শীত আসতে না আসতেই হাত পা ফেটে রুক্ষ, শুষ্ক নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে? হাটু কনুই সব জায়গায় খসখসে ভাব? হাত, পা কিংবা শরীরের যত্ন শুধুই শীতকালে নিচ্ছেন? ত্বকের ধরন জানেন তো? চলুন আজ হাত পায়ের যত্ন নেয়ার সঠিক উপায় নিয়ে কথা বলি। হাত পায়ের যত্ন কিংবা শরীরের যত্ন শুনলেই যে বিষয়টা সবার আগে মাথায় আসে তা হলো বডি লোশন। তবে ত্বকের যত্নে বডি লোশন কিংবা বডি বাটার দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তবে জেনে নেই বডি লোশন এবং বডি বাটার কি? কিভাবে তারা ফিরিয়ে আনে ত্বকের মসৃণতা? আসুন জেনে নেয়া যাক-
বডি লোশন কি?
বডি লোশন হচ্ছে হালকা টেক্সচার বা কম ঘনত্বের ত্বকের যত্নের পণ্য যা ত্বককে আর্দ্র করে তোলে, শুষ্কতা দূর করে এবং ত্বকের আর্দ্রতাকে সীল করে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেয় না। ফলে ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত। এতে পানির পরিমাণ বডি বাটার কিংবা অন্য ময়শ্চারাইজারের তুলনায় বেশি থাকে তাই ঘনত্ব কম এবং বডি লোশন ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।
বডি বাটার কি?
বডি বাটার হচ্ছে শরীরের ময়শ্চারাইজিং পণ্য যা ত্বককে আর্দ্র করে, ত্বকের মসৃণতা ধরে রাখে এবং ত্বক কোমল করে। তবে বডি বাটারের ঘনত্ব বডি লোশনের থেকে অনেক বেশি।এদেরকে শরীরের ময়শ্চারাইজার ও বলা হয়ে থাকে।
বডি লোশন ও বডি বাটার কয় ধরনের হয়ে থাকে?
বডি লোশন এবং বডি বাটার আলাদা পণ্য হলেও তাদের কাজ এবং তাদের ধরনগুলো একই। চলুন জেনে নেই সেগুলো কি কি
- অয়েল-বেজড: এই ধরনের বডি লোশনে ও বডি বাটারে শিয়া বাটার, কোকো বাটার, ভিটামিন-ই এবং এসেনসিয়াল অয়েলের সমন্বয় থাকে। এগুলো অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য দারুণ উপযোগী।
- হাইড্রেটিং: হাইড্রেটিং বডি লোশন এবং বডি বাটার দুটোতেই হায়ালুরনিক এসিড থাকে। এই পণ্যের ঘনত্ব কম থাকে। হাইড্রেটিং বডি লোশন এবং বডি বাটার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে নরম ও মোলায়েম রাখে।মিশ্র ত্বক এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং বডি লোশন এবং বডি বাটার ভালো কাজ করে।
- UV রশ্মি প্রতিরোধী: UV রশ্মি প্রতিরোধী বডি লোশন এবং বডি বাটার শরীরের যেসব অংশ বাইরে দৃসগ্যমান অর্থাৎ উন্মুক্ত থাকে সেই e sসঅংশেঅংশঅংসঅঅংশকে সূর্যের ক্ষতিকারক UV-A, UV-B, এবং UV-C থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এরা হাত পা এবং শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলো যেমন-গলা, ঘাড়, পিঠের অংশবিশেষ ইত্যাদি জায়গাগুলোকে ট্যানিং, সানবার্ন ও ক্ষতিকারক UV রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
- এন্টি এজিং: এই ধরনের বডি লোশন এবং বডি বাটারগুলো ত্বকে বয়সের ছাপ, ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। এগুলো হাত পায়ের চামড়া কুচকে যাওয়া থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। ফলে ত্বক থাকে মসৃণ, কোমল ও কালচেভাব মুক্ত।
- ব্রাইটেনিং: কিছু বডি লোশন এ ব্রাইটেনিং উপাদান থাকে। SPF যুক্ত বডি লোশন এবং বডি বাটারগুলো ত্বকের লাবণ্য ধরে রেখে ত্বকের টোন উজ্জ্বল করে। ট্যানমুক্ত দাগবিহীন ত্বক তাই উজ্জ্বল দেখায়। তবে ক্ষতিকারক উপাদানযুক্ত ব্রাইটেনিং বডি লোশন থেকে দূরে থাকুন।
বডি লোশন ও বডি বাটার কখন ব্যাবহার করতে হবে?
যেকোনো সময়ই আপনি বডি লোশন কিংবা বডি বাটার ব্যাবহার করতে পারেন। তবে গোসলের পরে এবং ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় ব্যাবহার করলে সবথেকে বেশি কার্যকরী ফলাফল পাওয়া যায়। বডি লোশন হোক কিংবা বডি বাটার কোনোটাই ত্বকে ধুলাবালি, ঘাম এবং ময়লা থাকা অবস্থায় লাগাবেন না। এতে ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র আটকে যেতে পারে। বডি লোশন যেহেতু একটু হালকা ঘনত্বের তাই দিনের বেলা SPF যুক্ত বডি লোশন ব্যাবহার করা উত্তম। বডি বাটার একটু বেশি ঘন হয়ে থাকে বলে এই পণ্য রাতে ঘুমানোর আগে ব্যাবহার করাই ভালো।
বডি লোশন ও বডি বাটার কেনো ব্যাবহার করবেন?
- ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখতে;
- হাত ও পায়ের কুচকে যাওয়া রোধ করতে;
- ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে;
- তারুণ্য ধরে রাখতে;
- শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলোকে কালচেভাব, সানবার্ন ও ট্যানিং থেকে রক্ষা করে;
- ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে ;
- ত্বকের আর্দ্রতা ভেতরে লক করে রাখে যাতে ত্বক শুষ্ক না হতে পারে;
বডি লোশন ও বডি বাটার কেনার সময় কি কি বিষয় মাথায় রাখবেন?
- ভালোমানের ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নিন;
- কমদামী ও নকল পণ্য এড়িয়ে চলুন;
- কেনার আগে ত্বকের কোনো অল্প জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নিন;
- আসল পণ্য কিনা তা QR কোড থেকে যাচাই করতে ভুলবেন না;
চলুন একনজরে দেখে নেই বাংলাদেশে বহুল ব্যাবহৃত ও জনপ্রিয় বডি লোশন ও বডি বাটারগুলো-