ঠোঁট বারবার ফেটে যাচ্ছে? ঠোঁটের মরা চামড়া তুলতে গিয়ে কিংবা অতিরিক্ত শুষ্কতায় ঠোঁট থেকে রক্ত বের হচ্ছে? ঠোঁটে অযথাই কালচে ভাব? চলুন আজ জেনে নেই কিভাবে বন্ধ করবেন ঠোঁট ফাটা, কিভাবে মৃত চামড়া তুলবেন? কিভাবে ঠোঁট থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে রাখবেন মসৃণ, কোমল ও গোলাপি। ঠোঁটের যত্নে আর নয় এক বিন্দু ছাড়! এই শীতে ঠোঁট রাখুন কোমল ও নরম। লিপ কেয়ার বা ঠোঁটের যত্ন নিবেন কিভাবে? চলুন জেনে নেই সহজ উপায়।
লিপ কেয়ার বা ঠোঁটের যত্ন বলতে কি বোঝায়?
ঠোঁটের যত্ন বলতে বোঝায় ফেটে যাওয়া ও রক্ত পড়া রোধ করে ঠোঁটকে গোলাপি, মসৃণ ও কোমল রাখা। শুষ্ক ঠোঁটে আর্দ্রতা ধরে রাখা খুবই কঠিন মনে হয়। শীতকালে সবারই কমবেশি সর্দি-কাশি হয় এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় যার কারনে ঠোঁট আরো বেশি রুক্ষ হয় এবং ফেটে রক্ত পড়ার অবস্থা হয়। ঠোঁটের ত্বক মিউকাস মেমব্রেন এর আস্তরণ যেখানে কোনো তেলগ্রন্থি থাকে না এবং সিবাম ও উৎপন্ন হয়না। তাই আর্দ্রতা ধরে রাখা খুবই প্রয়োজনীয় এবং এর জন্য আপনাকে নিতে হবে ঠোঁটের বাড়তি যত্ন। বিশেষত শীতকালে এবং শুষ্ক ঠোঁট হলে সেক্ষেত্রে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
ঠোঁট কেনো ফাটে?
- বারবার জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভেজালে
- সর্দি-কাশিজনিত কারণে নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিলে
- অযথা ঠোঁট কামড়ালে
- পর্যাপ্ত পানি না খেলে
- ভিটামিনের অভাবে
- অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারনে
- ডিহাইড্রেশন হলে
- কোনো চর্মরোগের কারণে
- জেনেটিকভাবে বা কোনো প্রশাধনীর কারণে ত্বক শুষ্ক হলে
- সঠিক যত্ন না নিলে
- ধুমপান করলে
- মৃত চামড়া হাতের আঙ্গুল দিয়ে টেনে উঠালে
- পরিবেশের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে আর্দ্রতা কমে গেলে
ঠোঁটে কালচেভাব কেনো হয়?
- ধুমপান করলে
- মৃত চামড়া টেনে উঠালে
- জেনেটিক কারণে
- চর্মরোগের কারনে
- বারবার ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হলে
- যত্ন ঠিকমতো না নিলে
- কোনো নিম্নমানের প্রসাধনীর প্রভাবে
ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তির সহজ উপায়
- নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলী ব্যাবহার: পেট্রোলিয়াম জেলীর ব্যাবহার সুদূর প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি ঠোঁটে মসৃণ স্তর সৃষ্টি করে আর্দ্রতা বের হয়ে যেতে দেয় না ফলে সৃষ্টি হয় গোলাপি আভা ও মসৃণ কোমলতা।
- লিপবাম ব্যাবহার: লিপবাম ও চ্যাপস্টিক আর্দ্রতা ধরে রেখে ঠোঁটের ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
- লিপ মাস্ক ব্যাবহার: লিপ মাস্ক বা লিপ স্ক্রাব মৃত চামড়া উঠাতে সহায়তা করে, ঠোঁটকে গোলাপি ও কোমল করে তোলে আর্দ্রতাকে লক করে।
- SPF-যুক্ত পণ্য ব্যাবহার: সূর্যের ক্ষতিকারক UV রশ্মি শুধু মুখ কিংবা শরীরের ত্বকেই নয় বরং ঠোঁটের ত্বকেও মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। UV রশ্মি ঠোঁট কালচে করে দেয়।
- সঠিক উপাদান সম্বলিত পণ্য কেনা: আপনার বাছাইকৃত পণ্যে শিয়া বাটার, কোকোয়া বাটার, নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, হায়লুরনিক এসিড, পেপটাইড, সেরামাইড ইত্যাদি উপাদান থাকতে হবে।
- জিহবা দিয়ে না ভেজানো: ঠোঁট বারবার জিহবা দিয়ে ভেজালে এটি আরো রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এই বদভ্যাস থাকলেও অবলম্বে তা ত্যাগ করতে হবে।
- ধুমপান পরিহার: ধুমপানের কারণে ঠোঁট কালচে ও অমসৃণ হয়ে যায়।
ঠোঁটের যত্নের ঘরোয়া উপায়
- বাদাম তেল: বাদামের তেল শুভ্র গোলাপি আভা এনে ঠোঁটকে করে মসৃণ ও কোমল।
- দুধের সর: দুধের সর নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট ফাটা বন্ধ হয়, সেইসাথে গোলাপি আভা সৃষ্টির ক্ষেত্রেও দুধের সর দারুণ কার্যকরী।
- গোলাপের পাপড়ি বাটা ও গ্লিসারিন: গোলাপজল, গোলাপের তেল কিংবা গোলাপের পাপড়ি বেটে কিংবা পেস্ট করে লাগালে বারবার ফেটে যাওয়া বন্ধ হয়।
- মধু ও চিনির স্ক্রাব: এটি ঠোঁটের জন্য দারুন এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। মধু আর্দ্রভাব ফিরিয়ে আনে, চিনি মৃত কোষ দূর করে।
- টুথপেস্ট: টুথপেস্ট শুধু দাতের যত্নে ব্যাবহৃত হয় তাই নয়, ঠোঁটের যত্নেও টুথপেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রোজ ব্রাশ করার সময় ব্রাশ দিয়ে আলতো ম্যাসাজ করে নিলে মৃতকোষ দূর হবে এবং ঠোঁট হবে গোলাপি।
- অলিভ অয়েল, লবন ও লেবুর টুকরা: অলিভ অয়েল ও লবনের মিশ্রণ ঠোঁটে দিয়ে লেবুর টুকরা দিয়ে ৪-৫ মিনিট ঘষে নিন। মৃতকোষ তুলতে এই স্ক্রাব দারুণ উপযোগী।
- গরম পানি: ত্বকের মৃত কোষ তুলতে গরম পানি দারুণ কাজ করে। গরম পানিতে ওয়াইপ, কটন প্যাড কিংবা টিস্যু ভিজিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে ঠোঁটের মৃত কোষ উঠে আসে অনায়াসেই।
- নারিকেল তেল: নরিকেল তেল এটি মসৃণ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। রাতে ঘুমানোর আগে নারিকেল তেল ঠোঁটে দিয়ে ঘুমালে দারুণ ফল পাবেন।
- নারিকেল তেল, চন্দন বাটা ও গোলাপজল: এই তিনটি উপাদানের মিশ্রণ ঠোঁটের কোমলতা ফেরাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। গোলাপি ভাব আনতেও এই মিশ্রণ দারুণ উপকারী।
- আমন্ড অয়েল ও গোলাপজল: রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ঘুমালে ঠোঁট হবে মসৃণ ও গোলাপি ।
- শসা: শসা কুচি করে বরফ বানিয়ে কিংবা শসার কুচি ঠোঁটে কিছুক্ষণ রেখে ঠোঁট গোলাপজল দিয়ে ধুয়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিলে ঠোঁটের কোমলতা ও গোলাপিভাব বজায় থাকে।
- মধু ও নারিকেল তেল: এই মিশ্রণ ঠোঁটে দিয়ে সারা রাত রেখে দিলে সকালে দেখবেন ম্যাজিক। এই মিশ্রণ ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে কার্যকরী।
- গ্লিসারিন ও মধু: নিয়মিত গ্লিসারিন ও মধু ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমালে ঠোঁট হবে মসৃণ ও গোলাপি ভাব থাকবে সারাক্ষণ।
কোন খাদ্যাভ্যাসে ঠোঁট থাকবে মসৃণ! বন্ধ হবে ঠোঁট ফাটা?
- পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে;
- ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে;
- মৌসুমি ও সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খেতে হবে;
- অধিক গরম পানীয় খাওয়া যাবে না। চা কিংবা কফি উষ্ণ অবস্থায় খেতে হবে;
চলুন জেনে নেই বাংলাদেশে বহুল ব্যাবহৃত ও ব্যাপক জনপ্রিয় ঠোঁট যত্নের পণ্যগুলো কি কি