কথায় আছে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। ত্বকে তেল কম থাকলেও সমস্যা ,আবার বেশি থাকলেও সমস্যা। ভাবছেন এবার তেল বেচারা ব্যালেন্স করবে কিভাবে? ব্যালেন্স করতে হবে আপনাকেই। ঘুম থেকে উঠেই মুখে একগাদা তেলের উপস্থিতি বিরক্ত করছে? অতিরিক্ত গরমে ঘামলেও মুখে তেলের পরিমান আর অস্বস্তি দিচ্ছে? মেকআপ ব্লেন্ডিং এ সমস্যা হচ্ছে? ফাউন্ডেশন ভেসে ভেসে থাকছে? তৈলাক্ত ত্বকের যেনো সমস্যার অন্ত নেই। তেল চিটচিটে আঠালো ভাব কেই বা চায় নিজের মুখে?? তৈলাক্ত ত্বকের আরেক মহাশত্রু হচ্ছে ব্রণ। ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র আটকে ব্রণের উৎপত্তি আপনার শান্তির ঘুম উড়িয়ে দিবে মূহুর্তেই। সেইসাথে জ্বালাপোড়া আর চুলকানি তো আছেই। তার মধ্যে যদি ভুলেও করেন নখ দিয়ে খোচাখুচি, তাহলে তো কথাই নেই। ত্বকের ইনফেকশনের ভোগান্তি আপনার ত্বকের বারোটা বাজিয়ে দিবে। তেতো হলেও কথাগুলো যে সত্যি সেটা আপনিও জানেন। তাই বলে কি হতাশায় ডুবতে হবে? মোটেই না। চলুন জেনে নেই কিভাবে তৈলাক্ত ত্বক থেকে রেহাই পাবেন আপনি, হাসবেন উজ্জ্বল ত্বকের জৌলুসে-
তৈলাক্ত ত্বক বলতে কি বোঝায়?
ত্বকের পাচটি ধরনের মধ্যে একটি হলো তৈলাক্ত ত্বক। আমাদের প্রত্যেকেরই ত্বকের ভেতরে আছে সেবেসিয়াস নামক তৈলগ্রন্থি যা থেকে সিবাম নামক তেল নিঃসরণ হয়ে আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা ধরে রাখে ত্বককে ময়শ্চারইজড করে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে এই সিবামের অধিক উৎপাদন হয় যা আমাদের ত্বকের লোমকূপকে আটকে দেয় এবং ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। এজন্য তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের মত মিশ্র ত্বকেও ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিশ্র ত্বকের ‘T’ জোন তৈলাক্ত হয়ে থাকে।
কিভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত?
তৈলাক্ত ত্বকের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত। তৈলাক্ততা সাধারণত মুখেই হয়ে থাকে তবে আপনার স্ক্যাল্প ও হতে পারে তৈলাক্ত এমনকি আপনার হাত এবং পা তৈলাক্ত থাকতে পারে। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে হাত পায়ের তুলনায় মাথার ত্বক ও মুখের ত্বকেই তৈলাক্ততা দেখা যায় যা মুখে ব্রণ এবং মাথার স্ক্যাল্পে। এবার চলুন জেনে নেই কিভাবে বুঝবো আমাদের মুখ এবং চুলের ত্বক তৈলাক্ত কিনা-
মুখের ত্বকের তৈলাক্ততা বোঝার উপায়-
- মুখ সবসময় আঠালো ও তেল চিটচিটে হইয়ে থাকবে;
- ঘুম থেকে উঠেই নাক, কপাল, গাল এককথায় মুখমন্ডলে তেলের উপস্থিতি দেখা যাবে। এমনকি ব্লটিং পেপার সেখানে রাখলে মুখের তেলে ব্লটিং পেপার না টিস্যুতে শুষে নেয়া তেল দেখতে পাবেন;
- ত্বকের লোমকূপের ছিদ্রগুলো বিশেষত নাকের আশেপাশে লোমকূপগুলো বড় বড় থাকবে;
- ঘন ঘন ব্রণের দেখা মিলবে;
- ফাউন্ডেশন ভেসে উঠবে এবং ভালোভাবে ব্লেন্ড করা কঠিন হবে;
- মুখের ত্বকে দৃশ্যমান তৈলাক্তভাব চকচকে মনে হবে;
মাথার ত্বকের তৈলাক্ততা বোঝার উপায়-
- মাথা পরিষ্কার করে তেলবিহীন রেখে দিন ৫-৬ দিন। এরপর সকালের দিকে ব্লটিং পেপার স্ক্যাল্পে চাপ দিয়ে দেখুন তেল উঠে আসছে কিনা;
- লক্ষ্য রাখুন আপনার চুল কতদিন পরপর শ্যাম্পু করতে হচ্ছে এবং কত দ্রুত অপরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে;
- মাথায় ঘন ঘন খুশকির উপদ্রব হচ্ছে কিনা এবং প্রদাহ কিংবা চুলকানি হচ্ছে কিনা;
- মাথার স্ক্যাল্পে হাত দিলে আঙুলের অগ্রভাগে তেলতেলে ভাব দেখা যায় কিনা;
ত্বক কেনো তৈলাক্ত হয়?
ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। চলুন এক নজরে দেখে নেই ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার কারণগুলো কি কি-
- বংশগতভাবে জেনেটিক্যাল কারনে ত্বক তৈলাক্ত হতে পারে;
- অতিরিক্ত শর্করা ও চিনি গ্রহন করলে;
- তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার না করলে;
- বয়সন্ধিকালের কারণে;
- মুখের কিংবা মাথার ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র বড় হলে;
- নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যাবহার করলে;
- ত্বকের ধরন না বুঝে সস্তা ও নিম্নমানের মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যাবহার করলে;
- ত্বকের অতিরিক্ত যত্ন করতে গিয়ে সিবাম উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে গেলে;
- ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়ায়;
- পর্যাপ্ত পরিমানে পানি না খেলে;
- অতিরিক্ত রাত জাগলে;
ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে যে বিষয়গুলো অবশ্যই মেনে চলবেন সেগুলো হলো
- প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুইবার অবশ্যই তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী ফেসিয়াল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে;
- ব্লটিং পেপার কিংবা ফেসিয়াল ওয়াইপ দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে অতিরিক্ত তেল সরিয়ে ফেলতে হবে;
- অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা ফেসিয়াল ওয়াশ ব্যাবহার করবেন না;
- তেল দূর করতে গিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা বারবার চুলে শ্যাম্পু ব্যাবহার করা যাবে না;
- তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী টোনার ও ফেসিয়াল মাস্ক ব্যাবহার করুন;
- সপ্তাহে অন্তত দুইদিন স্ক্রাব ব্যাবহার করুন;
- তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী ময়শ্চারাইজার কিংবা গ্লিসারিনযুক্ত পণ্য ব্যাবহার করতে ভুলবেন না ;
- তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকুন।
- নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখুন;
- বাইরে যাওয়ার আগে মুখ ধোয়ার পর টোনার, ময়শ্চারাইজার এবং সানব্লক ব্যাবহার করতে ভুলবেন না;
- অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকে বিরত থাকুন;
- অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকুন;
- ভিটামিন সি জাতীয় খাবার,সবুজ শাক-সবজি বেশি বেশি খেতে হবে;
- মৌসুমি ফল বেশি করে খেতে হবে;
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে;
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বাংলাদেশের বেস্ট তেল নিয়ন্ত্রক ফেস ওয়াশ, স্ক্রাব ও ময়শ্চারাইজিং ক্রিমগুলো হলো
মুখের তেল নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাধিক কার্যকরী প্রোডাক্টগুলো চলুন জেনে নেই-