরা জেল কিংবা আপনার বারান্দার টবের কচি এলোভেরার খন্ড যেটাই ব্যাবহার করেন না কেনো ত্বক মসৃণ রাখতে এলোভেরা পাল্প দারুণ কাজ করে।
নারিকেল তেল ও ল্যাভেন্ডার অয়েল: নারিকেল তেলের সাথে ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে রাতে ব্যাবহার করে সকালে ধুয়ে ফেললে সেটা মসৃণতা বজায় রাখতে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
আমন্ড অয়েল ও গোলাপজল: এই দুইয়ের মিশ্রণ কোমলভাব ফিরিয়ে আনে, ব্ল্যাকহেডস মুক্ত করতে লোমকূপের গোড়া নরম করে এবং সেই সাথে ব্রণের দাগও দূর করে।
গ্লিসারিন ও ভিটামিন-ই ক্যাপসুল: অল্প পরিমান গ্লিসারিনের সাথে ২-৩ টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে প্রয়োগ করলে রুক্ষতা দূর হয়ে ফিরে আসে কোমলতা ও সতেজভাব।
ত্বক মসৃণ রাখতে খাদ্যাভাসে যেসব পরিবর্তন আনবেন-
- পর্যাপ্ত পানি পান করবেন;
- ডাবের পানি খাবেন;
- তরমুজ কিংবা তরমুজের শরবত খেতে পারেন;
- অলিভ অয়েল দিয়ে খাবার রান্না করতে পারেন;
- এলোভেরার শরবত বেশ উপকারী;
- ওমেগা ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার খাবেন;
- মাছের তেল এবং কড লিভার অয়েল ক্যাপসুল খেতে পারেন;
বহুল প্রচলিত যেসব ভুল ধারনা ত্বকের মারাত্মক সর্বনাশ করে
- শুধু শীতে ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করা: এটি শুধু শীতে ব্যাবহার করার জন্য নয় বরং সব ঋতুতেই ত্বকের ধরন বুঝে ব্যাবহার করতে হবে;
- একই ব্র্যান্ডের পণ্য দীর্ঘদিন ব্যাবহার: একটি ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট পণ্য দীর্ঘদিন ব্যাবহার করলেই আপনার মুখ কোমল ও মসৃণ হয়ে যাবে সেই ধারনা থেকে বের হয়ে আসুন। ত্বকের মৃত কোষ উঠে গিয়ে নতুন কোষের আবির্ভাব হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। তাই একটি নির্দিষ্ট পণ্য দীর্ঘদিন ব্যাবহার না করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ব্যান্ডের অন্য পণ্য বাছাই করুন;
- তৈলাক্ত ত্বকে ব্যাবহার না করা: অনেকেই মনে করে তৈলাক্ততা বেশি থাকলে ময়শ্চারাইজার ব্যাবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্ত তেল বেশি থাকলেই যে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকবে সেই গ্যারান্টি আদৌ শুনেছেন কোথাও? ত্বক শুষ্ক হোক কিংবা তৈলাক্ত, ধরণ বুঝে ব্যাবহার করুন ভালো মানের ময়শ্চারাইজার;
- অতিরিক্ত পরিমানে ব্যাবহার করা: অনেকেই ভাবেন বেশি পরিমাণে ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করলেই বোধহয় ত্বক ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ হবে। কিন্ত এই ধারনা একদমই ভুল। পরিমিত পর্যায়ে ব্যাবহার করতে হবে।
- ময়শ্চারাইজারকে রঙ ফর্সাকারী কিংবা কালচেভাব সৃষ্টিকারী মনে করা: কোনো পণ্যই কাউকে ফর্সা করা কিংবা কালচে করে দিতে পারে না। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। ময়শ্চারাইজারে সূর্যরশ্মি প্রতিরোধক উপাদান থাকলে তা ট্যানিং এবং সানবার্ন থেকে সুরক্ষা দেয় যার ফলে আপনার টোন ব্রাইট মনে হয়। অন্যদিকে সঠিক সময়ে কিংবা ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য ব্যাবহার না করলে ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে কিন্ত তার জন্য ময়শ্চারাইজার কোনোভাবেই দায়ী নয়;
ময়শ্চারাইজার বাছাইয়ের সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন তা হলো
- ধুলাবালিযুক্ত কিংবা ময়লা থাকা অবস্থায় প্রয়োগ করা যাবে না;
- ভালো ব্র্যান্ডের ও উন্নতমানের পণ্য বাছাই করুন;
- ধরণ অনুযায়ী পণ্য বাছাই করুন;
- দিনে হালকা ও রাতে ভারী টেক্সচারের ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করুন;
- সব ধরনের ত্বকে এবং সব ঋতুতে ব্যাবহার করবেন;
- ব্যাবহারের পূর্বে এবং সম্ভব হলে কেনার পূর্বে অল্প কোনো জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে তারপর কিনুন;
বাংলাদেশে বহুল ব্যাবহৃত ও জনপ্রিয় ময়শ্চারাইজারগুলো হলো