থামছে না চুল পড়া? টাক হয়ে যাচ্ছেন? জেনে নিন দ্রুত সমাধান

চুল পড়ার চিন্তায় উড়ে গেছে রাতের ঘুম!! আচড়াতে গেলেই মেঝে ভরে যাচ্ছে অগুণিত চুলে? মাথার সামনের দিকে চুল ফাকা হয়ে যাচ্ছে? শ্যাম্পু করতে গেলেও হাতে উঠে আসছে একগাদা চুল? চুল পাতলা হয়ে টাক পড়ার মতো অবস্থা? নানারকম শ্যাম্পু আর টোটকায় কাজ হচ্ছে না? হবেও বা কিভাবে! আপনি সঠিক প্রোডাক্টটি ব্যাবহার করছেন তো? জানেন তো আপনার চুলের ধরণ? বের করতে পারছেন না চুল ঝড়ে পড়ার কারন? রিবন্ডিং করা চুল ভেঙে যাচ্ছে মাঝখান থেকে? নিম্নমানের রঙ ব্যাবহার করে চুল হয়ে গেছে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ?  চলুন আজ জেনে নেই কেনো ঝড়ে পড়ে চুল, কিভাবে বন্ধ হবে চুল পড়া, টাক হওয়ার সম্ভাবনা কিভাবে হবে দূর! 

চুল পড়া বলতে মূলত কি বোঝায়?

জীবনে একটি চুলও ঝরে পড়েনি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুজে পাবেন আপনি? অসম্ভব। সৃষ্টিগতভাবেই প্রত্যেকটি মানুষের কিছু চুল ঝড়ে পড়ে এবং সেই স্থানে নতুন চুল গজায়। একসময় মনে করা হতো শুধু বার্ধক্যেই চুল পড়ে এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ নেই। প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের চুলের ১০ শতাংশ ঝড়ে যায় এবং নতুন চুল গজায় যা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চুল ঝড়ে পড়ার নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। সাধারনত প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের দৈনন্দিন সর্বোচ্চ ১০০ টি চুল ঝড়ে পড়তে পারে যেটা হচ্ছে চুল ঝড়ে পরার স্বাভাবিক মাত্রা। কিন্ত কোনো কারনে যদি আপনার চুলের ১০ শতাংশের বেশি কিংবা ১০০ টির বেশি চুল ঝড়ে পড়ে কিংবা মাথার ১ সে.মি. থেকে ৫ সে.মি. জায়গা চুল পড়ে ফাকা হয়ে যায় সেটিই দুশ্চিন্তার কারন হয়ে যায়। বিশেষ করে টাক হয়ে যাবার ভয়টা আরো বেড়ে যায়। একসময় মনে করা হতো শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রেই টাক হতে দেখা যায় কিন্ত মেয়েরাও টাকের শিকার হয়ে থাকে। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝড়ে পড়লে ও ভেঙে গেলে সেটাকেই চুল পড়া সমস্যা বলে ধরে নেয়া হয়। চুল ঝড়ে পড়াকে চিকিৎসকদের ভাষায় অ্যালোপেশিয়া বলা হয়ে থাকে।

কিভাবে টের পাবেন আপনার চুল অস্বাভাবিক ভাবে ঝড়ে পড়ছে? চলুন জেনে নেই-

  • মাথার ত্বকে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া;
  • চুল আচড়ানোর সময় চিরুনি ও মেঝেতে একগাদা চুল ঝড়ে পড়া;
  • শ্যাম্পু করার সময় হাতে অতিরিক্ত চুল উঠে আসা কিংবা চুল ঝড়ে পড়া;
  • মাথার সামনের দিকের চুল ঝড়ে পড়ে, চুল ফাকা হয়ে যাওয়া;
  • স্ক্যাল্প, চোখের পাতা, ভ্রু, কিংবা দাড়িতে জায়গায় জায়গায় ছোপ ছোপভাবে বৃত্তাকারভাবে চুল উঠে যাওয়া;
  • মাথার ত্বকে ১-৫ সে.মি. জায়গা চুল উঠে ফাকা হয়ে যাওয়া;
  • চুল মাঝখান থেকে ভেঙে পড়া;
  • ড্যামেজড রুক্ষ ফেটে যাওয়া চুলের আগা;
  • দৈনিক আনুমানিক ১০০ টির বেশি চুল ঝরে পড়া;
  • চুলে আংশিক টাকভাব
  • চুলের গোড়া মাঝখানে মাঝখানে চুল ঝড়ে পাতলা হয়ে যাওয়া;
  • চুলের আগা ফাটা ও পাতলা হয়ে যাওয়া;
  • চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া ও চুলের গোছা কমে যাওয়া;
  • হঠাৎ অসুস্থতা কিংবা ওষুধের প্রভাবে চুল লক্ষ্যনীয়ভাবে বেশি ঝড়ে পড়া;

চুল পড়ার কারণ কি কি?

চুল ঝড়ে পরার অসংখ্য কারন রয়েছে, কখনো কখনো চুল কারণ ছাড়াও ঝরে পড়ে। চলুন জেনে নেই বাংলাদেশের মানুষের চুল ঝড়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণসমুহ কি কি-

  • মানসিক চাপ;
  • ডিপ্রেশন বা হতাশা;
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা;
  • ভিটামিনের ঘাটতি (বিশেষত ভিটামিন বি, ডি এবং ই এর ঘাটতি);
  • প্রয়োজনীয় আয়রণের অভাব;
  • রক্তশূণ্যতা;
  • চুলের অযত্ন ও অবহেলা;
  • হরমোনের তারতম্য এবং ভারসাম্যহীনতা;
  • ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত কিংবা কম উৎপাদন হওয়া;
  • বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন- পিসিওএস(পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম), হাইপোথাইরয়েডিজম(থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা), ক্যান্সার, কোভিড-১৯ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়া;
  • প্রেগনেন্সি অর্থাৎ গর্ভকালীন অবস্থা;
  • অধিক পরিমানে চিনি এবং শর্করা গ্রহন;
  • নিম্নমানের সস্তা মেকআপ পণ্য এবং প্রসাধনী ব্যাবহার;
  • ক্ষতিকারক উপাদানসম্বলিত পোডাক্ট ব্যাবহার;
  • চুলের ধরন অনুযায়ী চুলের পণ্য ব্যাবহার না করে আন্দাজে যেকোনো পণ্য ব্যাবহার করা;
  • একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য দীর্ঘদিন চুলে ব্যাবহার;
  • সঠিকভাবে শ্যাম্পু না করা;
  • চুল অপরিষ্কার রাখা;
  • ভেজা চুল আচড়ানো;
  • ভেজা চুল দীর্ঘসময় বেধে রাখা;
  • ব্লো-ড্রাই করা কিংবা ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানো;
  • চুলে স্ট্রেইটনার ব্যাবহার কিংবা হিট দেয়া;
  • সহ্যক্ষম কিন্ত মোটামুটি গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া;
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস;
  • পর্যাপ্ত পরিমানে অধিক পানি না খাওয়া;
  • নিয়মিত রাত জাগার বদভ্যাস এবং রাতে পর্যাপ্ত না ঘুমানো;
  • সংবেদনশীল এবং এলার্জিপ্রবণ মাথার স্ক্যাল্প;
  • খুশকির সংক্রমণ;
  • স্ক্যাল্পে ইনফেকশন
  • বংশগতভাবে অধিক চুল পড়া কিংবা টাকের ঝুকি থাকলে;
  • পরিবেশের আর্দ্রতার তারতম্য;
  • সঠিক উপায়ে তেল ব্যাবহার না করা;
  • স্টেরয়েড কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া;
  • ওজন হ্রাস;
  • পর্যাপ্ত পুষ্টি ;
  • পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব;
  • ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি;
  • উকুন, ছত্রাক কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ;
  • ভাইরাস জ্বর, ডেঙ্গু জ্বর, ম্যালেরিয়া কিংবা টাইফয়েড হলে;

চুল পড়ার কতগুলো ধরণ রয়েছে?

  • টেলোজেন এফলুভিয়াম: বিভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারন যেমন- ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ কিংবা অবসাদ, হতাশা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, খুশকি, উকুন, ছত্রাকের সংক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ডিপ্রেশন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, রাত জাগার বদভ্যাস, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইনসুলিন কমে যাওয়া ইত্যাদি শারিরীক ও মানসিক পরিস্থিতিজনিতকারণে যখন চুল অতিরিক্ত ঝড়ে পড়ে , তখন তাকে টেলোজেন এফলুভিয়াম বলা হয়। এটিকে আপনি অস্থায়ী ধরণের  চুল পড়াও বলতে পারেন। এটি মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে হতে পারে তবে পুণরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং এই চুল পড়া সহজেই বন্ধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে পুণরায় চুল গজিয়ে হারানো চুলের শূন্যস্থান পূরন হয়ে যায়।
  • অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া: এই ধরনের চুল পড়ার কারণ হতে পারে বংশগত, বাবা-মায়ের জিনের মাধ্যমে সন্তানে পরিবাহিত, হরমোনের তারতম্য কিংবা ভারসাম্যহীনতা, কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের পাতলা চুল কিংবা টাক থাকা। এই ধরনের চুলপড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। কখনও কখনও আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ মাথায় টাক হতে দেখা যায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে মাথার মাঝখানের দিকের  চুল পাতলা হয়ে যায় এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে কপালে “M” আকৃতির অংশজুড়ে টাক বা চুলের পাতলাভাব দেখা যায়। সাধারণত এই ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে কপালের ওপরে চুলের সামনের দিক এবং মাথার মাঝখানের অংশে চুল পাতলা কিংবা টাক হতে দেখা যায়।
  • এলোপেসিয়া  অরিয়াটা: এই ধরনের চুল পড়াকে অটোউমিউন ডিসঅর্ডার বলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে স্ক্যাল্পের মাঝখানে মাঝখানে ছোট ছোট জায়গাজুড়ে চুল উঠে ফাকা হয়ে প্যাচ পড়ে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় উপায় যেখানে আমাদের ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত চুলের ফলিকলগুলিতে আক্রমণ করে চুল ঝড়ে পড়া বাড়িয়ে দেয়। কখনও কখনও এই ধরনের চুল পড়া থেকে সম্পূর্ণ স্ক্যাল্পে টাকের সৃষ্টি হয়। এই টাকপ্রবণতা ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে।

শরীরের কোন কোন জায়গায় চুল পড়া এবং টাক সমস্যা দেখা দেয়?

ভাবছেন চুল ঝড়ে পড়া মানে শুধুই মাথার চুল পড়া? মোটেই না। চুলপড়া এবং টাকজনিত সমস্যা সাধারণত মাথার সামনের দিকের চুলের অংশে, মাথার মধ্যভাগে, স্ক্যাল্পে, চোখের ভ্রূতে, ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়িতে এমনকি ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের চোখের পাপড়িতেও এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে।

চুল পড়া রোধ করতে কোন কাজগুলো করতে ভুলবেন না

  • নিম্নমানের পণ্য কিংবা সস্তা পণ্য ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন;
  • অধিক ক্ষারযুক্ত এবং ক্ষতিকারক পণ্য ব্যাবহার করবেন না;
  • সালফারযুক্ত পণ্য থেকে বিরত থাকুন;
  • প্রাকৃতিক উপাদানসম্বলিত ময়শ্চারাইজার প্যাক কিংবা প্রাকৃতিক হারবাল উপাদান বেটে চুলে ব্যাবহার করবেন সপ্তাহে ১-২ বার;
  • গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করবেন না, উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করলেও চুলে ঠান্ডা পানি ব্যাবহার করবেন;
  • চুলে স্ট্রেইটনার দিয়ে হিটের মাধ্যমে স্ট্রেইট কিংবা ব্লো ড্রাই করা যাবে না;
  • ভেজা চুল আচড়ানো যাবে না;
  • ভেজা চুল বেধে রাখা যাবে না;
  • প্রতিদিন কিংবা অতিরিক্ত ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যাবহার করা যাবে না;
  • সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করতে হবে;
  • চুলে কমদামী ক্ষতিকারক রঙ ব্যাবহার থেকে বিরত থাকতে হবে;
  • রিবন্ডিং করা যাবে না;
  • সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন তেল হালকা গরম করে গোসলের আধা ঘন্টা আগে আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে, এরপর ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে;
  • নিয়ন্ত্রিত জীবনব্যাবস্থা মেনে চলতে হবে;
  • মৌসুমি শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি বেশি খেতে হবে;
  • বেশি বেশি ভিটামিন ও খনিজ লবণসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে;
  • মাঝে মাঝে ভিটামিন- ই ক্যাপসুল এর সাথে নারিকেল তেল মিশিয়ে আলতো ম্যাসাজ করতে ভুলবেন না।

চুল পড়া বন্ধ করতে খাদ্যাভ্যাসে কি কি পরিবর্তন আনা উচিত?

  • বায়োটিন জাতীয় খাবার যেমন- কলা, ডিম, দুধ, গরুর চর্বিবিহীন লাল মাংস, সবুজ শাক-সবজি, কলা, মিষ্টি আলু, শিমের বিচি,বাদাম ইত্যাদি খেতে হবে;
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে;
  • সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে;
  • কাঠমাদাম, অন্যান্য বাদাম,এবং খেজুর খেতে হবে; 
  • ওটস খাওয়া যেতে পারে কেননা ওটস এ প্রচুর ফাইবার, জিংক, পলিয়ানস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন-বি রয়েছে;
  • আয়রণযুক্ত খাবার খেতে হবে;
  • দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে;
  • প্রচুর পানি পান করতে হবে;
  • বায়োটিন জাতীয় খাবার যেমন- কলা, ডিম, দুধ, গরুর চর্বিবিহীন লাল মাংস, সবুজ শাক-সবজি, কলা, মিষ্টি আলু, শিমের বিচি,বাদাম ইত্যাদি খেতে হবে;
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে;
  • সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে;
  • কাঠমাদাম, অন্যান্য বাদাম,এবং খেজুর খেতে হবে; 
  • ওটস খাওয়া যেতে পারে কেননা ওটস এ প্রচুর ফাইবার, জিংক, পলিয়ানস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন-বি রয়েছে;
  • আয়রণযুক্ত খাবার খেতে হবে;
  • দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে;
  •  

কার্যকরী ঘরোয়া সমাধানে চুল পড়াকে জানান বিদায়!

  • নারিকেল তেল, কালোজিরা ও মেথি: কালোজিরা ও মেথিদানা নারিকেল তেলে জ্বাল দিয়ে সেই তেল ঠান্ডা করে কিছুটা উষ্ণ থাকা অবস্থায় পুরো মাথায় প্রতিটি চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করতে হবে।
  • পেয়াজের নির্যাস: পেয়াজের রস চুল পড়া দ্রুত বন্ধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
  • নিমপাতার নির্যাস: নিমপাতা বেটে কিংবা রস বের করে অথবা পানিতে জ্বাল দিয়ে চুলে ব্যাবহার করলে চুল পরা বন্ধ হইয় এবং চুলের গোড়াকে করে মজবুত।
  • টকদই, লেবুর রস ও মধু: এই তিনটি উপাদান বেশ ভালোভাবে মিশ্রিত করে চুলে প্রয়োগ করে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ১-২ বার এই প্যাকটি ব্যাবহার করা যেতে পারে।
  • নারকেলের দুধ ও নারকেল তেল: নারকেলের দুধের সাথে উষ্ণ নারকেল তেল ব্যাবহার করলে চুল পরা বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়। নারকেলের দুধে থাকা প্রোটিন ও পটাশিয়াম চুলে পুষ্টি যোগায়।
  • এলোভেরা জেল: এলোভেরা জেল চুলে লাগিয়ে রেখে দিতে হবে ৩০-৪০ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে তোলে।
  • মেথি:  মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে তারপর বেটে ভেজানো পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ব্যাবহার করলে চুলপরা বন্ধ হয় এবং চুল হয় মসৃণ ও ঝলমলে। মেথির তেল ও জুল মজবুত করে তোলে।
  • অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল চুলের গোড়া মজবুত করে দেয় চুল পরা থেকে মুক্তি। এছাড়াও অলিভ অয়েল চুলের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনে।
  • ক্যাস্টর অয়েল: ক্যাস্টর অয়েল সরাসরি চুলে ব্যাবফার করা যায় না তবে এই তেল নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যাবহার করলে চুল পড়া বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
  • ভৃঙ্গরাজ অয়েল: এই হারবাল উপাদানকে সকল হার্বের রাজা বলা হয়। এই উপকারী আয়ুর্বেদিক উপাদানটি চুল পড়া রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

কার্যকরী ঘরোয়া সমাধান

  • জবা, জবার পাতা ও নারকেল তেল: নারকেল তেলের মধ্যে সমপরিমাণ জবাফুল ও জবা গাছের পাতা জ্বাল করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে মাথায় ব্যাবহার করলে চুল পরা ও খুশকিরোধ হয়।
  • নারকেল তেল ও ভিটামিন-ই ক্যাপসুল: উষ্ণ নারকেল তেলের সাথে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করলে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুল হয় মজবুত, প্রাণবন্ত।
  • আমলকি, ব্রাহ্মী ও নিমপাতা: আমলকি, ব্রাহ্মী ও নিমপাতা একত্রে বেটে মাথায় ব্যাবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হয়, চুল হয় প্রাণবন্ত।
  • আমলকির গুড়া: আমলকির গুড়া এবং পানি কিংবা গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করে চুলে প্রয়োগ করুন আর চুল পড়া বন্ধ করুন ম্যাজিকের মতো।
  • লেবুর রস: লেবুর রস মাথার স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়, স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং চুল হয় প্রাণবন্ত।
  • দই এবং ডিম: দুটো ডিম ফেটিয়ে দইয়ের সাথে মিশ্রণ তৈরী করে চুলে ব্যাবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে দ্রুতই।
  • নারকেল দুধ এবং বাষ্প: নারকেলের দুধ স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে রেখে দিন ২০ মিনিট, এরপর চুলের স্ক্যাল্পে গরম পানির ভাপ নিন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই উপায়ে দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়।
  • বিটরুট ও মেথি: বিটরুট ও মেথি বেটে একত্রে মিশিয়ে চুলে প্রয়োগ করলে চুল পড়া দূর হবে দ্রুতই।

বাংলাদেশের সবথেকে বেশি রিভিউ পাওয়া বেস্ট চুল পড়া ও টাকপ্রতিরোধী প্রোডাক্ট কোনগুলো জেনে নিন-

চুলপড়া প্রতিরোধে প্রাকৃতিক উপাদানের নির্যাস থেকে বানানো  বেস্ট রেকমেন্ডেড চুলপড়া প্রতিরোধী পণ্যগুলো হচ্ছে-

চুলপড়া ও টাক প্রতিরোধী তেলগুলো হলো-

Kumarika Hair Fall Control Hair Oil - 400ml
Kumarika Hair Fall Control Hair Oil
Dabur Vatika Enriched Coconut Hair Oil Hair Fall Reduction - 300ml
Dabur Vatika Enriched Coconut Hair Oil Hair Fall Reduction

চুলপড়া ও টাক প্রতিরোধী শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনারগুলো হলো

Dove Anti Hair Fall Nourishment Shampoo
Dove Anti Hair Fall Nourishment Shampoo
Pantene Advanced Hair Fall Control Shampoo
Pantene Advanced Hair Fall Control Shampoo
Pantene Rambut Rontok Hair Fall Control Shampoo
Pantene Rambut Rontok Hair Fall Control Shampoo
Pantene Hair Fall Control Shampoo
Pantene Hair Fall Control Shampoo
Dove Hair Fall Rescue Conditioner
Dove Hair Fall Rescue Conditioner
Dove Hair Fall Rescue Shampoo For Weak Fragile Hair
Dove Hair Fall Rescue Shampoo For Weak Fragile Hair
Vatika Cactus & Gergir Hair Fall Control Shampoo
Vatika Cactus & Gergir Hair Fall Control Shampoo
Himalaya Anti-Hair Fall Shampoo
Himalaya Anti-Hair Fall Shampoo